ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিদ্যুতের সাশ্রয়ী স্ল্যাব থাকছে না, কিনতে হবে উচ্চমূল্যে
নিম্ন আয়ের ঘরের মানুষের জন্য বিদ্যুৎ বিল সাধ্যের মধ্যে রাখতে প্রথম ৭৫ ইউনিটের একটি বিশেষ স্ল্যাব চালু করা হয়েছিল। এটি ছিল সামাজিক সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা, যাতে শুধু আলো-পাখা চালিয়ে চলা দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত চাপে না পড়ে এবং হ্রাসকৃত মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যাবহার করতে পারে।
কিন্তু সরকার গঠনের ৩ মাসের মাথায় সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করে নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকারি ভাতা দেয়ার বিপরীতে স্বাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যাবহার সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে।
পূর্বের ট্যারিফ অনুসারে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য:
প্রথম ৭৫ ইউনিট (প্রথম স্ল্যাব): প্রতি ইউনিট ৫.২৬ টাকা (কিছু ক্ষেত্রে লাইফলাইন ০-৫০ ইউনিটে ৪.৬৩ টাকা)। ৭৫ ইউনিটের বিল প্রায় ৩৯৪.৫০
টাকা হয়। ৭৬-২০০ ইউনিট (দ্বিতীয় স্ল্যাব): প্রতি ইউনিট ৭.২০ টাকা। পরবর্তী স্ল্যাবগুলোতে দাম আরও বেড়ে যেত — ২০১-৩০০ ইউনিটে ৭.৫৯ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিটে ৮.০২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিটে ১২.৬৭ টাকা এবং ৬০১ ইউনিটের উপরে ১৪.৬১ টাকা পর্যন্ত। এই স্ল্যাব ব্যবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা বিশেষ করে ২/১ টি বাতি আর ১টি ফ্যান ব্যাবহার করে থাকে তারা প্রথম স্তরে সস্তায় বিদ্যুৎ পেতেন, যা তাদের মাসিক বাজেটকে অনেকটা সহনীয় রাখত। কিন্তু এখন পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) নতুন মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। প্রস্তাব অনুসারে প্রথম ৭৫ ইউনিটের সস্তা স্ল্যাব আর থাকছে না। শুরুর ইউনিট থেকেই দাম ধরা হবে ৮
টাকা ২০ পয়সা। ফলে ৭৫ ইউনিটের বিলই লাফিয়ে বেড়ে যাবে অনেকখানি। উদাহরণস্বরূপ, খুবই কম বিদ্যুৎ খরচ করা সুবিধাবঞ্চিত শ্রেনী, যেখানে ৭৫ ইউনিট ব্যাবহারের জন্য আগে মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতো ২০০-৩০০ টাকা, তাদের এখন মাসে গুনতে হবে ৬০০ টাকার অধিক বিদ্যুত বিল। শুধু বিদ্যুৎ খরচই একটি পরিবারের বেড়ে যাবে প্রায় দ্বিগুন। আনার ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিল বর্তমানের প্রায় ১২৯৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৪০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে — মাসিক অতিরিক্ত ব্যয় ৩৪৫ টাকা বা তার চেয়েও বেশি। ফ্যামিলি কার্ডে হাতে গোনা কিছু পরিবারকে ২,৫০০ টাকা মাসিক সুবিধা দিয়ে, ৩৪৫ টাকা অতিরিক্ত আদায় করে নিচ্ছে রাষ্ট্র, শুধু বিদ্যুৎসেবা’র মাধ্যমে। এছাড়াও আরো বর্ধিত খরচ
আর মূল্যস্ফীতি তো রয়েছেই। এছাড়া প্রস্তাবে রয়েছে প্রতি ৬ মাস অন্তর স্বয়ংক্রিয় মূল্য বৃদ্ধি — অর্থাৎ বছরে দু’বার অটোমেটিক বিল বাড়বে। এটি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করবে। বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্যের সিদ্ধান্ত নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি অবিচার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রথম ৭৫ ইউনিটের সুরক্ষা ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করার একটি পদক্ষেপ। সেই সুরক্ষা তুলে নিয়ে শুরুতেই ৮.২০ টাকা ধরা এবং পরপর স্বয়ংক্রিয় বৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাঁধে অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অদক্ষতা, অপচয় ও অপরিকল্পিত চুক্তির খেসারত এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। যাদের আয়ের বড় অংশ চলে যায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে, তাদের জন্য বিদ্যুৎ বিলের
এই লাফিয়ে ওঠা শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং জীবনযাত্রার মান নামিয়ে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ। নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের উচিত প্রথম ৭৫-১০০ ইউনিটের সস্তা স্ল্যাব বজায় রাখা এবং মূল্য বৃদ্ধির পরিবর্তে সেক্টরের অভ্যন্তরীণ অদক্ষতা কমানো। অন্যথায় এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলবে।
টাকা হয়। ৭৬-২০০ ইউনিট (দ্বিতীয় স্ল্যাব): প্রতি ইউনিট ৭.২০ টাকা। পরবর্তী স্ল্যাবগুলোতে দাম আরও বেড়ে যেত — ২০১-৩০০ ইউনিটে ৭.৫৯ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিটে ৮.০২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিটে ১২.৬৭ টাকা এবং ৬০১ ইউনিটের উপরে ১৪.৬১ টাকা পর্যন্ত। এই স্ল্যাব ব্যবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা বিশেষ করে ২/১ টি বাতি আর ১টি ফ্যান ব্যাবহার করে থাকে তারা প্রথম স্তরে সস্তায় বিদ্যুৎ পেতেন, যা তাদের মাসিক বাজেটকে অনেকটা সহনীয় রাখত। কিন্তু এখন পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) নতুন মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। প্রস্তাব অনুসারে প্রথম ৭৫ ইউনিটের সস্তা স্ল্যাব আর থাকছে না। শুরুর ইউনিট থেকেই দাম ধরা হবে ৮
টাকা ২০ পয়সা। ফলে ৭৫ ইউনিটের বিলই লাফিয়ে বেড়ে যাবে অনেকখানি। উদাহরণস্বরূপ, খুবই কম বিদ্যুৎ খরচ করা সুবিধাবঞ্চিত শ্রেনী, যেখানে ৭৫ ইউনিট ব্যাবহারের জন্য আগে মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতো ২০০-৩০০ টাকা, তাদের এখন মাসে গুনতে হবে ৬০০ টাকার অধিক বিদ্যুত বিল। শুধু বিদ্যুৎ খরচই একটি পরিবারের বেড়ে যাবে প্রায় দ্বিগুন। আনার ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিল বর্তমানের প্রায় ১২৯৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৪০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে — মাসিক অতিরিক্ত ব্যয় ৩৪৫ টাকা বা তার চেয়েও বেশি। ফ্যামিলি কার্ডে হাতে গোনা কিছু পরিবারকে ২,৫০০ টাকা মাসিক সুবিধা দিয়ে, ৩৪৫ টাকা অতিরিক্ত আদায় করে নিচ্ছে রাষ্ট্র, শুধু বিদ্যুৎসেবা’র মাধ্যমে। এছাড়াও আরো বর্ধিত খরচ
আর মূল্যস্ফীতি তো রয়েছেই। এছাড়া প্রস্তাবে রয়েছে প্রতি ৬ মাস অন্তর স্বয়ংক্রিয় মূল্য বৃদ্ধি — অর্থাৎ বছরে দু’বার অটোমেটিক বিল বাড়বে। এটি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করবে। বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্যের সিদ্ধান্ত নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি অবিচার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রথম ৭৫ ইউনিটের সুরক্ষা ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করার একটি পদক্ষেপ। সেই সুরক্ষা তুলে নিয়ে শুরুতেই ৮.২০ টাকা ধরা এবং পরপর স্বয়ংক্রিয় বৃদ্ধি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাঁধে অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অদক্ষতা, অপচয় ও অপরিকল্পিত চুক্তির খেসারত এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। যাদের আয়ের বড় অংশ চলে যায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে, তাদের জন্য বিদ্যুৎ বিলের
এই লাফিয়ে ওঠা শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং জীবনযাত্রার মান নামিয়ে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ। নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের উচিত প্রথম ৭৫-১০০ ইউনিটের সস্তা স্ল্যাব বজায় রাখা এবং মূল্য বৃদ্ধির পরিবর্তে সেক্টরের অভ্যন্তরীণ অদক্ষতা কমানো। অন্যথায় এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলবে।



