ইউনুসনামা : ক্ষমতা দখলের পর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের হিসাব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৯:৫১ অপরাহ্ণ

ইউনুসনামা : ক্ষমতা দখলের পর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের হিসাব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৫১ 16 ভিউ
জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর যে লোকটা ক্ষমতা দখল করেছে, তার জীবনবৃত্তান্তটা একবার দেখা যাক। মুহাম্মদ ইউনুস সারাজীবন দরিদ্র মানুষের ঘাড়ে সুদের বোঝা চাপিয়ে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। গ্রামীণ বাঙ্ক বলে যে প্রতিষ্ঠান, সেখানে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে যে হারে সুদ আদায় করা হতো, তা দেশের যেকোনো মহাজনকে হার মানায়। একটা হিসাব আছে, গ্রামীণ বাঙ্কের সুদের হার কার্যকরভাবে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত উঠে যেত। এই লোক দরিদ্র্য বিমোচনের নামে আসলে দারিদ্র্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, তাকে স্থায়ী করেছে। এই একই লোক এখন পুরো দেশকে বিদেশী পুঁজির কাছে বিকিয়ে দিচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আর বিশ্বব্যাংকের সাথে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর

শর্ত দেখলে স্পষ্ট হয় কার স্বার্থে এই সরকার কাজ করছে। ভর্তুকি তুলে দেওয়া, সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ, শ্রম আইন শিথিল করা, এসবই তো নব্যউদারবাদী এজেন্ডার ক্লাসিক্যাল পদক্ষেপ। দেশের রিজার্ভ যা ছিল তা ইতোমধ্যে হু হু করে কমছে, কারণ বিদেশী ঋণদাতাদের শর্ত মানতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানার অবস্থা দেখুন। তৈরি পোশাক খাত যেটা দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ যোগান দেয়, সেখানে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে। উল্টো শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কারখানা মালিকদের যারা ইউনুসের এই ক্যুতে অর্থায়ন করেছে, তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে শ্রমিক আন্দোলনকে পুরোপুরি

দমন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুরে যে ধরনের পুলিশি নির্যাতন শ্রমিকদের ওপর চালানো হচ্ছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। কৃষি ক্ষেত্রে যা ঘটছে তা আরও ভয়াবহ। সার, বীজ, কীটনাশকের ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এক মৌসুমেই উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। কিন্তু কৃষকরা তাদের ফসলের দাম পাচ্ছে না। মাঝখানে মজুত ব্যবসায়ী আর কর্পোরেট কোম্পানিগুলো মুনাফা লুটছে। খাদ্য নিরাপত্তার যে ভিত্তি, তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার একটা সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কৃষি বাজারে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশীয় কৃষকরা সম্পূর্ণভাবে তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা দেখলে বোঝা

যায় কী ধরনের প্রজন্ম তৈরি করতে চাওয়া হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সেক্যুলার চিন্তাভাবনা, বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। বদলে ঢোকানো হচ্ছে মৌলবাদী আদর্শ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব প্রগতিশীল শিক্ষক ছিলেন, তাদের একে একে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জায়গায় বসানো হচ্ছে জামায়াত ঘেঁষা আর মৌলবাদী ব্যক্তিদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটছে তা তো একেবারে নগ্ন আগ্রাসন। ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু শিবির আর এ ধরনের সংগঠনগুলোকে খোলা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়ানোর। স্বাস্থ্য খাতে যা করা হচ্ছে তা আরও ভয়ংকর। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওষুধ শিল্পে যেসব দেশীয় কোম্পানি ছিল, যারা মোটামুটি সাশ্রয়ী দামে ওষুধ সরবরাহ করত, তাদের ওপর চাপ

দেওয়া হচ্ছে। পেটেন্ট আইন পরিবর্তন করে বিদেশী ওষুধ কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মানে হচ্ছে সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসা পাবে না, কারণ ওষুধের দাম হবে আকাশছোঁয়া। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে আক্রমণ চলছে, তার একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরই ৫০০টিরও বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মন্দির ভাঙা, জমি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চলছে। আর সরকার নীরব দর্শক। কারণ এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতাটা তাদের রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে তাদের সম্পত্তি দখল করা যায়। এটা যে শুধু ধর্মীয় উন্মাদনা নয়, এর পেছনে আছে অর্থনৈতিক লুটপাটের হিসাব। বিচার

বিভাগ এখন পুরোপুরি ক্ষমতাসীনদের হাতের পুতুল। যে বিচারপতিরা স্বাধীন মত দিতেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতে এখন যেসব রায় হচ্ছে, সেগুলো আগে থেকেই লেখা থাকে সরকারের দপ্তরে। রাজনৈতিক মামলায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের একের পর এক সাজা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জুলাইয়ের দাঙ্গায় যারা সহিংসতা চালিয়েছিল, লুটপাট করেছিল, মানুষ খুন করেছিল, তাদের একজনেরও বিচার হচ্ছে না। উল্টো তাদের অনেককে সরকারি চাকরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। গণমাধ্যমের যে করুণ অবস্থা এখন, তা দেখলে মনে হয় উত্তর কোরিয়ায় আছি। সব টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, অনলাইন মাধ্যম এখন সরকারের প্রচারপত্র হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে, অপহরণ করা হচ্ছে। যে কয়েকজন সাংবাদিক এখনও সত্য বলার

চেষ্টা করছেন, তারা হয় দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, নয়তো আত্মগোপনে আছেন। সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কলামে এখন শুধু ইউনুসের গুণগান থাকে। পুলিশ আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। র‍্যাব যে প্রতিষ্ঠান আগে বিচার বহির্ভূত হত্যার জন্য কুখ্যাত ছিল, তাকে এখন আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তুলে নিয়ে যাওয়া, নির্যাতন করা, গুম করে ফেলা এসব এখন নিয়মিত ঘটনা। আগে অন্তত কিছুটা লুকিয়ে এসব করা হতো, এখন তো প্রকাশ্যেই চলছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মূল্যস্ফীতি এখন ১৫ শতাংশের ওপরে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ধনীদের একটা টাকাও আদায় করা হচ্ছে না। বরং তাদের ঋণ মওকুফ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যখন দুই বেলা খেতে পারছে না, তখন ক্ষমতাসীন চক্র আর তাদের দোসররা বিদেশে টাকা পাচার করছে। প্রশাসনে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা দেখলে বোঝা যায় কাদের সরকার এটা। যোগ্যতা, মেধা, অভিজ্ঞতা কিছুই দেখা হচ্ছে না। দেখা হচ্ছে শুধু আদর্শগত আনুগত্য। জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিল, বিএনপির রাজনীতি করেছে, এসব হলেই চাকরি পাওয়া যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা আসলে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা সাম্প্রদায়িকীকরণ। বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে যে ধরনের চুক্তি হচ্ছে, তা দেখলে মনে হয় দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামরিক ঘাঁটি দেওয়ার কথা উঠছে, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেওয়ার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে, সমুদ্র এলাকায় বিদেশী কোম্পানিগুলোকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বার্থ বলে কিছু নেই এই সরকারের কাছে। যে যা ইচ্ছা করছে, যে যত বেশি দিচ্ছে, তাকে তত বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখন নির্বাচনের নামে যে নাটক সাজানো হচ্ছে, সেটা আরও হাস্যকর। নির্বাচন কমিশনে বসানো হয়েছে এমন লোকদের যারা প্রকাশ্যেই ইউনুসের সমর্থক। ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার জন্য নানা ধরনের বাধা তৈরি করা হয়েছে। প্রচার করার স্বাধীনতা নেই, জনসভা করতে দেওয়া হচ্ছে না, এজেন্ট নিয়োগ করতে পারছে না বিরোধী দল। এই অবস্থায় যে নির্বাচন হবে, তা কখনোই গণতান্ত্রিক হতে পারে না। এই পুরো ধ্বংসযজ্ঞটা আসলে পরিকল্পিত। লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে এমন একটা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চায় এই অঞ্চলে একটা দুর্বল, নির্ভরশীল রাষ্ট্র, যাকে তারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে। ইউনুস ঠিক সেই কাজটাই করছে। এবং এই কাজের বিনিময়ে সে পাচ্ছে ক্ষমতা আর সম্পদ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি নির্বাচনের নামে দখলদার ইউনুসের বানানো মেটিক্যুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে যা চলছে, তাকে এক কথায় বলা যায় সিট ভাগাভাগির নির্বাচন। রক্তের দামে কেনা ইউনুসের ক্ষমতার খতিয়ান ইউনুসনামা : ক্ষমতা দখলের পর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের হিসাব রাজনীতির চোরাবালি: আদর্শের বিসর্জন ও এক ‘অরসেলাইন’ নির্বাচনের আখ্যান বিকাশে ভোট কেনা ও কেন্দ্র দখলের ‘নীল নকশা’: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জিম্মি করার ভয়ানক ছক জামায়াতের লিফলেট বিতরণ ও দেয়াললিখন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ জামায়াত কানেকশন ও দিল্লি সফর: সারাহ কুককে ফিরিয়ে দিল সাউথ ব্লক ‘নাজুক নিরাপত্তা’: ভারতের কড়া সিদ্ধান্ত—পশ্চিমারা কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে? শতাংশের অদ্ভুত সমীকরণ: তারেক রহমানের ‘ফ্লাইওভার তত্ত্বে’ হাসছে সাধারণ মানুষ অভিযোগের পাহাড়, নীরব প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি কোথায় খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস কর্তৃক মেটিক্যুলাস ডিজাইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতাসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে জুলাইয়ের পর রান্নাঘরেও বিপ্লব, গ্যাস সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য : আমদানি কমলো দেড় লাখ টন, চুলা নিভলো কোটি ঘরে ডেভিল হান্টের নামে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে কাঁপছে ঢাকার মসনদ, কী বার্তা আসছে দিল্লি থেকে? দিল্লির প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মিডিয়ার মুখোমুখি শেখ হাসিনা কড়াইল বস্তিতে ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ইসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্যুৎ খাতের নীরব সংকট, বকেয়া বিল ও বৈষম্যমূলক আচরণ বিনিয়োগ আস্থা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, নীরবতার কমিশন তারেক রহমান, বিএনপি, এনসিপি ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার মুখোশ ভোটাধিকার হরণ ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের নাটক: গণতন্ত্রের নামে এক নির্মম রাষ্ট্রীয় প্রহসন জঙ্গিদের নতুন বৈশ্বিক হাব বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় চরম ঝুঁকির মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা!