ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল
বিদ্যুৎ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ – বিএনপি সরকার ঘুমে
ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, একটি ঘটনারও বিচার হয়নি
মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক
ফারুকীর নাশতায় প্রতিদিন খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা”
আওয়ামী লীগ সরকার পতন: ইউএসএইডের ২৯ মিলিয়ন ডলারের একাংশ পেয়েছিল সমকাল, বিটনিক ও দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট
যতদিন বেঁচে থাকবেন, একা হাঁটতে পারবেন না’— ড. ইউনূসকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের কড়া হুঁশিয়ারি
গণঅভ্যুত্থান নয়, ৫ আগস্ট ছিল সুপরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’: পুরো সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তুমুল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনাটিকে দেশের মানুষ
'গণঅভ্যুত্থান' হিসেবে জানলেও, ভারতের প্রবীণ ও অনুসন্ধানী
সাংবাদিক চন্দন নন্দী একে নিছক গণঅভ্যুত্থান মানতে নারাজ। তাঁর মতে, এটি ছিল
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ফসল, আর এই ‘রেজিম চেঞ্জ’
বা সরকার পরিবর্তনের মূল রূপকার ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ আট পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন 'দ্য
বাংলাদেশ এক্সপোজড: দ্য রেজিম চেঞ্জ কন্সপিরেসি' প্রকাশ করে আলোড়ন তুলেছেন
চন্দন নন্দী ও সাংবাদিক এনায়েত কবীর। এরই প্রেক্ষিতে একটি একটি ইউটিউব চ্যানেলে "পালস অব পলিটিক্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শারমিন
চৌধুরীর মুখোমুখি হন চন্দন নন্দী। পাঠকদের জন্য সেই পুরো সাক্ষাৎকারের
সহজবোধ্য ও পরিমার্জিত রূপ তুলে ধরা হলো:
শারমিন চৌধুরী:
আপনাদের নর্থইস্ট নিউজের আট পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ৫ আগস্টের ঘটনাকে গণঅভ্যুত্থান না বলে 'রেজিম চেঞ্জ' (সরকার বদলের ষড়যন্ত্র) কেন বলছেন? আপনাদের মূল ফাইন্ডিংস বা তথ্যগুলো কী? চন্দন নন্দী: দেখুন, এই সরকার বদলের বিষয়টা আমি প্রথম টের পাই ৫ আগস্টের ঠিক পরপরই, ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর পুরো ২০২৪ ও ২০২৫ সালজুড়ে দিল্লিতে বসে নানান মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি নিশ্চিত হই যে, এটি আসলেই একটি ‘রেজিম চেঞ্জ’ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংস্থা—আইআরআই এবং এনডিআই কীভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কাজ করছিল, তা থেকেই আমরা প্রথম ইঙ্গিত পাই। এরপর এই ঘটনার পেছনের সূত্র মেলাতে আমি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এনায়েত কবীর আড়াই মাস ধরে ব্রেইনস্টর্ম করে পুরো চিত্রটি বের করে আনি। শারমিন চৌধুরী: আপনাদের
অনুসন্ধান অনুযায়ী এই ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল? চন্দন নন্দী: আমাদের পরিষ্কার ফাইন্ডিংস হলো—এই সরকার বদলের প্রক্রিয়াটি ২০২৪ সালের অনেক আগেই, অর্থাৎ ২০২১ সালের শেষের দিক থেকেই শুরু হয়েছিল। আর এর পেছনের মূল তিনটি পক্ষ হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শারমিন চৌধুরী: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী—এই তিন পক্ষের কথা কেন বলছেন? চন্দন নন্দী: যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—এই দুই রাষ্ট্রের হয়ে সরকার বদলের মূল কাজটি ঘটিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর মাঠে শিক্ষার্থীদের যে কোটা আন্দোলন ছিল, সেটা ছিল কেবল একটা 'ফাসাদ' বা দৃশ্যমান আবরণ, যা শুধু শেষ কয়েকদিনের জন্য কাজ করেছে। আমি প্রথম এর প্রমাণ পাই যখন দেখি ২০২৩ সালের ৭ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা
দেন এবং তাঁর জায়গায় নূরজাহান বেগমসহ ( স্বাস্থ্য উপদেষ্টা) তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এত বড় একটা ঘটনা ভারতের নাকের ডগায় ঘটে গেল, অথচ ভারত কিছুই টের পেল না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শারমিন চৌধুরী: আমরা তো বরাবরই মার্কিন হস্তক্ষেপের কথা শুনে আসছি, কিন্তু এখানে ভারতের জড়িত থাকার কথা বলছেন! ভারত কেন এই সরকার বদলের প্রক্রিয়ায় গেল? তারা তো চাইলে ২৪-এর নির্বাচনটাই আটকে দিতে পারত। চন্দন নন্দী: যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, কিন্তু শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে নিজের মতো করে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর (অ্যাডাম্যান্ট) ছিলেন। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র এক হওয়ার মূল কারণ হলো 'চীন ফ্যাক্টর'। ২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনার চীন সফর পুরোপুরি ব্যর্থ (ফিয়াসকো) হয়। তিনি চীনের দিকে এতটাই ঝুঁকেছিলেন যে, তাঁর
অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছিল 'ধোবি কা কুত্তা, না ঘর কা, না ঘাট কা'-এর মতো। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে যে 'টু প্লাস টু' বৈঠক হয়, সেখান থেকেই মূলত ভারতের যুক্ত হওয়ার শুরু। কারণ, ওই সরকারের টিকে থাকাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—কারও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ছিল না। শারমিন চৌধুরী: তাহলে ২৪-এর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বলতেন, "দিল্লি আছে, আমরা আছি"—আসলে তলে তলে ভারত সেই ভূমিকায় ছিল না? চন্দন নন্দী: ৫ আগস্ট এত বড় পতনের পর ভারতের সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকাটাই কি এর প্রমাণ নয়? আওয়ামী লীগ ভারতের স্বার্থ হয়তো দেখছিল, কিন্তু সেটা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছিল না। ভারতকে সঙ্গে না নিলে
এই অপারেশন সফল করা কঠিন হতো। শারমিন চৌধুরী: সেনাবাহিনী কীভাবে এই অপারেশনে যুক্ত হলো? তারা কখন থেকে সংশ্লিষ্ট হলো? চন্দন নন্দী: সরকারকে সমর্থন না দেওয়া এবং পক্ষ বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি মূলত আগস্টের শেষ ৫ দিনে নেওয়া হয়। সাংবাদিক এনায়েত কবীর বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, ৪ আগস্ট গভীর রাতে টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ জেনারেলরা এই সিদ্ধান্ত নেন। ৫ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণভবনেই যাননি। সেদিন শুধু দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা—এসএসএফ প্রধান মেজর জেনারেল নাজমুল হাসান এবং শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহমেদ শেখ হাসিনাকে হেলিকপ্টারে তুলে দেন। সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার কারণে একটি রক্তপাতহীন পতন সম্ভব হয়েছিল। আর এর মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র 'ডিনায়েবিলিটি' বা দায় এড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়ে যায়, কারণ প্রকাশ্যে
তাদের কোনো হাত দেখা যায়নি। শারমিন চৌধুরী: রক্তপাত এড়ানো বা শেখ হাসিনাকে হত্যা না করা কি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরিকল্পনার অংশ ছিল? চন্দন নন্দী: হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়। লক্ষ্য ছিল সমস্যাটা দূর করা, কাউকে শেষ করে দেওয়া নয়। কারণ, শেখ হাসিনাকে হত্যা করা হলে ভারতকে এর জবাবদিহি করতে হতো। তাঁর জীবন বাঁচানোর মাধ্যমে যেমন দায় এড়ানো গেছে, তেমনি তাঁকে ভারতে একপ্রকার বন্দীর মতো আটকে রেখে 'মাইনাস ওয়ান' করা হয়েছে। এখন তাঁর হাত-পা বাঁধা। তাঁর সঙ্গে এমন সব নেতা আছেন যাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এই দল নিয়ে তিনি চাইলেও দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না। শারমিন চৌধুরী: তাহলে কি তারেক রহমানকেও 'মাইনাস' করার (মাইনাস টু) প্রক্রিয়া এখনো চলছে? চন্দন নন্দী: আমি তো বলব 'মাইনাস টু' ফর্মুলা এখনো চলমান। তারেক রহমান বা অন্তর্বর্তী সরকার কি সত্যিই দেশ ভালোভাবে চালাতে পারছে? জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা যদি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে। এই সরকার পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে যে কাউকেই 'মাইনাস' করা হতে পারে। আমাদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। শারমিন চৌধুরী: সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা তো আওয়ামী লীগের আমলেই পদোন্নতি পেয়েছেন, নানান সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তাহলে তাঁরা কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেলেন? চন্দন নন্দী: এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বড় ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একটা বড় প্রেশার তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীকে অন্যান্য দেশে মিশনে পাঠানোর প্রলোভনও থাকতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কাছে নিজের বাহিনীর ভেতরে বিদ্রোহ সামাল দেওয়ার চেয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বেশি নিরাপদ মনে হয়েছে। তাঁকে হয়তো বোঝানো হয়েছিল যে, এই সরকারের আর জনসমর্থন নেই এবং ভূরাজনৈতিক লক্ষ্যও পূরণ হচ্ছে না, তাই বাধা না দিয়ে সরে দাঁড়ানোই ভালো। শারমিন চৌধুরী: যে স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এই পরিবর্তন আনল, সেটা কি তারা অর্জন করতে পেরেছে? চন্দন নন্দী: এই মুহূর্তের প্রধান ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য হলো চীনকে আটকানো। মিয়ানমারে চীনের সাহায্যে জান্তা সরকার নির্বাচন করে ফেলেছে। অথচ আরাকান আর্মিকে যে সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যু বা মানবিক করিডোর নিয়ে এখন আর কেউ টুঁ শব্দটিও করছে না। রোহিঙ্গাদের হাতে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র এসেছিল, সেটাও এখন বন্ধ। তার মানে চীনকে ঠেকাতে একটা প্রচেষ্টা চলছে। তবে তারা কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। শারমিন চৌধুরী: সরকারের ভেতরের কারা কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে আপনারা জানতে পেরেছেন? চন্দন নন্দী: আমি আগের প্রতিবেদনেও বলেছিলাম এবং এখনো সেই কথায় অটল আছি—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক এবং মোহাম্মদ এ আরাফাত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। দেখুন, অনেক চুনোপুঁটিকে ধরে জেলে পোরা হলেও নাইমুল ইসলাম খানকে কেউ স্পর্শও করেনি! সালমান বা আনিসুল হকের গ্রেপ্তারও ছিল একটা সাজানো নাটক। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো—ডিজিএফআই প্রধান হামিদুল হক, এনএসআই প্রধান টিএম জুবায়ের এবং সামরিক সচিব কবীর আহমেদ খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারলেন, কিন্তু মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান কেন আটকে গেলেন? সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায় তাঁকে পালাতে সাহায্য করেনি। হয়তো তিনি অনেক গোপন ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন। আওয়ামী লীগের ভেতরে এরকম আরও অনেক 'ফিফথ কলামনিস্ট' (ঘরের শত্রু) লুকিয়ে আছে, যা শেখ হাসিনা নিজেও হয়তো জানেন না। শারমিন চৌধুরী: শোনা যাচ্ছে ভারত শেখ হাসিনাকে কাতার যেতে বলছে অথবা 'সংস্কারকৃত আওয়ামী লীগ' গঠনে মত দিতে বলছে। এটা কি সত্যি? চন্দন নন্দী: আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা বিশ্বাস করি না। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দিয়ে দল চালানোর একটা চেষ্টা হতে পারত, কিন্তু তাঁর সেই ক্ষমতা নেই। শেখ হাসিনাকে ছাড়া আওয়ামী লীগ টিকবে না। আর কাতার যাওয়া বা সংস্কারকৃত আওয়ামী লীগের প্রস্তাব দেওয়া হলে শেখ হাসিনা নিজেই তা প্রত্যাখ্যান করবেন। শারমিন চৌধুরী: ভারতের এখনকার অবস্থান কী? তারা কি আওয়ামী লীগের মিত্র নাকি শত্রু? চন্দন নন্দী: মিত্র-শত্রু বলব না। তবে বাংলাদেশের ভেতরে এমনকি বিএনপির মধ্যেও অনেকেই চায় না আওয়ামী লীগ এখন ফিরে আসুক। কারণ, মাঠে এখনো আওয়ামী লীগের শক্ত জনসমর্থন আছে। তবে বর্তমান সরকার যদি রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে জামায়াতে ইসলামী। সেটা মোকাবিলার ক্ষমতা বিএনপির আছে কি না, তা ভাবতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনো যায়নি। তারা কি সামনে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করছে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। শারমিন চৌধুরী: আপনাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসানের দুর্নীতির কথাও উঠে এসেছে। দুদক কি সত্যিই এটা তদন্ত করছে? কার ইশারায় এটা হচ্ছে? চন্দন নন্দী: হ্যাঁ, দুদকে জমা পড়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হচ্ছে। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল ধরে এই অভিযোগগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমি ২০২৬ সালের জানুয়ারির একটি নথিতেও এর প্রমাণ দেখেছি। শুধু নৌবাহিনী প্রধান নন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। কাতার থেকে সুপারমার্কেট কেনা, চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্টে ক্রেন কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য আছে। তবে জুলাই ২০২৬-এ তাঁর অবসরের আগে দুদক প্রমাণসহ তাঁকে শাস্তির আওতায় আনতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। শারমিন চৌধুরী: আপনারা যে ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে এসব প্রতিবেদন করছেন, সেই সোর্স বা সূত্রগুলো আসলে কী? চন্দন নন্দী: সাংবাদিকতায় সোর্স হচ্ছে 'স্যাক্রোস্যাংট' (পবিত্র বা অলঙ্ঘনীয়)। এই সোর্স প্রকাশ করার অধিকার আমার নেই, আর মূল লেখক এনায়েত কবীরেরও সেটা বলা উচিত নয়। তবে আমি এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, নথিগুলো আসলেই আছে এবং এ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক কাজ হবে। শারমিন চৌধুরী: অনেক ধন্যবাদ চন্দন নন্দী, সময় দেওয়ার জন্য। চন্দন নন্দী: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আপনাদের নর্থইস্ট নিউজের আট পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ৫ আগস্টের ঘটনাকে গণঅভ্যুত্থান না বলে 'রেজিম চেঞ্জ' (সরকার বদলের ষড়যন্ত্র) কেন বলছেন? আপনাদের মূল ফাইন্ডিংস বা তথ্যগুলো কী? চন্দন নন্দী: দেখুন, এই সরকার বদলের বিষয়টা আমি প্রথম টের পাই ৫ আগস্টের ঠিক পরপরই, ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর পুরো ২০২৪ ও ২০২৫ সালজুড়ে দিল্লিতে বসে নানান মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি নিশ্চিত হই যে, এটি আসলেই একটি ‘রেজিম চেঞ্জ’ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংস্থা—আইআরআই এবং এনডিআই কীভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কাজ করছিল, তা থেকেই আমরা প্রথম ইঙ্গিত পাই। এরপর এই ঘটনার পেছনের সূত্র মেলাতে আমি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এনায়েত কবীর আড়াই মাস ধরে ব্রেইনস্টর্ম করে পুরো চিত্রটি বের করে আনি। শারমিন চৌধুরী: আপনাদের
অনুসন্ধান অনুযায়ী এই ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল? চন্দন নন্দী: আমাদের পরিষ্কার ফাইন্ডিংস হলো—এই সরকার বদলের প্রক্রিয়াটি ২০২৪ সালের অনেক আগেই, অর্থাৎ ২০২১ সালের শেষের দিক থেকেই শুরু হয়েছিল। আর এর পেছনের মূল তিনটি পক্ষ হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শারমিন চৌধুরী: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী—এই তিন পক্ষের কথা কেন বলছেন? চন্দন নন্দী: যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—এই দুই রাষ্ট্রের হয়ে সরকার বদলের মূল কাজটি ঘটিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর মাঠে শিক্ষার্থীদের যে কোটা আন্দোলন ছিল, সেটা ছিল কেবল একটা 'ফাসাদ' বা দৃশ্যমান আবরণ, যা শুধু শেষ কয়েকদিনের জন্য কাজ করেছে। আমি প্রথম এর প্রমাণ পাই যখন দেখি ২০২৩ সালের ৭ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা
দেন এবং তাঁর জায়গায় নূরজাহান বেগমসহ ( স্বাস্থ্য উপদেষ্টা) তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এত বড় একটা ঘটনা ভারতের নাকের ডগায় ঘটে গেল, অথচ ভারত কিছুই টের পেল না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শারমিন চৌধুরী: আমরা তো বরাবরই মার্কিন হস্তক্ষেপের কথা শুনে আসছি, কিন্তু এখানে ভারতের জড়িত থাকার কথা বলছেন! ভারত কেন এই সরকার বদলের প্রক্রিয়ায় গেল? তারা তো চাইলে ২৪-এর নির্বাচনটাই আটকে দিতে পারত। চন্দন নন্দী: যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, কিন্তু শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে নিজের মতো করে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর (অ্যাডাম্যান্ট) ছিলেন। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র এক হওয়ার মূল কারণ হলো 'চীন ফ্যাক্টর'। ২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনার চীন সফর পুরোপুরি ব্যর্থ (ফিয়াসকো) হয়। তিনি চীনের দিকে এতটাই ঝুঁকেছিলেন যে, তাঁর
অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছিল 'ধোবি কা কুত্তা, না ঘর কা, না ঘাট কা'-এর মতো। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে যে 'টু প্লাস টু' বৈঠক হয়, সেখান থেকেই মূলত ভারতের যুক্ত হওয়ার শুরু। কারণ, ওই সরকারের টিকে থাকাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—কারও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ছিল না। শারমিন চৌধুরী: তাহলে ২৪-এর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বলতেন, "দিল্লি আছে, আমরা আছি"—আসলে তলে তলে ভারত সেই ভূমিকায় ছিল না? চন্দন নন্দী: ৫ আগস্ট এত বড় পতনের পর ভারতের সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকাটাই কি এর প্রমাণ নয়? আওয়ামী লীগ ভারতের স্বার্থ হয়তো দেখছিল, কিন্তু সেটা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছিল না। ভারতকে সঙ্গে না নিলে
এই অপারেশন সফল করা কঠিন হতো। শারমিন চৌধুরী: সেনাবাহিনী কীভাবে এই অপারেশনে যুক্ত হলো? তারা কখন থেকে সংশ্লিষ্ট হলো? চন্দন নন্দী: সরকারকে সমর্থন না দেওয়া এবং পক্ষ বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি মূলত আগস্টের শেষ ৫ দিনে নেওয়া হয়। সাংবাদিক এনায়েত কবীর বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, ৪ আগস্ট গভীর রাতে টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ জেনারেলরা এই সিদ্ধান্ত নেন। ৫ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণভবনেই যাননি। সেদিন শুধু দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা—এসএসএফ প্রধান মেজর জেনারেল নাজমুল হাসান এবং শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহমেদ শেখ হাসিনাকে হেলিকপ্টারে তুলে দেন। সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার কারণে একটি রক্তপাতহীন পতন সম্ভব হয়েছিল। আর এর মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র 'ডিনায়েবিলিটি' বা দায় এড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়ে যায়, কারণ প্রকাশ্যে
তাদের কোনো হাত দেখা যায়নি। শারমিন চৌধুরী: রক্তপাত এড়ানো বা শেখ হাসিনাকে হত্যা না করা কি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরিকল্পনার অংশ ছিল? চন্দন নন্দী: হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়। লক্ষ্য ছিল সমস্যাটা দূর করা, কাউকে শেষ করে দেওয়া নয়। কারণ, শেখ হাসিনাকে হত্যা করা হলে ভারতকে এর জবাবদিহি করতে হতো। তাঁর জীবন বাঁচানোর মাধ্যমে যেমন দায় এড়ানো গেছে, তেমনি তাঁকে ভারতে একপ্রকার বন্দীর মতো আটকে রেখে 'মাইনাস ওয়ান' করা হয়েছে। এখন তাঁর হাত-পা বাঁধা। তাঁর সঙ্গে এমন সব নেতা আছেন যাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এই দল নিয়ে তিনি চাইলেও দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না। শারমিন চৌধুরী: তাহলে কি তারেক রহমানকেও 'মাইনাস' করার (মাইনাস টু) প্রক্রিয়া এখনো চলছে? চন্দন নন্দী: আমি তো বলব 'মাইনাস টু' ফর্মুলা এখনো চলমান। তারেক রহমান বা অন্তর্বর্তী সরকার কি সত্যিই দেশ ভালোভাবে চালাতে পারছে? জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা যদি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে। এই সরকার পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে যে কাউকেই 'মাইনাস' করা হতে পারে। আমাদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করে দেখতে হবে। শারমিন চৌধুরী: সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা তো আওয়ামী লীগের আমলেই পদোন্নতি পেয়েছেন, নানান সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তাহলে তাঁরা কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেলেন? চন্দন নন্দী: এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বড় ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একটা বড় প্রেশার তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীকে অন্যান্য দেশে মিশনে পাঠানোর প্রলোভনও থাকতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কাছে নিজের বাহিনীর ভেতরে বিদ্রোহ সামাল দেওয়ার চেয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বেশি নিরাপদ মনে হয়েছে। তাঁকে হয়তো বোঝানো হয়েছিল যে, এই সরকারের আর জনসমর্থন নেই এবং ভূরাজনৈতিক লক্ষ্যও পূরণ হচ্ছে না, তাই বাধা না দিয়ে সরে দাঁড়ানোই ভালো। শারমিন চৌধুরী: যে স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এই পরিবর্তন আনল, সেটা কি তারা অর্জন করতে পেরেছে? চন্দন নন্দী: এই মুহূর্তের প্রধান ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য হলো চীনকে আটকানো। মিয়ানমারে চীনের সাহায্যে জান্তা সরকার নির্বাচন করে ফেলেছে। অথচ আরাকান আর্মিকে যে সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যু বা মানবিক করিডোর নিয়ে এখন আর কেউ টুঁ শব্দটিও করছে না। রোহিঙ্গাদের হাতে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র এসেছিল, সেটাও এখন বন্ধ। তার মানে চীনকে ঠেকাতে একটা প্রচেষ্টা চলছে। তবে তারা কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। শারমিন চৌধুরী: সরকারের ভেতরের কারা কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে আপনারা জানতে পেরেছেন? চন্দন নন্দী: আমি আগের প্রতিবেদনেও বলেছিলাম এবং এখনো সেই কথায় অটল আছি—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক এবং মোহাম্মদ এ আরাফাত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। দেখুন, অনেক চুনোপুঁটিকে ধরে জেলে পোরা হলেও নাইমুল ইসলাম খানকে কেউ স্পর্শও করেনি! সালমান বা আনিসুল হকের গ্রেপ্তারও ছিল একটা সাজানো নাটক। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো—ডিজিএফআই প্রধান হামিদুল হক, এনএসআই প্রধান টিএম জুবায়ের এবং সামরিক সচিব কবীর আহমেদ খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারলেন, কিন্তু মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান কেন আটকে গেলেন? সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায় তাঁকে পালাতে সাহায্য করেনি। হয়তো তিনি অনেক গোপন ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন। আওয়ামী লীগের ভেতরে এরকম আরও অনেক 'ফিফথ কলামনিস্ট' (ঘরের শত্রু) লুকিয়ে আছে, যা শেখ হাসিনা নিজেও হয়তো জানেন না। শারমিন চৌধুরী: শোনা যাচ্ছে ভারত শেখ হাসিনাকে কাতার যেতে বলছে অথবা 'সংস্কারকৃত আওয়ামী লীগ' গঠনে মত দিতে বলছে। এটা কি সত্যি? চন্দন নন্দী: আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা বিশ্বাস করি না। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দিয়ে দল চালানোর একটা চেষ্টা হতে পারত, কিন্তু তাঁর সেই ক্ষমতা নেই। শেখ হাসিনাকে ছাড়া আওয়ামী লীগ টিকবে না। আর কাতার যাওয়া বা সংস্কারকৃত আওয়ামী লীগের প্রস্তাব দেওয়া হলে শেখ হাসিনা নিজেই তা প্রত্যাখ্যান করবেন। শারমিন চৌধুরী: ভারতের এখনকার অবস্থান কী? তারা কি আওয়ামী লীগের মিত্র নাকি শত্রু? চন্দন নন্দী: মিত্র-শত্রু বলব না। তবে বাংলাদেশের ভেতরে এমনকি বিএনপির মধ্যেও অনেকেই চায় না আওয়ামী লীগ এখন ফিরে আসুক। কারণ, মাঠে এখনো আওয়ামী লীগের শক্ত জনসমর্থন আছে। তবে বর্তমান সরকার যদি রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে জামায়াতে ইসলামী। সেটা মোকাবিলার ক্ষমতা বিএনপির আছে কি না, তা ভাবতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনো যায়নি। তারা কি সামনে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করছে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। শারমিন চৌধুরী: আপনাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসানের দুর্নীতির কথাও উঠে এসেছে। দুদক কি সত্যিই এটা তদন্ত করছে? কার ইশারায় এটা হচ্ছে? চন্দন নন্দী: হ্যাঁ, দুদকে জমা পড়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হচ্ছে। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল ধরে এই অভিযোগগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমি ২০২৬ সালের জানুয়ারির একটি নথিতেও এর প্রমাণ দেখেছি। শুধু নৌবাহিনী প্রধান নন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। কাতার থেকে সুপারমার্কেট কেনা, চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্টে ক্রেন কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য আছে। তবে জুলাই ২০২৬-এ তাঁর অবসরের আগে দুদক প্রমাণসহ তাঁকে শাস্তির আওতায় আনতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। শারমিন চৌধুরী: আপনারা যে ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে এসব প্রতিবেদন করছেন, সেই সোর্স বা সূত্রগুলো আসলে কী? চন্দন নন্দী: সাংবাদিকতায় সোর্স হচ্ছে 'স্যাক্রোস্যাংট' (পবিত্র বা অলঙ্ঘনীয়)। এই সোর্স প্রকাশ করার অধিকার আমার নেই, আর মূল লেখক এনায়েত কবীরেরও সেটা বলা উচিত নয়। তবে আমি এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, নথিগুলো আসলেই আছে এবং এ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক কাজ হবে। শারমিন চৌধুরী: অনেক ধন্যবাদ চন্দন নন্দী, সময় দেওয়ার জন্য। চন্দন নন্দী: আপনাকেও ধন্যবাদ।



