ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
সব দোষ একজনের ওপর চাপিয়ে দায় এড়ানো যাবে না: ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে নঈম নিজাম
ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, বাড়ছে সরকারের ঋণনির্ভরতা
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের জানাজায় সাধারণ মানুষের ঢল
গা ঢাকা দিয়েছেন ইউনূসের উপদেষ্টারা: কেউ বিদেশে, কেউ মবের ভয়ে ‘ঠিকানাহীন’
তিন সরকার আমলে মাঠে থেকেও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি অধরা: ব্যারাকে কি আদৌ ফিরছে সেনাবাহিনী, উদ্বেগ যাচ্ছে না
ঐতিহাসিক দীর্ঘ মোতায়েনের অবসান
প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ মাঠ মোতায়েনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে শেখ হাসিনা সরকারে নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মাঠে নেমেছিলেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় মাঠে ছিলেন তাঁরা। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন তাঁরা ব্যারাকে ফিরে যাবেন।
গত ৬ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে থাকা সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবার কথা ছিল। দূরবর্তী জেলা থেকে প্রথমে প্রত্যাহার হবে, পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ
সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিদ্ধান্তের ইতিহাস: তিন দফায় প্রতিশ্রুতি সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরার প্রতিশ্রুতি একদিনে আসেনি। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই বলেছিলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। এরপর গত বছর নভেম্বর থেকে কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্বাচন ঘিরে সেনাসদস্যরা মাঠেই ছিলেন। নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ‘সিএএস দরবারে’ সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। কোর
কমিটির বৈঠক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর কোর কমিটি প্রথম সভায় বসে। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একই দায়িত্ব পালনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর
সদস্যরাও নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাবেন। দুই বছরে কি উন্নতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলার? এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া সেনা মোতায়েন তিনটি সরকারের আমল পার করেছে — শেখ হাসিনার শেষ সময়, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার। অথচ আইনশৃঙ্খলার চিত্র বদলায়নি। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব সহিংসতা, থানা লুট ও বিচারবহির্ভূত হামলায় পুলিশ বাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রাখা
যাবে না এবং ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সামনের চ্যালেঞ্জ: পুলিশ কি প্রস্তুত? সেনাবাহিনী মাঠ ছাড়লে পুলিশকেই পুরো দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — যে পুলিশ বাহিনী গত দুই বছরে নিজেই সংকটের মধ্যে ছিল, হাজারো মামলার বোঝা বহন করছে, এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে — তারা কি এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম? নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।” সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা থাকলেও বাস্তবতা হলো, সামরিক বাহিনী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি
কেবল পুলিশ সংস্কার, বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই অর্জন করা যাবে।
সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিদ্ধান্তের ইতিহাস: তিন দফায় প্রতিশ্রুতি সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরার প্রতিশ্রুতি একদিনে আসেনি। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই বলেছিলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। এরপর গত বছর নভেম্বর থেকে কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্বাচন ঘিরে সেনাসদস্যরা মাঠেই ছিলেন। নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ‘সিএএস দরবারে’ সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। কোর
কমিটির বৈঠক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর কোর কমিটি প্রথম সভায় বসে। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একই দায়িত্ব পালনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর
সদস্যরাও নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাবেন। দুই বছরে কি উন্নতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলার? এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া সেনা মোতায়েন তিনটি সরকারের আমল পার করেছে — শেখ হাসিনার শেষ সময়, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার। অথচ আইনশৃঙ্খলার চিত্র বদলায়নি। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব সহিংসতা, থানা লুট ও বিচারবহির্ভূত হামলায় পুলিশ বাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রাখা
যাবে না এবং ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সামনের চ্যালেঞ্জ: পুলিশ কি প্রস্তুত? সেনাবাহিনী মাঠ ছাড়লে পুলিশকেই পুরো দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — যে পুলিশ বাহিনী গত দুই বছরে নিজেই সংকটের মধ্যে ছিল, হাজারো মামলার বোঝা বহন করছে, এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে — তারা কি এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম? নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।” সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা থাকলেও বাস্তবতা হলো, সামরিক বাহিনী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি
কেবল পুলিশ সংস্কার, বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই অর্জন করা যাবে।



