নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ |
ইসলাম তার পরিচয়, বিধান ও বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র একটি দ্বীন ও ধর্ম। ইসলামের শিক্ষা হলো মুসলমানরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে স্বকীয়তা রক্ষা করবে, সে তার জীবনের কোনো পর্যায়ে নিজের মুসলিম পরিচয়কে ভুলে যাবে না, সে অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অন্ধ অনুকরণ করবে না। এই নির্দেশনা মুসলমানের ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুসলমানের সামাজিক ও জাতীয় জীবনেও তা প্রযোজ্য। নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে ইসলাম মানুষকে বাস্তবমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেয়। ইসলাম বলে, একজন মুমিনের জীবনে নববর্ষ নিছক আনন্দের বিষয় নয়, বরং নিজের তা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব করা এবং আগামী দিনে ভালো কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণের সময়। নববর্ষে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের প্রত্যাশা ইসলাম নববর্ষে বিশেষ উৎসব আয়োজনের

প্রবর্তক নয়। ইসলাম মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়। আর ইসলামের দৃষ্টিতে নববর্ষের সঙ্গে মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এই উদযাপন কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগ তার মহান স্রষ্টা থেকে ফিরিয়ে নেয়। তবে মুমিন এই দিনে আল্লাহর কাছে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করতে পারে। যেভাবে মহানবী (সা.) প্রত্যেক নতুন মাসের শুরুতে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করতেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখে পাঠ করতেন- ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ওপর চাঁদকে উদিত করুন শানিত ও ঈমানের সাথে, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে এবং আমাদেরকে সেসব কাজের ক্ষমতা দানের সাথে যা আপনি ভালোবাসেন ও যাতে আপনি খুশি হন।'

(জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১) নববর্ষে মুমিনের করণীয় উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ না থেকে মুমিন ভালো কাজের সুযোগ হিসেবে নববর্ষে মুসলমানরা কয়েকটি কাজ করতে পারে। তা হলো, ১. প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা : মুমিন যখন সুস্থ স্বাভাবিকভাবে একটি বছর পূর্ণ করবে, সে বছরজুড়ে ভালো কাজ করবে এবং আল্লাহর নেয়ামত লাভে সক্ষম হবে, তখন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো তবে আমি অবশ্যই (আমার নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব। আর (আমার দান) অস্বীকার করলে নিশ্চয়ই আমার শাসিত অতি কঠোর।' (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৭) ২. দুঃখ ও বেদনার জন্য ধৈর্যধারণ : মুমিনের যদি একটি বছরও এমন যায় যে, সে সারা

বছর নানা ধরনের বিপদ-আপদে জর্জরিত ছিল, তবুও সে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ হবে না, বরং একে ভাগ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে ধৈর্যধারণ করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদের যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই আছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।' (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৭) ৩. অতীতের ভালো-মন্দ যাচাই করা : মুমিন বিগত বছরে কোন কাজটি ভালো হলো এবং কোন কাজটি মন্দ হলো তা যাচাই

করে দেখবে। যদি সে কোনো ভালো কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে এবং মন্দ কাজ করলে আল্লাহর কাছে তাওবা করবে। আত্ম-জিজ্ঞাসা বা ভালো-মন্দের যাচাই মুমিনকে ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা করে। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছ থেকে হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ কোরো। তোমাদের আমলনামা পরিমাপ করার আগে তোমরা তা পরিমাপ কোরো। কেননা আজ তোমার নিজের হিসাব গ্রহণ আগামীকাল তোমার থেকে হিসাব গ্রহণের তুলনায় সহজ।' (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৩৩) ৪. ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ : মুমিন সময়ের প্রতিটি সূচনায় নেক আমল বা ভালো কাজের প্রত্যয় গ্রহণ করে, এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

‘আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকা দিলে আমি সদকা করতাম এবং সত্কর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।' (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত : ১০) ৫. উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ : হাদিসের ভাষ্য অনুসারে মুমিনের চেষ্টা থাকবে যেন তার গতকালের তুলনায় আজকের দিনটি উত্তম হয়। আর উত্তম দিন মানুষের উত্তম পরিকল্পনা ও আন্তরিক চেষ্টা ছাড়া আসে না। তাই মুমিনের উচিত, নববর্ষের সময় উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ততক্ষণ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন

ঘটায়।' (সুরা রাআদ, আয়াত : ১১) মোটকথা, নববর্ষ উদযাপনে মুমিনের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে এবং তার আগামী দিনের পথচলা হবে ভালো কাজ ও উত্তম পরিকল্পনার মাধ্যমে। কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর এই যে, মানুষ তাই পায় যা সে করে, আর এই যে, তার কর্ম অচিরেই দেখান হবে, অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।' (সুরা নাজম, আয়াত : ৩৯-৪১) আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নববর্ষ কবে থেকে শুরু ও বাংলা মাসের নামকরণ কীভাবে হলো দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে ভিড়ল জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেলের চালান নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা বৈশাখের শোভাযাত্রা ৫ বিভাগে বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের চালু মেট্রো রেল যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ অবরোধ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সৌদি দক্ষিণ লেবাননে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত পত্রিকাটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনকারী: ট্রাম্প ‘ খেলা’ কমিয়ে দিলো দুই দেশের বৈরি সম্পর্ক কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা পাঁচ ঘণ্টা লাইন, চার লিটার তেল, আর একটি তথাকথিত “নির্বাচিত” সরকার! সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী শফিক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ভেনিসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত অপশাসন, ভয় আর মামলার বোঝা—এভাবেই কি ঝরে যাবে একের পর এক প্রাণ? ইউনুস–তারেকের রাজনীতিতে কি মানুষের জীবন এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেছে? Attack on Humanitarian Physician Professor Dr. Kamrul Islam by BNP Leader — Has the Country Become a Safe Haven for Thugs? একটি স্বেচ্ছাচারী একপাক্ষিক সংসদ কর্তৃক গণবিরোধী আইন পাশ ও দেশের নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানঃ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বেতার ভাষণ। ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ ‘ড. ইউনূস ৬টি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ছে’