বাংলাদেশ : বাতাসে এখন শুধু লাশের গন্ধ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ : বাতাসে এখন শুধু লাশের গন্ধ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ |
তেইশ বছরের এক যুবক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোটর গ্যারেজে ইঞ্জিন ম্যাকানিকের কাজ। পাশের মেসে খাবার খেয়ে রাতে দোকানেই ঘুমিয়ে পড়া। এই ছিল চঞ্চল ভৌমিকের জীবন। সাত বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার দিনগুলো। পিতৃহীন পরিবারে প্রতিবন্ধী ভাই আর মাকে নিয়ে সংসার চালাতো এই তেইশ বছরের ছেলেটা। আর এখন সেই পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। শুক্রবার গভীর রাতে কিছু মানুষ এসে গ্যারেজের শাটারের নিচে আগুন লাগিয়ে দেয়। পাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন লোক ঘুরাঘুরি করছে। একজন লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাপড় জমিয়ে শাটারে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। লোকটি সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে। আগুন যখন দোকানে ছড়িয়ে পড়ে, তখন পালিয়ে যায়। ভেতরে পেট্রল

আর মবিল থাকায় মুহূর্তেই আগুন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। চঞ্চল জীবন বাঁচাতে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় তার শরীর। পরে ফায়ার সার্ভিস আর পুলিশ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনাটি মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মনে পড়ে যায় দিপু দাশের কথা। মনে পড়ে যায় আরও অনেকের কথা। একটা নির্দিষ্ট ধরনের মানুষ, একটা নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ, বারবার এভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। চঞ্চল ভৌমিক কারো সাথে বিবাদে জড়ায়নি। কারো সম্পত্তি দখল করেনি। রাজনীতি করেনি। শুধু তার অপরাধ ছিল সে হিন্দু। '২৪ এর জুলাই মাসে যখন দেশজুড়ে দাঙ্গার আগুন জ্বলেছিল, যখন একটি

নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলা হয়েছিল, তখন থেকেই এই দেশে একটা অলিখিত ছাড়পত্র চালু হয়ে গেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, তাদের সম্পত্তি দখল, তাদের নির্মূল করার একটা পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে। আর এই প্রক্রিয়ায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় বসে আছে। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার এই নৃশংসতার নীরব সমর্থক। বিদেশি অর্থায়নে, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে যে ক্যু সংঘটিত হয়েছে, তার ফসল এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। চঞ্চল ভৌমিকের মতো হাজারো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটা পরিবার যখন তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারায়, তখন শুধু একজন মানুষ মারা যায় না, একটা পুরো পরিবার নিঃস্ব

হয়ে যায়। চঞ্চলের মা এখন কীভাবে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বাঁচবে? কে তাদের দেখভাল করবে? এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই। যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে তাদের কাছে এসব প্রশ্নের কোনো গুরুত্ব নেই। তারা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে। দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার এই যে নীরব প্রক্রিয়া চলছে, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বরং এই সন্ত্রাসের মাধ্যমেই তারা নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে। মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি একসময় তথাকথিত দারিদ্র্য বিমোচনের নামে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, সুদের ব্যবসা করে যিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তিনি এখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে এই নৃশংসতার অংশীদার। এই দেশটা এখন কাদের দখলে? যারা গভীর রাতে একজন নিরীহ যুবককে

জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে পারে, যারা একটা দরিদ্র পরিবারকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিতে পারে, তারা কি মানুষ? এরা নরপশু। আর এই নরপশুদের ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছে যারা ক্ষমতায় বসে আছে, তারাও সমান অপরাধী। প্রতিটি হামলা, প্রতিটি হত্যা, প্রতিটি সংখ্যালঘু পরিবারের ধ্বংস হওয়ার দায় তাদের ওপর বর্তায়। চঞ্চল ভৌমিকের মৃত্যুর বিচার হবে কিনা জানি না। এই দেশে এখন আর বিচার বলে কিছু নেই। যে ব্যবস্থা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে আইনের শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? কিন্তু যেটা নিশ্চিত, সেটা হলো চঞ্চলের মা আর প্রতিবন্ধী ভাই এখন সম্পূর্ণ অসহায়। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আর এই অন্ধকার শুধু তাদের পরিবারেই নয়, এই দেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নেমে

এসেছে। কত দিন আর এই নির্মমতা দেখতে হবে? কত আরও চঞ্চল পুড়তে হবে? কত আরও পরিবার নিঃস্ব হবে? এই প্রশ্নগুলো মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। আর প্রতিবার মনে হয়, এ কেমন বাংলাদেশ! যে দেশে একসময় সব ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করতো, সেই দেশেই এখন একটা ধর্মীয় পরিচয় মৃত্যুদণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কোনো দেশ নয়, এটা একটা জবাইখানা। আর এই জবাইখানার কসাইরা এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে আছে। ইউনূস আর তার দল বধ্যপরিকর, কারণ তারা এই হত্যাকাণ্ডের নীরব সমর্থক, প্রত্যক্ষ মদদদাতা। চঞ্চল ভৌমিকের মৃত্যু আমাদেরকে চিৎকার করে বলছে, এই দেশে এখন আর নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। যদি তুমি সংখ্যালঘু হও, তাহলে তোমার জীবনের কোনো মূল্য

নেই। তুমি যতই পরিশ্রম করো, যতই সৎভাবে জীবিকা অর্জন করো, যতই আইনমান্য নাগরিক হও, তোমার ধর্মীয় পরিচয়ই তোমার মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারে। এই হলো বাস্তবতা। এই হলো মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের আমলে বাংলাদেশের চিত্র, যেখানে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। বিচারের কোনো ব্যবস্থা নেই। মানবতা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। আছে শুধু নৃশংসতা, বর্বরতা আর অন্ধকার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী বললেন, আর বিয়ে করতে চাই না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মৃত্যু বেড়ে ৮ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মূল অভিযুক্ত অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ৬৪ কোটি টাকা জরিমানা পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান ‘নাই বাওয়া, হামার কিচ্ছু নাই, ঘর-বাড়ি সব হারাচি’ ‘এত বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হবে ভাবিনি, কক্সবাজারের আনন্দটাই মাটি’ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ১০ গ্রাজুয়েটের তালিকায় ৭ জনই বাংলাদেশি ফিফার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ফিফার কাছে অভিযোগ করল মিশর পেনাল্টি মিস করার পর যা ভেবেছিলেন মেসি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা গ্রেফতার ১৩ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু ‘খালেদা জিয়া ১ টাকা রেখে পুরো বেতন এতিমখানায় দান করে দিতেন’, জানালেন প্রেস সচিব