মাংস আমদানিতে মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মানতে হবে মার্কিন তরিকা: হারাম-হালাল যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

মাংস আমদানিতে মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মানতে হবে মার্কিন তরিকা: হারাম-হালাল যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে পোল্ট্রি পণ্য, মাংস, ডেইরি ও অন্যান্য প্রাণীজাত খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হবে। কিন্তু এসব পণ্যের হালাল সংজ্ঞা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌম কোন এখতিয়ার না থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুসারে, বাংলাদেশকে USDA (United States Department of Agriculture) এবং FSIS (Food Safety and Inspection Service)-এর সার্টিফিকেট ও পরিদর্শনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব ল্যাবরেটরি টেস্টিংয়ের অধিকার সীমিত থাকবে। যদি হালাল সার্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়, তাহলে মার্কিন হালাল সার্টিফায়ারদের (যারা মার্কিন মানদণ্ড পূরণ করে) সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে, বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা BSTI-এর অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা যাবে না। বাংলাদেশের প্রচলিত হালাল সংজ্ঞা বনাম মার্কিন

হালাল সংজ্ঞা বাংলাদেশে হালাল বলতে সাধারণত ইসলামিক শরিয়াহ-এর কঠোর নিয়ম বোঝানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো: জবাইকারী অবশ্যই মুসলমান হতে হবে আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করতে হবে পশুকে পূর্ণ সচেতন অবস্থায় (স্টানিং ছাড়া) জবাই করতে হবে রক্ত সম্পূর্ণ বের করে ফেলতে হবে ক্রস-কনট্যামিনেশন এড়াতে পুরো প্রক্রিয়া শরিয়াহ অনুসারে হতে হবে অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হালাল সার্টিফিকেশন বিভিন্ন বেসরকারি হালাল সংস্থা (যেমন IFANCA, HFSAA ইত্যাদি) দিয়ে হয়। এখানে অনেক ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল স্লটার ইলেক্ট্রিক মেশিন/করাত দিয়ে জবাই অনুমোদিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্টানিং বা অজ্ঞান করে প্রাণী জবাই করা হয়। জবাইকারী মুসলমান না হলেও তত্ত্বাবধানে থাকলে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। সেই তত্ত্বাবধান আবার বেশ অনেকটা দূর থেকে করতে হয়, যেখান

থেকে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রাণী জবাই করা হলো কিনা, সেটা বোঝার কোন উপায় থাকে না। মার্কিন হালাল সংজ্ঞায় মূলত USDA-এর ফুড সেফটি ও হাইজিনের ওপর বেশী নজর দেয়া হয়, যাতে ধর্মীয় অনুশাসনের চেয়ে বাণিজ্যিক সুবিধার দিকটা বেশি। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেকানিক্যাল স্লটার বা স্টানিং করা মাংসকে পূর্ণাঙ্গ হালাল বলে মনে করেন না। এছাড়া ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত মাংসও হালাল বলে বিবেচিত হয় না। গুড মিটের তিনজন শরিয়া বিশেষজ্ঞের মতে, ল্যাবে তৈরি মাংস মূলত মাংসের কোষ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এই কোষগুলো যদি ইসলামিক আইন অনুসারে জবাই করা পশু থেকে সংগ্রহ করা হয়; তাহলে এই কোষ থেকে তৈরি মাংস হালাল হবে। ফলে মার্কিন সংজ্ঞায়িত “হালাল” পণ্য

বাংলাদেশের মুসলমানের কাছে ধর্মীয়ভাবে সন্দেহজনক বা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে। ৯২% মুসলমানের ধর্মভ্রষ্টতার ঝুঁকি বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯১-৯২% মুসলমান, সংখ্যার হিসাব অনুসারে প্রায় ১৫ থেক ১৬ কোটি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি বাজারে মার্কিন “হালাল” লেবেলযুক্ত পোল্ট্রি ও মাংস ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে এবং স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকে, তাহলে অনেক মুসলমান অনিচ্ছাকৃতভাবে শরিয়াহ অনুসারে সন্দেহজনক খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘাত ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে এই ক্ষেত্রে। ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে “ধর্মভ্রষ্টতা” বা “ইমানের ক্ষতি”র আশঙ্কা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অসহায় জিম্মি বাংলাদেশ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশকে জ্বালানি, খাদ্য ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তুলছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকারের হাতে মার্কিন পণ্যের ল্যাব টেস্ট ও হালাল যাচাইয়ের পূর্ণ এখতিয়ার না থাকায় দেশের ৯২% মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একদিকে বাণিজ্যিক সুবিধা, অন্যদিকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার মধ্যে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন — বাণিজ্য চুক্তির নামে কি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের বিনিময় হচ্ছে? সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রবাসীর স্ত্রীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র গুলিস্তান ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ লাশ: আনোয়ারায় গৃহবধূ ও জেলের রহস্যজনক মৃত্যু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ‘১০ ঘণ্টার অপেক্ষাও কিছু নয়’, খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল