ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কায় সংখ্যালঘুরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কায় সংখ্যালঘুরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:৩৬ 21 ভিউ
আগামী মাসে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কায় রয়েছেন দেশের সংখ্যালঘুরা। তাদেরকে যেমন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে তেমনি নির্বাচনের পরও তাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আজ শনিবার সারাদেশে ৯৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) উৎপল বিশ্বাস, বরিশাল-৫ আসনের বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীস, খুলনা ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) গণফোরাম মনোনীত দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকসহ আরও বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু সদস্য। এরইমধ্যে বিএনপির সংখ্যালঘু প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কেও দল থেকে নির্বাচন নিয়ে সহযোগিতা না করার অভিযোগ পাওয়া

গেছে। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হামলা-মামলা করার অভিযোগও উঠেছে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দেশজুড়ে যে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর পরই এই সহিংসতা শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে কাজ করেছে। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে (যেমন: ভোলা, বরিশাল, বাগেরহাট, যশোর, ও

সাতক্ষীরা) নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। নির্যাতনের ধরন ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ: গণধর্ষণ: ভোলা জেলার চরফ্যাশনে সংখ্যালঘু নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউই রেহাই পাননি। পূর্ণিমা রানী শীলের ধর্ষণের ঘটনাটি এই সময়ের নিষ্ঠুরতম প্রতীক হয়ে ওঠে। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ: হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করার পর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। শারীরিক নির্যাতন ও হত্যা: বহু মানুষকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মন্দির ভাঙচুর ও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার মতো ধর্মীয় অবমাননাকর ঘটনাও ঘটে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সহিংসতা তদন্তে

বিচারপতি মো. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। ২০১১ সালে জমা দেওয়া এই কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়: ১. ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর প্রায় ১৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২. প্রতিবেদনে বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের এই সহিংসতার উস্কানিদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে দায়ী করা হয়। ৩. রিপোর্টে ৩,৬২৫ জন সরাসরি জড়িত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এই সহিংসতা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ছিল না, বরং এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবাধিকারের ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্তমান প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। তারা মনে করছেন, যে হারে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে এবং যে ধরনের কারিগরি ও আইনি অজুহাত দেখানো হচ্ছে, তা তৃণমূল পর্যায়ে একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, “যখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের শক্তিশালী প্রার্থীদের গণহারে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। এটি কেবল প্রতিনিধিত্বের অভাব নয়, বরং গণতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের ওপর বড় আঘাত।” বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির অনুকূলে প্রশাসনিক তৎপরতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়। ২০০১ সালের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে

তারা সতর্ক করে বলেন, “অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আজকের এই শঙ্কাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যদি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচনের পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তারা আরও যোগ করেন যে, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে কেবল ভোট গ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিখোঁজ দাবি করা এনসিপি সদস্য ওয়াসিমকে পাওয়া গেল মাদক নিরাময় কেন্দ্রে! প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০ লাখ টাকায় চাকরির চুক্তি, পরীক্ষা ডিভাইসে! সনাতনী ধর্মালম্বীদেরকে হত্যার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ কেরানীগঞ্জ কারাগারে ‘মানবেতর’ জীবন: ১৮০০ বন্দিকে ২৪ ঘণ্টা লকআপ ও খাবার বঞ্চনার অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার যমুনায় বসে গবেষণার বিলাসিতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রির নীল নকশা: কার স্বার্থে এই মহাপরিকল্পনা? রাষ্ট্র ব্যর্থ বলেই বাড়ছে উগ্রবাদ: শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগ্রামের ডাক। বিশেষ কলাম ‘বাংলাদেশে কেন জন্ম নিলাম? এটা অভিশাপ’—গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে এক অসহায় বাবর্চির আর্তনাদ ‘বঙ্গবন্ধু কেবল দলের নন, তিনি আমাদের ঘরের মানুষ, তাকে কেন খলনায়ক বানানো হচ্ছে?’—তরুণের প্রশ্ন আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে অভিযুক্ত হলো গ্রোক যুক্তরাষ্ট্রে যেতে কাদের, কত জামানত লাগবে চট্টগ্রাম থেকে ডলার দিনার রিয়েল পাচার হয় দুবাই-ওমানে বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে অভিশংসন করা হতে পারে, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প ঢাকায় গুলি করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে হত্যা শীত মৌসুমে চোখের রোগবালাই: ঝুঁকি ও লক্ষণ বিএনপি-জামায়াতের কোটিপতি, বাসদের প্রার্থী করেন টিউশনি নিজ ইচ্ছাতেই বিপিএল থেকে সরে গেছেন ভারতীয় উপস্থাপিকা ভারতসহ ৭ দেশ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আসছে প্রথম বিয়ে আমাকে নিজের মূল্য বুঝিয়েছে’