রাজনীতির চোরাবালি: আদর্শের বিসর্জন ও এক ‘অরসেলাইন’ নির্বাচনের আখ্যান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

রাজনীতির চোরাবালি: আদর্শের বিসর্জন ও এক ‘অরসেলাইন’ নির্বাচনের আখ্যান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৪৬ 12 ভিউ
বাংলার আকাশে এখন রাজনীতির যে মেঘ জমেছে, তা বৃষ্টি ঝরাতে নয়, বরং এক ভয়াবহ ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে দেশের মাটিতে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত মিশে আছে, সেখানে আজ রাজনীতির মেরুকরণ দেখে মনে হয়—ইতিহাস বুঝি বড় বেশি নিষ্ঠুর কৌতুক করতে ভালোবাসে। আজ যে দৃশ্যপট আমরা দেখছি, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ দুই দশকের সুনিপুণ এক মরণফাঁদ, যার সুতো রয়েছে পর্দার অন্তরালে থাকা কিছু কুশলী কারিগরের হাতে। সবচেয়ে বড় বিস্ময় জাগে যখন দেখি, জামায়াতের পতাকাতলে ‘সাহাবী’ কৃষ্ণ নন্দীরা সমবেত হন। প্রশ্ন জাগে মনে—যিনি যজ্ঞের আগুন আর বেদের শ্লোক নিয়ে বড় হয়েছেন, তিনি যখন ‘কোরআনের শাসন’ কায়েমের স্বপ্নে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান,

তখন সেই আদর্শের ভিত্তি আসলে কী? এটি কি কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নতুন উদাহরণ, নাকি নিছকই ক্ষমতার লোভে করা এক অদ্ভুত সার্কাস? একসময় যারা আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলে গালি দিত, আজ তারাই যখন পূজা আর রোজাকে এক পাল্লায় মাপেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে এদের কাছে ধর্ম কেবলই রাজনৈতিক ঢাল। এই সুবিধাবাদী রাজনীতির পেছনে কোন আন্তর্জাতিক শক্তির ইশারা কাজ করছে, তা ভাববার সময় এসেছে। ছোট ভাই তাহমীম ঠিকই বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়; বরং এটি একটি ‘অরসেলাইন নির্বাচন’। যে নির্বাচনের ফলাফল মাসখানেক আগেই কোনো এক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নির্ধারিত হয়ে আছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ভোটের মূল্য

কতটুকু? রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ যে সুপ্ত জামায়াতিদের আস্ফালন, তা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সেই অন্ধকার সময়ের ফসল। সেদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত যে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল, আজ তার ফল ভোগ করছে বাংলাদেশ। দুর্ভাগ্য এই যে, বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি-আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-একই সমতলে দাঁড়িয়ে এই ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৫ বছরের ক্ষমতার ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে বিএনপি আজ এতটাই বিভোর যে, তারা বুঝতে পারছে না তাদের পায়ের তলার মাটি কখন জামায়াত কেড়ে নিয়েছে। ২০০১ সালে যেভাবে র‍্যাব এবং ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আড়ালে ছাত্রদলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, ইতিহাস আজ আবার সেই একই পথে হাঁটছে।

বিএনপি যখন ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার স্বপ্নে বিভোর ছিল, জামায়াত তখন সুকৌশলে রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করেছে। আজ বিএনপি সেই পেটখারাপের যন্ত্রণায় ভুগছে, যার উপশম তাদের জানা নেই। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ আজ এক মহাসংকটে। নৌকা প্রতীকহীন, নেতৃত্বহীন এক নির্বাচনের পথে তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে কি এই নির্বাচন বর্জনই হবে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ? যে নির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকারের বদলে পোস্টাল ভোটের জালিয়াতি আর ভৌগোলিক ভোটার স্থানান্তরের পরিকল্পনা মুখ্য, সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে তো আত্মহত্যার শামিল। তুরস্কের জালিয়াতির মডেল আজ বাংলাদেশে প্রয়োগের যে নীল নকশা পাকিস্তান ও তুরস্কের সহায়তায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, তাতে ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। জামায়াত এখন ‘মরণ কামড়’

দেওয়ার অপেক্ষায়। তারা ইসরায়েলি মোসাদ থেকে শুরু করে সবার সঙ্গেই হাত মেলাতে প্রস্তুত, যদি বিনিময়ে রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়া যায়। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট-মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশকে এক জঙ্গিবাদী উগ্রপন্থার চারণভূমিতে পরিণত করা। সময় এসেছে সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার। এই ‘অরসেলাইন’ নির্বাচনের কারসাজি আর রাজনীতির এই পচনশীল রূপ দেখেও যদি আমরা নিশ্চুপ থাকি, তবে আগামীর ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। নৌকার ভোটারদের জন্য বর্জনই হোক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড এক প্রতিবাদ। কারণ, যেখানে গণতন্ত্র নেই, যেখানে ভোট কেবল এক সাজানো নাটক, সেখানে অংশগ্রহণ মানেই সেই মিথ্যাকে বৈধতা দেওয়া। বাঙালিকে মনে রাখতে হবে, শকুনরা যখন আকাশে ওড়ে, তখন তারা নিচে কোনো মৃতদেহেরই অপেক্ষা করে।

আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্র নামক সেই মৃতদেহটির ওপর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ভোজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই ভোজ রুখে দেওয়ার শক্তি কি আমাদের আছে? যদি না থাকে তবে বর্জনই হোক আমাদের প্রতিবাদ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চীরজীবি হউক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি নির্বাচনের নামে দখলদার ইউনুসের বানানো মেটিক্যুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে যা চলছে, তাকে এক কথায় বলা যায় সিট ভাগাভাগির নির্বাচন। রক্তের দামে কেনা ইউনুসের ক্ষমতার খতিয়ান ইউনুসনামা : ক্ষমতা দখলের পর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের হিসাব রাজনীতির চোরাবালি: আদর্শের বিসর্জন ও এক ‘অরসেলাইন’ নির্বাচনের আখ্যান বিকাশে ভোট কেনা ও কেন্দ্র দখলের ‘নীল নকশা’: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জিম্মি করার ভয়ানক ছক জামায়াতের লিফলেট বিতরণ ও দেয়াললিখন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ জামায়াত কানেকশন ও দিল্লি সফর: সারাহ কুককে ফিরিয়ে দিল সাউথ ব্লক ‘নাজুক নিরাপত্তা’: ভারতের কড়া সিদ্ধান্ত—পশ্চিমারা কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে? শতাংশের অদ্ভুত সমীকরণ: তারেক রহমানের ‘ফ্লাইওভার তত্ত্বে’ হাসছে সাধারণ মানুষ অভিযোগের পাহাড়, নীরব প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি কোথায় খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস কর্তৃক মেটিক্যুলাস ডিজাইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও ছাত্র-জনতাসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে জুলাইয়ের পর রান্নাঘরেও বিপ্লব, গ্যাস সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য : আমদানি কমলো দেড় লাখ টন, চুলা নিভলো কোটি ঘরে ডেভিল হান্টের নামে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে কাঁপছে ঢাকার মসনদ, কী বার্তা আসছে দিল্লি থেকে? দিল্লির প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মিডিয়ার মুখোমুখি শেখ হাসিনা কড়াইল বস্তিতে ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, ইসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্যুৎ খাতের নীরব সংকট, বকেয়া বিল ও বৈষম্যমূলক আচরণ বিনিয়োগ আস্থা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, নীরবতার কমিশন তারেক রহমান, বিএনপি, এনসিপি ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার মুখোশ ভোটাধিকার হরণ ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের নাটক: গণতন্ত্রের নামে এক নির্মম রাষ্ট্রীয় প্রহসন জঙ্গিদের নতুন বৈশ্বিক হাব বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় চরম ঝুঁকির মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা!