স্বাধীনতা পদক তালিকায় বিতর্কিত চরিত্র মেজর জলিলের নাম: ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ মার্চ, ২০২৬

স্বাধীনতা পদক তালিকায় বিতর্কিত চরিত্র মেজর জলিলের নাম: ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ মার্চ, ২০২৬ |
মেজর জলিলকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। দেশের সামরিক বাহিনীর রেকর্ডে তাঁর বিষয়ে নিশ্চিতভাবেই বিরূপ প্রতিবেদন আছে। মুজিব আমলে যে দুজন সেক্টর কমান্ডারকে পুরস্কৃত করা হয়নি, তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। ইদানীং ফেসবুকে প্রায়ই জলিলের বইপত্রের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কারা এগুলো প্রচার করছে, সেটাও বেশ স্পষ্ট। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো ছিল রীতিমতো ভয়াবহ। ড. কামাল সিদ্দিকীর স্মৃতিকথাতেও বিষয়টি বেশ বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। সেকালের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারাও এসব জানতেন। যাই হোক, ড. কামাল সিদ্দিকীর স্মৃতিকথার দ্বিতীয় খণ্ড থেকে প্রাসঙ্গিক অংশটি অনুবাদ করে দিলাম। “মেজর জলিলকে ঘিরে বিভ্রান্তি মেজর জলিলকে সাধারণত একজন “ভারত-বিরোধী দেশপ্রেমিক” হিসেবে চিত্রায়িত করা হতো, যাঁর প্রতি শেখ

মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ অবিচার করেছিল। কিন্তু এটি ডাহা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। একেবারে শুরু থেকেই তিনি ছিলেন একজন কুখ্যাত অপরাধী। আমি খুলনায় যোগ দেওয়ার পরপরই, ট্রেজারি অফিসার আমাকে লিখিতভাবে জানান যে, ঠিক একদিন আগে জলিল বন্দুকের মুখে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা জোরপূর্বক আদায় করেছেন এবং তার এই দাবির সপক্ষে তিনি বেশ কয়েকজন সাক্ষীর কথাও উল্লেখ করেন। আমি তাকে আমার বরাবর লেখা একটি চিঠিতে সমস্ত ঘটনা তুলে ধরতে বলি, এবং পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে রাখার জন্য আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানাই। জলিল এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি টয়োটা গাড়ি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, এবং চেসিস

নম্বর ও অন্যান্য বিবরণসহ সেটিও আমি লিখিতভাবে রেকর্ড করে রেখেছিলাম। তার লোকেরা লুটপাট এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় আমি যখন তাকে শহরে তাদের টহল বন্ধ করতে বলেছিলাম, তখন তিনি আমার সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন, তা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার জন্য একটি জমকালো নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। এতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই, অন্য কোথাও থেকে দখলকৃত দুটি একদম নতুন গাড়ি তিনি কীভাবে তাঁকে উপহার দিতে পারলেন? এবং আমি ভেবে অবাক হয়েছিলাম যে, বাংলাদেশের এই “মহান বন্ধু” কীভাবে এর বৈধতা এবং উৎস যাচাই না

করেই এমন একটি উপহার গ্রহণ করতে পারলেন?বিনিয়োগ সুযোগ তাই, জলিলের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগের তালিকায় আমি এটিও অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। আমি আমার সূত্র মারফত আরও শুনতে পাচ্ছিলাম যে, জলিল এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা সুন্দরবনে অবৈধভাবে কাঠ কাটা এবং সেগুলো ভারতে পাচার করার জন্য মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করেছেন। জলিলের প্রতি আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় যখন এক বিহারী মা তার তিন কিশোরী কন্যাকে জলিলের হেফাজত থেকে উদ্ধার করার জন্য আমার কাছে আকুতি জানান, যাদেরকে তার নির্দেশেই অপহরণ করা হয়েছিল। তাই আমি সাথে সাথে তাকে ফোন করি, এবং সে চরম ঔদ্ধত্যের সাথে আমাকে বলে: “এতে মহাভারত অশুদ্ধ হওয়ার কী আছে? তারা আমাদের নারীদের ধর্ষণ

করেছে। এখন প্রতিশোধ নেওয়ার পালা আমাদের।” আমি উত্তর দিয়েছিলাম যে, ন্যূনতম নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন কোনো সুশৃঙ্খল সৈনিকের যুক্তি এটি হতে পারে না; এবং সে যদি এখনই এই তিন মেয়েকে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে না দেয়, তবে সে চিরতরে আমার শত্রুতে পরিণত হবে। সে আমাকে জাহান্নামে যেতে বলে। আমি তৎক্ষণাৎ জনাব তাজউদ্দীন আহমদকে (তখনও কলকাতায়) এই অপরাধমূলক কাজগুলোর বর্ণনা দিয়ে একটি চিঠি লিখি, এবং অপরাধের এই হোতাকে খুলনা থেকে অপসারণের জন্য তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। চিঠিটি যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়, আমি তা নিশ্চিত করেছিলাম। সম্ভবত দু’দিন পর, যশোর সেনানিবাস থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুর (মঞ্জুর ভাই, পিএএফ পাবলিক স্কুল সারগোদায় আমার সিনিয়র)

হঠাৎ করেই সাধারণ পোশাকে এবং একটি বেসামরিক যানবাহনে আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি আমাকে জানান যে, তিনি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জলিলকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ পেয়েছেন, এবং জানতে চাইলেন এ ব্যাপারে আমি তাকে সাহায্য করতে পারব কি না। আমি মঞ্জুর ভাইকে বললাম যে আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথেই তা করব। তার পরামর্শে, আমি জলিলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড (2/IC) মেজর জয়নুল আবেদীনকে ফোন করি এবং তাকে বলি যে, কোনো কারণে কর্নেল মঞ্জুর ফোনে জলিলকে পাচ্ছেন না, তাই তিনি যেন দয়া করে তার বসকে পরদিন সকাল ১১টায় যশোর সেনানিবাসে সেক্টর কমান্ডারদের একটি সভায় উপস্থিত থাকতে বলেন। জলিল ফাঁদে পা দিলেন। পরদিন খুলনা থেকে যশোর যাওয়ার পথে

আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অতর্কিত আক্রমণ (অ্যামবুশ) করে তাকে গ্রেপ্তার করে। সুতরাং, বিভিন্ন বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করার কারণে তারা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল—এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি গাঁজাখুরি গল্প। (দেখুন মইনুল হোসেন চৌধুরী, ‘দ্য সাইলেন্ট উইটনেস বাই আ জেনারেল: ফার্স্ট ডিকেড অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’) জেনারেল লিখেছেন: “ডিসেম্বরের শেষের দিকে মেজর জলিলকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থেকে আনা হয় এবং আমার জিম্মায় রাখা হয়…….খুলনার তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার কামাল সিদ্দিকী, যিনি পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সচিব হয়েছিলেন, তিনিও মেজর জলিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতেন, যদিও দাবি করা হয়েছে যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্র লুটের প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল” (পৃষ্ঠা ২১); অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ২০১২)। দৃশ্যপট থেকে তার বিদায়ের পর পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়, কিন্তু জলিলকে নিয়ে আমার ঝামেলা তখনও শেষ হয়নি। কয়েক মাস পর, আমি যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে কাজ করছিলাম, তখন মেজর জলিলের বিচারের জন্য গঠিত সামরিক আদালতের চেয়ারম্যান কর্নেল তাহেরের কাছ থেকে আমি একটি সমন পাই। আমি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার এবং ইউনিফর্ম পরিহিত এই অপরাধীর সম্পর্কে সত্য কথা বলার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলাম, যদিও এর অর্থ ছিল চিরতরে জলিলের ক্ষোভের পাত্র হওয়া। ট্রেজারি অফিসারের বিবৃতিসহ খুলনায় তার বিরুদ্ধে আমি যে সমস্ত প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ করেছিলাম, তার সবকিছু নিয়েই আমি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। হঠাৎ করেই, আমার সাক্ষ্য দেওয়ার আগের দিন, আমার নতুন বস, শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আমার হাতে একটি চিঠি তুলে দিলেন, যা আমাকে দেওয়া পূর্ববর্তী সমনটি বাতিল করেছিল। আমি মন্ত্রীর কাছে এর অর্থ জানতে চাইলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, শেখ আবু নাসেরের মধ্যস্থতায় সরকার এবং জলিলের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং সরকার তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্নেল তাহেরের সামরিক আদালত প্রমাণাদি যাচাই না করেই, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে তাকে কেবল সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল এবং আটকাবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছিল। জলিল পরবর্তীতে সিরাজুল আলম খান কাপালিক, আবদুর রব এবং শাহজাহান সিরাজের মদদপুষ্ট তথাকথিত বামপন্থী রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হন। বেশ কয়েক বছর পর, তিনি জাসদ ছেড়ে দেন এবং ভোল পাল্টে পুরোপুরি ডিগবাজি খেয়ে একটি “ইসলামি” রাজনৈতিক দলের প্রধান হন।সরকারি নীতি আশির দশকের কোনো এক সময়ে তিনি পাকিস্তানে মৃত্যুবরণ করেন—যে দেশের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে তিনি লড়াই করেছিলেন।” ইন ওয়ান লাইফ: দ্য মেমোয়ার্স অব আ থার্ড ওয়ার্ল্ড সিভিল সারভেন্ট, কামাল সিদ্দিকী, ২য় খন্ড, এপিপিএল, ২০২৪। পৃ ১৬০-১৬২

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভারত থেকে ২০০ রেলকোচ ক্রয়: শেখ হাসিনা সরকারের করা চুক্তি বাতিল নয়, বাস্তবায়ন করছে বিএনপি, এ মাসেই আসছে ২০টি কোচ ঋণ খেলাপিদের ১ লাখ কোটি টাকা সুদ মওকুফ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা সাবেক প্রধান বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল যা-ই ঘটুক না কেন, মাথা উঁচু করে বিদায় নেব: রোনালদো নাহিদের রেকর্ড ম্লান, হারারেতে বেহাল ব্যাটিংয়ে হারল বাংলাদেশ ইয়ামাল: মুসলিম হওয়ায় আমি শরীরে ট্যাটু আঁকাতে পারব না প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনায় রাজনীতির চর্চা: বাধ্যতামূলক হচ্ছে জিয়া পরিবারের ৩ বই পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ৩ ৫৫ লাখ গ্রাহক ২৬৪ কোটি টাকার ফাঁদে: প্রিপেইড মিটার ভাড়া নিয়ে বিএনপির প্রচারণা ছিলো গুজব ব্যালোগানের শাস্তি স্থগিতের ঘটনায় ফিফা ‘সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে’: উয়েফা রোহিঙ্গাদের হাতে ৮ হাজার একর বনভূমি উজাড়ের ফল: পাহাড় ধসে ৩ ঘণ্টায় ঝরল ৯টি প্রাণ অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহকারীর থাপ্পড়, সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দ্বন্দ্ব চরমে আওয়ামী লীগ আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে অবদান রাখা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দুই বিদেশি নারীকে অপহরণের পর গণধর্ষণে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যসহ আটক ৪ একই গ্রাহকের একই ব্যবহারে প্রি-পেইড মিটারে জুনে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ-তিন গুণ! পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করবে সরকার মালয়েশিয়ায় রাতভর সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ২০০ রাষ্ট্রপতি: গ্রামবাংলা আমাদের শিকড়, শক্তি ও সম্ভাবনার আধার জুলাই নিয়ে মন্তব্য: আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ট্রাম্পের এক ফোন কলেই বদলে গেল ফিফার নিয়ম, বিতর্কের ঝড়