রপ্তানি খাতে বড় পতন, সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
     ২:০০ অপরাহ্ণ

রপ্তানি খাতে বড় পতন, সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২:০০ 1 ভিউ
রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতা ও নানা আলোচিত ইস্যুর আড়ালে নীরবে গভীর সংকটে পড়ছে দেশের রপ্তানি খাত। অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই খাতে টানা পাঁচ মাস ধরে আয় কমছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের একই সময়ের তুলনায় কার্যাদেশ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। আগামী জুন মাসের আগে এই খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তাঁরা। রপ্তানি আয় কমার পেছনে বৈশ্বিক চাহিদা সংকোচন, দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নীতি সহায়তার ঘাটতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে দেশের রপ্তানি খাত আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলারে। আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নিম্নমুখী প্রবণতা এখনো কাটেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৩৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বা প্রায় ৫৪ কোটি ডলার কম। সংখ্যার হিসাবে এই ঘাটতি খুব বড় না মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ, এই ছয় মাসে একবারের জন্যও রপ্তানি আয়ে পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অক্টোবরে রপ্তানি কমেছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে

৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে এসে পতনের হার আরও বেড়েছে। তাঁদের মতে, ধারাবাহিকভাবে এমন পতন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের। রিজার্ভের ওপর নির্ভর করে আমদানি সক্ষমতা, শিল্প উৎপাদন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ। খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় রিজার্ভ দুর্বল হলে এলসি খোলায় জটিলতা বাড়ে, ডলারের দাম বেড়ে যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত ডলার প্রবাহ ও স্থিতিশীল রিজার্ভ বজায় রাখা সরকারের জন্য বড়

চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানি আয় কমে গেলে এর প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পরিবহন, বন্দর, ব্যাংক-বীমা ও সেবা খাতেও চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে কর্মসংস্থান রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আরও কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা। ফলে রপ্তানি খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা মানেই কর্মসংস্থানে বড় ঝুঁকি। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগামী জুন মাস পর্যন্ত রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার অভাব রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলেছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো নগদ সহায়তা,

করছাড় ও সহজ ঋণ সুবিধা দিয়ে রপ্তানি টিকিয়ে রাখলেও বাংলাদেশ সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভ্যন্তরীণভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন সরকারের অপেক্ষায় ক্রেতাদের অর্ডার স্থগিত রাখাও পরিস্থিতি জটিল করেছে। তাঁর কারখানায় বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম কার্যাদেশ রয়েছে বলে জানান তিনি। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব টানা পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশের রপ্তানিকে নেতিবাচক ধারায় ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশে উৎপাদন ও

রপ্তানি প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ক্রেতারা ধীরে ধীরে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন। চলতি বছরই বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। গ্র্যাজুয়েশনের পর শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা বাণিজ্যিক সুযোগ ধীরে ধীরে উঠে যাবে। প্রস্তুতি পর্যাপ্ত না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব রপ্তানি খাতে আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে এলডিসি উত্তরণের ঠিক আগমুহূর্তে রপ্তানি খাতের এই টানা ভাটা দেশের অর্থনীতির জন্য স্পষ্ট সতর্কসংকেত। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে সামনে আরও বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রপ্তানি খাতে বড় পতন, সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি: দুর্নীতির মচ্ছবে ব্যাস্ত ইউনুস সরকারের বিশেষ সহকারী আবারো কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: মামলা ছাড়া আটক হুমায়ূন কবির, মৃত্যুর মিছিলে আরেকটি নাম চট্টগ্রাম বন্দরে শিবির–এনসিপি কোটায় নিয়োগ: ৯ জনকে পদায়ন নিজেদের নেওয়া ব্যাংক ঋণের চাপে অথৈ সমুদ্রে ইউনূস সরকার, অজানা গন্তব্যে অর্থনীতি ব্যালট বাক্স নয়, লাশের হিসাবই যখন বাস্তবতা এবার নিশানা বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি : হাজার বছরের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি মুছে বর্বর ধর্মরাষ্ট্রের স্বপ্ন রক্তের দাগ মুছবে কে? নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে গেছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চাইতে নেমে ড. ইউনূস প্রমাণ করলেন—তিনি আর প্রধান উপদেষ্টা নন, তিনি একটি পক্ষের সক্রিয় কর্মী আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন কঠিন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে বিতর্কিত নিয়োগ নয়জন জুলাই সন্ত্রাসীকে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হ্যাঁ কিংবা না কোনো শব্দেই আমরা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন কথা না বলি।কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফাঁদটাই হলো আমাদের মুখ খুলিয়ে দেওয়া। ইউনুস থেকে মাচাদো: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে? কুপিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ৫ পুলিশ হাসপাতালে জাহাজ কেনার বাকি ২ মাস ঋণ চুক্তিতে ব্যর্থ সরকার ২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যু ১০০৮ শিশুর বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার খবর কী সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের মতামতের গুরুত্ব নেই মনে করে ৭৩% মানুষ আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া রাজধানীতে আজ কোথায় কী