পিবিডিএফ কেলেঙ্কারি: ৫ মাসে ২৩৮৮ জনকে নিয়োগ, কোটি কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে সরকারি চাকরি! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
     ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

পিবিডিএফ কেলেঙ্কারি: ৫ মাসে ২৩৮৮ জনকে নিয়োগ, কোটি কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে সরকারি চাকরি!

বিধিবহির্ভূত নিয়োগের গতি: নাটের গুরু প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, সিন্ডিকেট জড়িত সচিব ও যুগ্ম সচিব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ | ৬:৩৩ 46 ভিউ
বাংলাদেশের সরকারি নিয়োগ ইতিহাসে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অবিশ্বাস্য দ্রুততার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিবিডিএফ)। অভিযোগ উঠেছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাত্র পাঁচ মাসের (১৮৫ দিন) মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ির সাথে প্রায় ২৩৮৮ জন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি পদে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ১২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এই কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এত অল্প সময়ে, এত বিশাল সংখ্যক সরকারি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। পিবিডিএফ-এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের

পর থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া পর্যন্ত যে গতি লক্ষ্য করা গেছে, তা স্বাভাবিক সরকারি প্রক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ বেমানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৩৮৮ জন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে যে পরিমাণ ঘুষ নেওয়া হয়েছে, তার সম্মিলিত পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। চাকরি নিশ্চিত করার শর্তে এই টাকা সরাসরি পিবিডিএফ-এর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী জানান, ‘নিয়োগের আগে থেকেই সিন্ডিকেট জানিয়ে দেয়, টাকা দিলে চাকরি কনফার্ম। আমরা সরকারি চাকরির আশায় সব পুঁজি তুলে তাদের হাতে দিয়েছিলাম। দ্রুত নিয়োগ হলেও এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দুর্নীতির জালে মোড়ানো।’ ২. মূল কারিগর ও প্রভাবশালী

সিন্ডিকেট এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল কারিগর (নাটের গুরু) হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন পিবিডিএফ-এর প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করেন। অভিযোগ উঠেছে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাথে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ইসমাইল হোসেন এবং পিবিডিএফ-এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (যুগ্ম সচিব) মোঃ মাহমুদ হাসান-এর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। এই সিন্ডিকেট নিয়োগ বাণিজ্যের সুবিধাভোগী। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই রাজনৈতিক সুপারিশপ্রাপ্ত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্র শিবির ও এনসিপি (ন্যাশনাল কাউন্সিল পার্টি)-এর প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশ নিয়ে এই চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন। ৩. নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন এবং অবিশ্বাস্য দ্রুততা সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত এক

থেকে দেড় বছর সময় লাগে। সেখানে পিবিডিএফ মাত্র ৫ মাসে (১৮৫ দিনে) তা সম্পন্ন করে সরকারি বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। প্রধান লঙ্ঘনের দিকগুলো নিম্নরূপ: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও পিবিডিএফ কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে, যা সরকারি নিয়োগ বিধির গুরুতর লঙ্ঘন। অবিশ্বাস্য গতির পরীক্ষা প্রক্রিয়া: লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় মাত্র ১২ দিনের মাথায়। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৮০৬ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় মাত্র ৮ দিনের মধ্যে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতো প্রতিষ্ঠান যেখানে এত সংখ্যক প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিতে কয়েক মাস সময় নেয়, সেখানে পিবিডিএফ-এর এই অবিশ্বাস্য গতিবিধিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন

বিশেষজ্ঞ মহল। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে গোপনীয়তা: দ্রুত ফল প্রকাশ করা হলেও, তা ওয়েবসাইটে বা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করে শুধু নির্বাচিত প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে জানানো হয়। ৪. পদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও গোপন যোগদান অনুষ্ঠান এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুতর দিক হলো, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের সংখ্যা হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা। প্রাথমিকভাবে ১৬৬৫টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে, একই ফলাফলের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আরও ৭২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১৬৬৫ জনের নিয়োগ বেড়ে মোট ২৩৮৮ জনে দাঁড়ায়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত পদের চেয়ে এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নিয়োগের নজির বাংলাদেশে নেই। এটি মূলত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ প্রদানকারী অতিরিক্ত প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই করা

হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করে। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য ওয়েবসাইটে বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি যোগদান অনুষ্ঠানটিও সম্পূর্ণ গোপনীয়তার মধ্যে (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে) সম্পন্ন করা হয়, যাতে বিষয়টি সাধারণের চোখে না পড়ে। এত দ্রুত, এত বড় পরিসরে, বিধিবহির্ভূতভাপন্ন হওয়া এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রত্যাশীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ এই সিন্ডিকেটে জড়িত সচিব ও যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি দ্রুত তদন্ত করে বাতিলকরা না হয়, তবে তা বাংলাদেশের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের

বিশ্বাস চিরতরে নষ্ট করে দেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঝলমলে চুল পেতে জাপানিরা যেভাবে যত্ন নেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের মেডেল ‘উপহার’ দিলেন মাচাদো নোবেল পুরস্কার ‘হস্তান্তরযোগ্য নয়’, বলল নোবেল পিস সেন্টার আধিপত্য নিয়ে তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ের কোন্দল প্রকাশ্যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে কিনা- সন্দেহ দেবপ্রিয়র পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারী বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত স্থগিত হয়ে যেতে পারে বিপিএল আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম ও ঐতিহ্যের মহামিলন *নির্বাচনী চাপে দায়িত্ব পালনের ফলে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু: ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যু ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন *ডলার সংকটে গ্যাস আমদানি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে* *বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর মার্কিন স্যাংশন,কূটনৈতিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা* ❝পোস্টাল ব্যালট ও ট্রান্সফার করা ভোটব্যাংক হলো জামাত এনসিপি জোটের ডামি নির্বাচনের সুপরিকল্পিত কৌশল❞ পাকিস্তানের ইশারায় ক্রিকেট ধ্বংস, ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা আর আসিফ নজরুলের নীরবতা—বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ নেতৃত্বহীন লাশ শিবির ক্যাডারদের হাতে কারাগার, কারাগারে আটকে আওয়ামী লীগের উপর চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্বীকৃত সত্য : দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতির শিরোমণি বাংলাদেশ এখন রাজাকারের সাথে কে যোগ দিছে? বলেন আপনারা দেশের মানুষ” – জনতার কথা যারা মেধার কথা বলে রাজপথ জ্বালিয়েছিল, তারাই আজ কোটা খেয়ে সরকারি অফিসে— কোটা আন্দোলনের মুখোশে ক্ষমতার সিঁড়ি, সাধারণ ছাত্রদের ভাগ্যে শুধু ধোঁকা!