ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না

রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩

২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে?

রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা

আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি

শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম

ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশ আজ আর শুধু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নেই—দেশটি প্রবেশ করেছে এক গভীর অর্থনৈতিক অস্থিরতার যুগে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা, অনিশ্চয়তা ও নীতিগত অদূরদর্শিতা দেখা যাচ্ছে, তা এখন আর লুকানোর মতো নয়। বরং তথ্যই বলছে—এই সরকার উন্নয়ন নয়, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনীতিকে দ্রুত দুর্বল করে ফেলছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫৫ ডলার, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক দশক আগেও এই পরিমাণ ছিল ২০০ ডলারের নিচে। অর্থাৎ, ঋণ বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে বহু গুণ বেশি। প্রশ্ন হলো—এই ঋণের বিপরীতে আমরা কী পাচ্ছি? ১. ঋণ বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে

না একটি সুস্থ অর্থনীতিতে ঋণ তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়—শিল্প, রপ্তানি, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে: রপ্তানি প্রবৃদ্ধি স্থবির শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ কমেছে বৈদেশিক বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা ব্যাংকিং খাতে আস্থাহীনতা ডলারের সরবরাহ সংকট বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে—বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা কমছে, মূলত নীতিগত অস্থিরতা ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে। অর্থাৎ, ঋণ নেওয়া হচ্ছে—কিন্তু সেই ঋণ থেকে অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে না। ২. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা বর্তমানে দেশে প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতি সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। খাদ্যদ্রব্যে ১২–১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষাখরচ—সবই নাগালের বাইরে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কী করেছে? কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণ নেই সরবরাহ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ নেই সিন্ডিকেট ভাঙার রাজনৈতিক সাহস নেই শুধু “পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ” ধরনের বক্তব্য ফলে মুদ্রাস্ফীতি এখন

আর অর্থনৈতিক সমস্যা নয়—এটি সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ৩. রাজস্ব আয় কমছে, করের বোঝা বাড়ছে বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ কমছে, কিন্তু ব্যয় বাড়ছে। ফলাফল: নতুন নতুন কর ভ্যাট বৃদ্ধির চাপ মধ্যবিত্তের ওপর বোঝা ক্ষুদ্র ব্যবসার শ্বাসরোধ এটি ক্লাসিক debt trap economics—যেখানে সরকার জনগণের সক্ষমতা না বাড়িয়ে তাদের ওপর বোঝা চাপায়। ৪. বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হলো—তারা অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বর্তমানে: রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ নীতির ধারাবাহিকতা নেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দ্বিধা ফলাফল: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায়। কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অর্থনীতি দাঁড়ায় আস্থায়, আদেশে নয়। ৫. উন্নয়নের ভাষা, কিন্তু রক্ষণাত্মক বাস্তবতা সরকার বারবার বলছে—“সংস্কার চলছে”, “ব্যবস্থা পুনর্গঠন হচ্ছে”, “অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে”। কিন্তু বাস্তবে: কর্মসংস্থান

তৈরি হয়নি দারিদ্র্য কমেনি আয় বৈষম্য বেড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল শুধু ঋণ নিয়ে রাষ্ট্র চলে না—রাষ্ট্র চলে উৎপাদনে, দক্ষতায় ও বিশ্বাসে। ৬. এই ঋণ কে শোধ করবে? সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন—এই বিপুল ঋণ শোধ করবে কে? এই সরকারের সদস্যরা? না। এই সরকারের আমলারা? না। এই সরকারের নীতিনির্ধারকরা? না। শোধ করবে: আগামী প্রজন্ম আজকের শিশুরা ভবিষ্যতের শ্রমিকরা তারা জন্মের আগেই ঋণগ্রস্ত। এটি উন্নয়ন নয়—এটি ভবিষ্যৎ-হরণ। নীতি ছাড়া অর্থনীতি চলে না অন্তর্বর্তী সরকার এখনো বোঝেনি—অর্থনীতি শুধু হিসাবের খাতা নয়। এটি মানুষের জীবন। আপনি যদি: আস্থা তৈরি না করেন নীতি স্পষ্ট না করেন বাজারকে নিয়ন্ত্রণ না করেন উৎপাদন বাড়াতে না পারেন তাহলে আপনি যতই ঋণ নিন—দেশ এগোবে না। বাংলাদেশের সমস্যা শুধু ঋণ নয়। সমস্যা হলো—দায়িত্বহীন অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ছাত্রলীগ নেতা দেশে ফিরেছেন ভেবে চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পেটালো পুলিশ দিনাজপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করলেন জামায়াতের গুপ্ত কর্মী তারেক নানা অজুহাতে সাধারণ কৃষকদের ধান ফেরত, প্রভাবশালীদের নিম্নমানের ধান কিনছে সরকার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না বগুড়ায় একরাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, জড়িতদের পরিচয় অজানা রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩ ২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে? ফায়ার স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত নারী এনে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর স্টেশন অফিসারের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন ইরানে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয় যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার এডিসিকে ২৪ দিনে ৩ বার বদলি, নেপথ্যে কে?