ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল
বিদ্যুৎ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ – বিএনপি সরকার ঘুমে
মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক
ফারুকীর নাশতায় প্রতিদিন খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা”
গণঅভ্যুত্থান নয়, ৫ আগস্ট ছিল সুপরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’: পুরো সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য
আওয়ামী লীগ সরকার পতন: ইউএসএইডের ২৯ মিলিয়ন ডলারের একাংশ পেয়েছিল সমকাল, বিটনিক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট
যতদিন বেঁচে থাকবেন, একা হাঁটতে পারবেন না’— ড. ইউনূসকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের কড়া হুঁশিয়ারি
ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, একটি ঘটনারও বিচার হয়নি
ছয়জন শিক্ষক মারা গেছেন। মরার আগে তারা কেউ হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন, কেউ নিজের বাড়িতে। কিন্তু সবার মৃত্যুর গল্পটা একই জায়গায় গিয়ে ঠেকে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে যে অপমান, যে ভয়, যে একাকীত্ব তাদের গ্রাস করেছিল, সেখানে।
ফেনীর সাউথ ইস্ট কলেজের অধ্যক্ষ পরমেশ চন্দ্র হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। ঢাকার দোহারের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক মারা গেছেন ধানমণ্ডির হাসপাতালে। চট্টগ্রামের হাজেরা তজু কলেজের উপাধ্যক্ষ আইয়ুব মারা গেছেন। এরা সবাই আগে একটা ঘটনার শিকার হয়েছিলেন, ক্যাম্পাসে দল বেঁধে এসে তাদের জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছিল, তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, অপদস্থ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তারা আর মাথা তুলতে পারেননি।
হবিগঞ্জের প্রধান
শিক্ষক রেজাউল করিম নিজের চেয়ারে বসেই অচেতন হয়ে পড়েছিলেন, যখন দশ-পনেরোজন বহিরাগত তার ঘরে ঢুকে চিৎকার করছিল। মবের নেতা সেটা ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যটা পুরো সময়কালের একটা নিখুঁত প্রতীক। একজন শিক্ষক স্ট্রোক করে পড়ে আছেন, আর যে তাকে এই অবস্থায় নামিয়েছে সে লাইভে আসছে, দর্শক জোটাচ্ছে। কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিকের বাড়িতে ইট ছোড়া হয়েছিল। তিনি পরিবার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে স্ট্রোক করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছিল, ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা হয়েছিল। পরে তদন্ত কমিটি একটা অভিযোগেরও সত্যতা পায়নি। কিন্তু ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা
ঘটেছে, পাঁচশোরও বেশি শিক্ষক আহত বা অসুস্থ। এই সংখ্যাগুলো ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া স্মারকলিপির তথ্য। মানে ঘটনাগুলো ঘটেছে, নথিভুক্ত হয়েছে, সরকারের কাছে পৌঁছেছে। তারপরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইউনুস সরকারের সময়কার এই ঘটনাগুলোর একটা চরিত্র ছিল। যারা মব করতে এসেছিল তারা অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল-কলেজের ভেতরকার কিছু শিক্ষকের সাথে যোগসাজশ করে এসেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামায়াতের সমর্থকরা ছিল, কোথাও ছিল পুরনো প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের সুযোগ নেওয়া মানুষ। এই মিশ্রণটাই বলছে যে ঘটনাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না, পরিকল্পিত ছিল। আর রাষ্ট্র কী করেছে? শরীয়তপুরের ঘটনায় উপজেলা কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে "সমঝোতা" করিয়ে দিয়েছেন। যে শিক্ষক স্ট্রোক করেছেন তাকে বসানো হয়েছে একই টেবিলে যে দল
তাকে আক্রমণ করেছিল তাদের সাথে, মীমাংসার নামে। এই সমঝোতাটাই আসলে পুরো ব্যর্থতার সারসংক্ষেপ। যেখানে বিচার হওয়ার কথা, সেখানে সমঝোতা হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রের সুরক্ষা দেওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্র চুপ ছিল অথবা প্রহসনের মধ্যস্থতা করেছে। শিক্ষকরা বেতন পাননি, পদ ফিরে পাননি, মামলায় জড়িয়েছেন। এবং মরেছেন। এখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন এই হিসাব করা হচ্ছে, তখন বোঝা যাচ্ছে ওই সময়টা কতটা ভয়াবহ ছিল। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের উত্তেজনায় না, বরং যারা কখনো রাজনীতি করেননি, যারা শুধু ক্লাস নিতেন, পরীক্ষার খাতা দেখতেন, তাদের জন্যও।
শিক্ষক রেজাউল করিম নিজের চেয়ারে বসেই অচেতন হয়ে পড়েছিলেন, যখন দশ-পনেরোজন বহিরাগত তার ঘরে ঢুকে চিৎকার করছিল। মবের নেতা সেটা ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যটা পুরো সময়কালের একটা নিখুঁত প্রতীক। একজন শিক্ষক স্ট্রোক করে পড়ে আছেন, আর যে তাকে এই অবস্থায় নামিয়েছে সে লাইভে আসছে, দর্শক জোটাচ্ছে। কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিকের বাড়িতে ইট ছোড়া হয়েছিল। তিনি পরিবার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে স্ট্রোক করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছিল, ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা হয়েছিল। পরে তদন্ত কমিটি একটা অভিযোগেরও সত্যতা পায়নি। কিন্তু ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা
ঘটেছে, পাঁচশোরও বেশি শিক্ষক আহত বা অসুস্থ। এই সংখ্যাগুলো ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া স্মারকলিপির তথ্য। মানে ঘটনাগুলো ঘটেছে, নথিভুক্ত হয়েছে, সরকারের কাছে পৌঁছেছে। তারপরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইউনুস সরকারের সময়কার এই ঘটনাগুলোর একটা চরিত্র ছিল। যারা মব করতে এসেছিল তারা অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল-কলেজের ভেতরকার কিছু শিক্ষকের সাথে যোগসাজশ করে এসেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামায়াতের সমর্থকরা ছিল, কোথাও ছিল পুরনো প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের সুযোগ নেওয়া মানুষ। এই মিশ্রণটাই বলছে যে ঘটনাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না, পরিকল্পিত ছিল। আর রাষ্ট্র কী করেছে? শরীয়তপুরের ঘটনায় উপজেলা কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে "সমঝোতা" করিয়ে দিয়েছেন। যে শিক্ষক স্ট্রোক করেছেন তাকে বসানো হয়েছে একই টেবিলে যে দল
তাকে আক্রমণ করেছিল তাদের সাথে, মীমাংসার নামে। এই সমঝোতাটাই আসলে পুরো ব্যর্থতার সারসংক্ষেপ। যেখানে বিচার হওয়ার কথা, সেখানে সমঝোতা হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রের সুরক্ষা দেওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্র চুপ ছিল অথবা প্রহসনের মধ্যস্থতা করেছে। শিক্ষকরা বেতন পাননি, পদ ফিরে পাননি, মামলায় জড়িয়েছেন। এবং মরেছেন। এখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন এই হিসাব করা হচ্ছে, তখন বোঝা যাচ্ছে ওই সময়টা কতটা ভয়াবহ ছিল। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের উত্তেজনায় না, বরং যারা কখনো রাজনীতি করেননি, যারা শুধু ক্লাস নিতেন, পরীক্ষার খাতা দেখতেন, তাদের জন্যও।



