ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সাবেক প্রধান বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল
৫৫ লাখ গ্রাহক ২৬৪ কোটি টাকার ফাঁদে: প্রিপেইড মিটার ভাড়া নিয়ে বিএনপির প্রচারণা ছিলো গুজব
রোহিঙ্গাদের হাতে ৮ হাজার একর বনভূমি উজাড়ের ফল: পাহাড় ধসে ৩ ঘণ্টায় ঝরল ৯টি প্রাণ
অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহকারীর থাপ্পড়, সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দ্বন্দ্ব চরমে
একই গ্রাহকের একই ব্যবহারে প্রি-পেইড মিটারে জুনে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ-তিন গুণ!
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করবে সরকার
রাষ্ট্রপতি: গ্রামবাংলা আমাদের শিকড়, শক্তি ও সম্ভাবনার আধার
বয়কটের ডাক দিয়েও ভারতের তেলেই ভরসা
শেখ হাসিনার আমলে ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থায়নে নির্মিত পাইপলাইনেই বাংলাদেশে আসছে পরিশোধিত জ্বালানি তেল।
একসময় এই পাইপলাইন দিয়ে 'ভারতে গ্যাস পাচার হচ্ছে' বলে গুজব ছড়িয়েছিল বিএনপি-জামায়াতসহ বর্তমান সরকার-সমর্থক গোষ্ঠী।
'ইন্ডিয়া আউট' বা ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে শাড়ি পোড়ানো নেতারাই এখন জ্বালানি সংকটে ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
মিত্র দেশের পাকিস্তান বা তুরস্ক নয়, দেশের গাড়ি ও বিদ্যুৎ সচল রাখতে ভরসা করতে হচ্ছে সেই ভারতীয় তেলের ওপরই।
১৯৭১ সালে ৩৯০০ ভারতীয় সেনার আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে লাগামহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ঢাকা: 'ইন্ডিয়া আউট' বা ভারতীয় পণ্য বয়কটের জোরেশোরে ডাক দেওয়া হলেও, দিনশেষে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেই ভারতের ওপরেই ভরসা করতে
হচ্ছে বাংলাদেশকে। শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' দিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে কম মূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা হচ্ছে। অথচ এই পাইপলাইন এবং ভারত থেকে তেল আমদানির বিষয়ে অতীতে তীব্র আপত্তি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিল বর্তমান ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তারকারী রাজনৈতিক দলগুলো। যে পাইপলাইন নিয়ে ছিল গুজব, আজ তাতেই ভরসা ভারতের প্রায় ৮০ ভাগ আর্থিক অনুদানে ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত দ্রুত ও কম খরচে তেল আনার জন্য। কিন্তু নির্মাণের সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো অভিযোগ তুলেছিল যে, এই পাইপলাইন দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাস ভারতে পাচার করে দেওয়া হবে। এছাড়া, 'ভারত রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে কেন
বাংলাদেশে পাঠাবে'—এমন প্রশ্ন তুলেও সমালোচনা করা হয়। অথচ বর্তমান সরকার সেই পাইপলাইনের মাধ্যমেই ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। বয়কটের রাজনীতি বনাম বাস্তবতা বিগত ১৫ বছর ধরে ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে নিজের স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যারা ভারত বয়কটের এত বড় ডাক দিয়েছিলেন, তারা এখন পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো তাদের পছন্দের দেশগুলো থেকে তেল না এনে কেন ভারতের মুখাপেক্ষী হচ্ছেন? সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবতার কাছে বয়কটের রাজনীতি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। মজার বিষয় হলো, ভারত থেকে আনা এই তেলে উৎপাদিত বিদ্যুতেই
দেশের মোবাইল চার্জ হবে, চলবে গাড়ি। আর সেই গাড়িতে বসেই অনেকে 'গাজওয়াতুল হিন্দ' বা ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' দখলের মতো ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অকৃতজ্ঞতার আক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বারবার সামনে আসছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছিলেন এবং চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন ১০ হাজারের বেশি সেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার মাত্র ছয় মাসের মাথায় 'ভারত সব লুট করে নিয়ে গেছে' এমন গুজব ছড়িয়ে একটি মহলের মাধ্যমে ভারত-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হয়। একটি প্রতিবেশী দেশের এত বড় আত্মত্যাগের পরও দীর্ঘদিন তাদের স্মরণে দেশে কোনো স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত নির্মাণ
করা হয়নি। উল্টো নিরন্তর প্রোপাগান্ডা চালিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকদেখানো বয়কট বা শাড়ি পোড়ানোর মতো সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে হয়তো সাময়িক হাততালি পাওয়া যায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ভারত থেকে তেল আমদানির এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, অন্ধ ভারত-বিরোধিতা কেবলই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার, বাস্তবে প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক ও নির্ভরতার কোনো বিকল্প নেই।
হচ্ছে বাংলাদেশকে। শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' দিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে কম মূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা হচ্ছে। অথচ এই পাইপলাইন এবং ভারত থেকে তেল আমদানির বিষয়ে অতীতে তীব্র আপত্তি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিল বর্তমান ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তারকারী রাজনৈতিক দলগুলো। যে পাইপলাইন নিয়ে ছিল গুজব, আজ তাতেই ভরসা ভারতের প্রায় ৮০ ভাগ আর্থিক অনুদানে ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত দ্রুত ও কম খরচে তেল আনার জন্য। কিন্তু নির্মাণের সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো অভিযোগ তুলেছিল যে, এই পাইপলাইন দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাস ভারতে পাচার করে দেওয়া হবে। এছাড়া, 'ভারত রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে কেন
বাংলাদেশে পাঠাবে'—এমন প্রশ্ন তুলেও সমালোচনা করা হয়। অথচ বর্তমান সরকার সেই পাইপলাইনের মাধ্যমেই ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। বয়কটের রাজনীতি বনাম বাস্তবতা বিগত ১৫ বছর ধরে ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে নিজের স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যারা ভারত বয়কটের এত বড় ডাক দিয়েছিলেন, তারা এখন পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো তাদের পছন্দের দেশগুলো থেকে তেল না এনে কেন ভারতের মুখাপেক্ষী হচ্ছেন? সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবতার কাছে বয়কটের রাজনীতি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। মজার বিষয় হলো, ভারত থেকে আনা এই তেলে উৎপাদিত বিদ্যুতেই
দেশের মোবাইল চার্জ হবে, চলবে গাড়ি। আর সেই গাড়িতে বসেই অনেকে 'গাজওয়াতুল হিন্দ' বা ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' দখলের মতো ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অকৃতজ্ঞতার আক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বারবার সামনে আসছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছিলেন এবং চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন ১০ হাজারের বেশি সেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার মাত্র ছয় মাসের মাথায় 'ভারত সব লুট করে নিয়ে গেছে' এমন গুজব ছড়িয়ে একটি মহলের মাধ্যমে ভারত-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হয়। একটি প্রতিবেশী দেশের এত বড় আত্মত্যাগের পরও দীর্ঘদিন তাদের স্মরণে দেশে কোনো স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত নির্মাণ
করা হয়নি। উল্টো নিরন্তর প্রোপাগান্ডা চালিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকদেখানো বয়কট বা শাড়ি পোড়ানোর মতো সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে হয়তো সাময়িক হাততালি পাওয়া যায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ভারত থেকে তেল আমদানির এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, অন্ধ ভারত-বিরোধিতা কেবলই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার, বাস্তবে প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক ও নির্ভরতার কোনো বিকল্প নেই।



