কারিনা কায়সার থেকে হাজারো শিশুমৃত্যু: নির্বাচিত নীরবতা আর জুলাইপন্থীদের পক্ষাপাতিত্ব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ মে, ২০২৬

কারিনা কায়সার থেকে হাজারো শিশুমৃত্যু: নির্বাচিত নীরবতা আর জুলাইপন্থীদের পক্ষাপাতিত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ মে, ২০২৬ |
গত চার মাসে সারাদেশে ১১৪২ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। হামের প্রকোপে সহস্রাধিক শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, আরও ৫০ হাজার শিশু আক্রান্ত হয়ে চরম যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে। হাজারো সাধারণ মানুষ—গ্রামের কৃষক, শহরের শ্রমিক, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান—অস্বাভাবিকভাবে মারা যাচ্ছে। অথচ সংসদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, কোনো শোকসভা নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই। বিএনপি সহ জামায়াত, শিবির, এবি পার্টি সহ যেসব দল সাধারণত সব ইস্যুতে সোচ্চার থাকে, তারাও এই বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর সামনে নীরব। কিন্তু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার কারিনা কায়সার মারা যাওয়ায় চিত্রটা পুরোপুরি উল্টে গেছে। দলবেঁধে শোক প্রকাশ, ফেসবুক-টুইটার ভরে গেছে কালো

ফ্রেমের ছবিতে, শ্রদ্ধা জানানোর হিড়িক পড়েছে। কেন? কারণ কারিনা জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেন। তিনি জুলাইপন্থীদের পক্ষের মানুষ ছিলেন। তাই তার মৃত্যুতে “মানবতা” হঠাৎ জেগে উঠেছে। এটা কোন ধরনের রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি? এটা কোন ধরনের নৈতিকতা? যে শিশুরা হামে মারা যাচ্ছে, যাদের লাশ গ্রামের মাটিতে চাপা পড়ছে, তারা কি জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিল না বলে তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় না? যে ১১৪২ জন সাধারণ মানুষ খুন হয়েছে, তারা কি জুলাইপন্থী শিবিরের বাইরের মানুষ বলে তাদের রক্তের কোনো মূল্য নেই? একজন ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যুতে যদি এতো বড় শোকের প্রদর্শনী হয়, তাহলে হাজারো অজানা শিশু ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে এই পক্ষপাতমূলক নীরবতা

কেন? এই নির্বাচিত শোক আসলে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। যারা ক্ষমতায় আছেন বা ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি, তাদের দলের লোক মারা গেলে শোকের বন্যা বয়ে যায়। আর যারা সুবিধাবঞ্চিত, যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, যারা শুধু সাধারণ নাগরিক—তাদের মৃত্যু যেন কোনো ঘটনাই নয়। এটা শুধু নৈতিক অন্ধত্ব নয়, এটা চরম মানবতাবিরোধী আচরণ। রাজনৈতিক দলগুলোর এই স্বজনপ্রীতি দেশের জন্য ভয়ংকর। যখন মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়, তখনও যদি সংসদে কোনো আলোচনা না হয়, যদি কোনো দল একটা বিবৃতিও না দেয়, তাহলে বুঝতে হবে—তারা জনগণের সেবক নয়, তারা নিজেদের গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী। জুলাই আন্দোলন যদি সত্যিকারের পরিবর্তনের প্রতীক হয়, তাহলে সেই আন্দোলনের সমর্থকদেরও

এখন প্রশ্ন করতে হবে: তোমাদের মানবতা কি শুধু নিজেদের লোকের জন্য? সাধারণ শিশুর জীবন কি তোমাদের কাছে কম মূল্যবান? এই ধরনের দ্বিচারিতা সমাজকে বিষাক্ত করে। এতে করে সাধারণ মানুষের মনে ঘৃণা ও বিদ্বেষ বাড়ে। যারা আজ জুলাইয়ের নামে শোক প্রকাশ করছে, তারা যদি হাজারো অজানা শিশুর মৃত্যুতে চুপ থাকে, তাহলে তাদের “আন্দোলনের চেতনা” কথার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছু নয়। দেশের প্রতিটি মৃত্যু জাতীয় দুর্যোগ হওয়া উচিত। প্রতিটি শিশুর মৃত্যুতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই হৃদয় ব্যাথিত হওয়া উচিত। যতদিন না রাজনীতিবিদরা এই স্বজনপ্রীতি ছেড়ে সকল মানুষের জীবনকে সমান মূল্য দিতে শিখবেন, ততদিন এই দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র, মানবতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে

না। এই নীরবতা শুধু লজ্জার নয়। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক অপরাধ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী? পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা শরীয়তপুরে ছেলে ছাত্রলীগ করায় পিতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ মিরপুরে শাহ আলী মাজারে জঙ্গি হামলা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জামায়াতের তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, একাধিক শিক্ষার্থী আহত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু নব্বইয়ে পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ এবং সংকটে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল : নঈম নিজাম বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে? পাকিস্তানে দুই গোত্রে বিয়ে নিয়ে সহিংসতা থেকে গোলাগুলি, পুড়ল শতাধিক বাড়িঘর কন্যা একবার ফিরেছিলেন। বাংলাদেশের আবার তাঁকে দরকার কারিনা কায়সার থেকে হাজারো শিশুমৃত্যু: নির্বাচিত নীরবতা আর জুলাইপন্থীদের পক্ষাপাতিত্ব সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল এবার ‘আমার টাকায়’ উচ্চমূলে বিদ্যুৎ কিনতে হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে যখন বাড়ির দেয়াল নিজেই একটা ভূগোলের বই হয়ে ওঠে! হরমুজের গভীরে নতুন শক্তিতে নজর ইরানের, নিয়ন্ত্রণে থাকবে পুরো দুনিয়া অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার ১২টা বাজিয়ে গেছে: আবদুস সালাম ইসরাইলি হামলায় লেবাননের দৈনিক ক্ষতি ৩০ মিলিয়ন ডলার ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে যেতে যে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন