ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের
ঈদে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানো নিয়েও ইউনুসের ছলচাতুরী
বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি মমতায় গড়া এক নেতৃত্বের নাম শেখ মুজিব
শেখ হাসিনার ডেল্টা প্লানকে তারেক রহমান চালাচ্ছেন খালকাটা কর্মসূচি হিসেবে
‘ইউনূসকে ঠিকই চিনেছিলেন শেখ হাসিনা’, কারামুক্ত হয়ে আনিস আলমগীর
ইতিহাস থেকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ: দেশবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধু
কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে ড. ইউনূসকে ‘বিশ্ব বাটপার’ উপাধি দিতেন: আনিস আলমগীর
স্কুলে এসে শিশুরা যেন পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্য না দেখে—এই অবদান শেখ হাসিনার একান্ত
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে লটারি না ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করানো হবে এটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। এই ফাঁকে আওয়ামী লীগের একটা সফলতার কথা আলোচনা করি, শিক্ষা রিলেটেডই।
খুব সম্ভবত ২০১০ সাল সারাদেশে পহেলা জানুয়ারি একযোগে শুরু হলো পাঠ্যপুস্তক উৎসব। নতুন বইয়ের সাথে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগটা বুঝতে পারলেই আপনি আওয়ামী লীগের এই সফলতা বুঝতে পারবেন। কয়েকটি ধাপে ব্যাপার গুলো বোঝার চেষ্টা করি।
১. নতুন বই ও শিশুর আবেগগত সংযোগ (Emotional Attachment)
আপনাদের বাসায় যাদের বাচ্চা কাচ্চা আছে, তারা যদি বাচ্চাদের দিকে লক্ষ করেন তাহলে দেখবেন। বাচ্চারা নতুন কোনো জিনিসের প্রতি প্রবল আগ্রহী থাকে। শুধু বাচ্চা না, আমাদের ক্ষেত্রেও এটা সত্যি। বছরের প্রথম
দিনে একটা শিশু যখন নতুন বই হাতে পায় তখন তার মধ্যে প্রবল আনন্দ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, নতুন কিছু পাওয়ার অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্কে ডোপামিন (dopamine) নিঃসরণ বাড়ায়, যা শেখার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে। ২. শেখার প্রেরণা ও আগ্রহ বৃদ্ধি (Learning Motivation) শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের শিক্ষাসামগ্রীর প্রতি আকর্ষণের উপর। নতুন বই শিশুদের মধ্যে intrinsic motivation বা অন্তর্নিহিত প্রেরণা সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানী Lev Vygotsky তার সামাজিক নির্মাণবাদ তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, শিক্ষার উপকরণ ও সামাজিক পরিবেশ শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। নতুন বই পাওয়ার মাধ্যমে শিশুরা নিজেদেরকে শিক্ষাব্যবস্থার সক্রিয় অংশ হিসেবে অনুভব করে, যা তাদের
স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ায়। বাংলাদেশের শিক্ষা গবেষণায় দেখা যায়, নতুন বই সময়মতো বিতরণ হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে ১০–১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ৩. আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গঠন (Identity and Self-esteem) এই আলাপটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, লীগ যখন প্রথম ক্ষমতায় এসে সবাইকে নতুন বই উপহার দেওয়া শুরু করে, তখন আমি ক্লাস ৪/৫-এ পড়ি। আমার স্পষ্টত মনে আছে আমি এর আগে কখনও নতুন বই পাইনি। বেসরকারি স্কুলে পড়তাম। সরকারি স্কুলে বই দিত, কিন্তু আমাদের দিত না। কিনতে হতো। আমার এক ক্লাস উপরে আমার কাজিন পড়ত, আমি ওর বইই পড়তাম। প্রয়োজনে কিনে দেওয়া
হতো। তবে যতদূর মনে আছে খুব বেশি বই কিনিনি। বোর্ড বইগুলো তো নয়ই। আমার এখন মনে আছে ক্লাসে একটা নিদারুণ বৈষম্য দেখা যেত তখন। কারও কাছে নতুন বই, কারও কাছে পুরোনো বই। বই উৎসবে সেই বৈষম্য দূর হলো। সবাই নিজের বই পেল। নিজের এক সেট নতুন বই। এই নতুন বই পাওয়া শিশুদের মনে একটি অনুভূতি তৈরি করে— “এই বইটা আমার”। এই মালিকানাবোধ (sense of ownership) শিশুর self-esteem বা আত্মসম্মান বাড়ায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নিম্ন-আয়ের পরিবারে অনেক শিশুর জন্য নতুন বই পাওয়া একটি বড় প্রাপ্তি। এতে তারা নিজেদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অনুভব করে। এর চাইতে সুন্দর জিনিস পৃথিবীতে হতে পারে
না, আমার মতে। ৪. কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ (Development of Imagination and Creativity) ছোট বেলায় আমাদের সকলেরই হয়তো পাঠ্য বইয়ের ছবি দেখার প্রবল আগ্রহ ছিল। আমরা প্রবল উৎসাহে পাঠ্য বইয়ের আঁকা ছবি গুলো দেখতাম। আওয়ামী লীগ সরকার এই বিষয়টাতেও নজর দিল। সাদাকালো পাঠ্য বই ধাপে ধাপে হয়ে উঠল রঙিন। এখন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল পাঠ্য বই রঙিন এবং উন্নত মানের কাগজে প্রিন্ট করা। এটার সাথে শিশু মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটা একটু দেখি চলুন। শিশুদের নতুন বইয়ে থাকা রঙিন ছবি, গল্প ও বিভিন্ন কার্যক্রম তাদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী Jean Piaget-এর মতে, শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ
দিক হলো symbolic thinking, যা গল্প, ছবি ও পাঠ্যবস্তুর মাধ্যমে বিকশিত হয়। বাংলাদেশের প্রাথমিক পাঠ্যবইগুলোতে বর্তমানে ছবি, গল্প ও কার্যক্রমভিত্তিক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের কল্পনা শক্তিকে উদ্দীপিত করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। নতুন বই হাতে পেলে শিশুরা গল্প কল্পনা করতে শেখে, নতুন ধারণা তৈরি করে এবং সৃজনশীলভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। ৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব (Social and Cultural Influence) নতুন বইয়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সাথেও যুক্ত। বাংলাদেশে প্রতি বছর বই বিতরণের দিনটি এক ধরনের উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হতো, যা পরিচালনা করত National Curriculum and Textbook Board।
জেলা স্কুলে পড়ার সময় দেখেছি, ডিসি আমাদের স্কুলে এসে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করতেন। আর গনভবন থেকে সারা বাংলাদেশের উৎসব উদ্বোধন করতেন শেখ হাসিনা৷ নিজের হাতে শিশুদের বই তুলে দিতেন। আমরা সবাই উৎসব আমেজে নতুন বই নিয়ে বাসায় ফিরতাম। ওই সময় আমরা নতুন বই নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করতাম, বইয়ের মলাট লাগাতাম এবং নতুন শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ ভাগাভাগি করতাম। এই অভিজ্ঞতাগুলোই শিশুদের মধ্যে social bonding বা সামাজিক বন্ধন তৈরি করে এবং তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মনোভাব গড়ে তোলে। এই যে এত বড় আলাপ দিলাম, এগুলোর পরে কিছু দুঃখের কথা বলি। National Curriculum and Textbook Board-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর কাছে ৩০ কোটিরও বেশি বই বিতরণ করা হয়। গত দুই বছর ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব হয়নি। এই প্রজন্মের শিশুরা শিশুদের আনন্দের একটি দিন হারাল শুধু মাত্র হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে। বই উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হলো, শুধু মাত্র এটি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সফলতা বলে। ২০২৫ সালে তো অনেক স্কুলের বাচ্চারা এপ্রিল মাস পর্যন্ত বই পায়নি। উৎসব তো অনেক দূরের বিষয়। লীগের এই চূড়ান্ত সফলতায়ও কম কালেমা লেপনের চেষ্টা করা হয়নি। ইন্ডিয়া থেকে ছাপিয়ে আনা নিম্ন মানের বই—ইন্ডিয়ানরা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুয়ানি ছবি লেখা ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছিল হরহামেশাই। তাও শেখ হাসিনা দিয়ে গেছেন—এই বাংলাদেশের শিশুদের কথা মাথায় রেখে, শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি করে, দিয়ে গেছেন শিশুদের সুন্দর একটি উৎসব। সকল শিশুই সম্ভাবনাময়। শিশুদের কোনো জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নেই; সবার পরিচয়—ওরা শিশু।
দিনে একটা শিশু যখন নতুন বই হাতে পায় তখন তার মধ্যে প্রবল আনন্দ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, নতুন কিছু পাওয়ার অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্কে ডোপামিন (dopamine) নিঃসরণ বাড়ায়, যা শেখার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে। ২. শেখার প্রেরণা ও আগ্রহ বৃদ্ধি (Learning Motivation) শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের শিক্ষাসামগ্রীর প্রতি আকর্ষণের উপর। নতুন বই শিশুদের মধ্যে intrinsic motivation বা অন্তর্নিহিত প্রেরণা সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানী Lev Vygotsky তার সামাজিক নির্মাণবাদ তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, শিক্ষার উপকরণ ও সামাজিক পরিবেশ শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। নতুন বই পাওয়ার মাধ্যমে শিশুরা নিজেদেরকে শিক্ষাব্যবস্থার সক্রিয় অংশ হিসেবে অনুভব করে, যা তাদের
স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ায়। বাংলাদেশের শিক্ষা গবেষণায় দেখা যায়, নতুন বই সময়মতো বিতরণ হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে ১০–১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ৩. আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গঠন (Identity and Self-esteem) এই আলাপটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, লীগ যখন প্রথম ক্ষমতায় এসে সবাইকে নতুন বই উপহার দেওয়া শুরু করে, তখন আমি ক্লাস ৪/৫-এ পড়ি। আমার স্পষ্টত মনে আছে আমি এর আগে কখনও নতুন বই পাইনি। বেসরকারি স্কুলে পড়তাম। সরকারি স্কুলে বই দিত, কিন্তু আমাদের দিত না। কিনতে হতো। আমার এক ক্লাস উপরে আমার কাজিন পড়ত, আমি ওর বইই পড়তাম। প্রয়োজনে কিনে দেওয়া
হতো। তবে যতদূর মনে আছে খুব বেশি বই কিনিনি। বোর্ড বইগুলো তো নয়ই। আমার এখন মনে আছে ক্লাসে একটা নিদারুণ বৈষম্য দেখা যেত তখন। কারও কাছে নতুন বই, কারও কাছে পুরোনো বই। বই উৎসবে সেই বৈষম্য দূর হলো। সবাই নিজের বই পেল। নিজের এক সেট নতুন বই। এই নতুন বই পাওয়া শিশুদের মনে একটি অনুভূতি তৈরি করে— “এই বইটা আমার”। এই মালিকানাবোধ (sense of ownership) শিশুর self-esteem বা আত্মসম্মান বাড়ায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নিম্ন-আয়ের পরিবারে অনেক শিশুর জন্য নতুন বই পাওয়া একটি বড় প্রাপ্তি। এতে তারা নিজেদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অনুভব করে। এর চাইতে সুন্দর জিনিস পৃথিবীতে হতে পারে
না, আমার মতে। ৪. কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ (Development of Imagination and Creativity) ছোট বেলায় আমাদের সকলেরই হয়তো পাঠ্য বইয়ের ছবি দেখার প্রবল আগ্রহ ছিল। আমরা প্রবল উৎসাহে পাঠ্য বইয়ের আঁকা ছবি গুলো দেখতাম। আওয়ামী লীগ সরকার এই বিষয়টাতেও নজর দিল। সাদাকালো পাঠ্য বই ধাপে ধাপে হয়ে উঠল রঙিন। এখন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল পাঠ্য বই রঙিন এবং উন্নত মানের কাগজে প্রিন্ট করা। এটার সাথে শিশু মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কটা একটু দেখি চলুন। শিশুদের নতুন বইয়ে থাকা রঙিন ছবি, গল্প ও বিভিন্ন কার্যক্রম তাদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী Jean Piaget-এর মতে, শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ
দিক হলো symbolic thinking, যা গল্প, ছবি ও পাঠ্যবস্তুর মাধ্যমে বিকশিত হয়। বাংলাদেশের প্রাথমিক পাঠ্যবইগুলোতে বর্তমানে ছবি, গল্প ও কার্যক্রমভিত্তিক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের কল্পনা শক্তিকে উদ্দীপিত করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। নতুন বই হাতে পেলে শিশুরা গল্প কল্পনা করতে শেখে, নতুন ধারণা তৈরি করে এবং সৃজনশীলভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। ৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব (Social and Cultural Influence) নতুন বইয়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সাথেও যুক্ত। বাংলাদেশে প্রতি বছর বই বিতরণের দিনটি এক ধরনের উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হতো, যা পরিচালনা করত National Curriculum and Textbook Board।
জেলা স্কুলে পড়ার সময় দেখেছি, ডিসি আমাদের স্কুলে এসে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করতেন। আর গনভবন থেকে সারা বাংলাদেশের উৎসব উদ্বোধন করতেন শেখ হাসিনা৷ নিজের হাতে শিশুদের বই তুলে দিতেন। আমরা সবাই উৎসব আমেজে নতুন বই নিয়ে বাসায় ফিরতাম। ওই সময় আমরা নতুন বই নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করতাম, বইয়ের মলাট লাগাতাম এবং নতুন শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ ভাগাভাগি করতাম। এই অভিজ্ঞতাগুলোই শিশুদের মধ্যে social bonding বা সামাজিক বন্ধন তৈরি করে এবং তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মনোভাব গড়ে তোলে। এই যে এত বড় আলাপ দিলাম, এগুলোর পরে কিছু দুঃখের কথা বলি। National Curriculum and Textbook Board-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর কাছে ৩০ কোটিরও বেশি বই বিতরণ করা হয়। গত দুই বছর ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব হয়নি। এই প্রজন্মের শিশুরা শিশুদের আনন্দের একটি দিন হারাল শুধু মাত্র হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে। বই উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হলো, শুধু মাত্র এটি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সফলতা বলে। ২০২৫ সালে তো অনেক স্কুলের বাচ্চারা এপ্রিল মাস পর্যন্ত বই পায়নি। উৎসব তো অনেক দূরের বিষয়। লীগের এই চূড়ান্ত সফলতায়ও কম কালেমা লেপনের চেষ্টা করা হয়নি। ইন্ডিয়া থেকে ছাপিয়ে আনা নিম্ন মানের বই—ইন্ডিয়ানরা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুয়ানি ছবি লেখা ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছিল হরহামেশাই। তাও শেখ হাসিনা দিয়ে গেছেন—এই বাংলাদেশের শিশুদের কথা মাথায় রেখে, শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি করে, দিয়ে গেছেন শিশুদের সুন্দর একটি উৎসব। সকল শিশুই সম্ভাবনাময়। শিশুদের কোনো জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নেই; সবার পরিচয়—ওরা শিশু।



