চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫
     ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আরও খবর

ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট : অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়নামা

ইউনুসের গণভোট প্রহসন : সংবিধান ও গণতন্ত্রের সাথে নগ্ন প্রতারণা

ইউনুসের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের বলি যেভাবে হলো বাংলাদেশের আপামর তরুণ প্রজন্ম

শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা – জ্ঞান, শুভবুদ্ধি ও সম্প্রীতিতে আলোকিত হোক বাংলাদেশ।

ফাঁস হওয়া অডিও: ‘হাসিনার বিচার সুষ্ঠু হয়নি, তবুও পলিটিক্যালি জিনিয়াস’—মার্কিন কূটনীতিকের স্বীকারোক্তি

সংস্কারের আড়ালে ‘ডাকাতি’: নিলাম ছাড়াই গ্রামীণফোনকে ২৫০০ কোটি টাকার উপহার

সেনাবাহিনীতে ‘সফট ক্যু’র চেষ্টা নস্যাৎ: এনএসএ খলিলুরের পরিকল্পনা ভেস্তে দিলেন সেনাপ্রধান

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ | ৫:৫৯ 91 ভিউ
বাংলাদেশ চীনের বন্ধুত্ব ৫০ বছরের। দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে কখনো ভাটা পড়েনি, উল্টো দিন দিন গভীর হয়েছে অংশীদারত্ব। ২০১৬ সালে হাসিনার আমলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ঢাকা সফর করেন, তখনই বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সহযোগিতাকে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছিলেন। এর পর থেকে চীনা অর্থায়নে অনেক অবকাঠামোগত প্রকল্পের অংশীদারত্ব ছিল দুদেশের। তবে হাসিনার ক্ষমতার শেষদিকে তার ভারতপ্রীতির ফলে কিছুটা মনকষাকষি ছিল চীনের সঙ্গে, যদিও এ সময়টা খুব একটা বেশি ছিল না। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হাসিনার পতন হলে প্রেক্ষাপট ঘুরে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় ভারতের। সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হতে থাকে চীনের সঙ্গে। বাংলাদেশে চীনের করতে চাওয়া যেসব প্রকল্প হাসিনার

আমলে অমীমাংসিত ছিল, সেগুলো ফের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আলোচনায় আনছে চীন। প্রধান উপদেষ্টাকে উড়োজাহাজ পাঠিয়ে চীনে নিতে চাইছে। চীনের ডাকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাড়া দেবেন কি না, এখনো জানা না গেলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন চীনে দ্বিপক্ষীয় সফর শেষ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেশ কটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আর তৌহিদ হোসেনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনের প্রতিবেশী কূটনীতির ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থানে’ রাখা হয়েছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করে চীন। আর আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব পেয়েছে দুদেশের অনেক ইস্যু। নদীর পানির

উপাত্ত নিয়ে সই হয় সমঝোতা স্মারক। ব্রহ্মপুত্রের উজানে ইয়ালুজাংবু নদীতে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে চীন—এমওইউ সই হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করার উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশের শিক্ষা, রেলওয়ে, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পশুসম্পদ, মৎস্য, জাহাজভাঙা শিল্প, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুনীল অর্থনীতির মতো খাতে আর্থিক, কারিগরি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনা সহযোগিতা সব সময়ই চেয়ে এসেছে বাংলাদেশ। আর ৫ আগস্টের পর চীনের কাছ থেকে এ প্রত্যাশা আরও বাড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের। এ ছাড়া বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে দুপক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে অব্যাহত সহযোগিতা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারেও আলোচনা হয়। বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রোগীদের

চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কুনমিং ও এর আশপাশের এলাকার উন্নতমানের চারটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশের পূর্বাচলে চীনের অর্থায়নে প্রথম মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণ নিয়েও দুদেশ আগ্রহী। বাংলাদেশ দ্রুত সমঝোতা স্মারক সই করতে আগ্রহী। চীনের দক্ষ চিকিৎসকসহ পেশাজীবীদের মাধ্যমে ওই হাসপাতাল পরিচালিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনা ঋণে নানা ছাড়ের অনুরোধ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডকা) চেয়ারম্যান লাও ঝাও হু ইয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারা বাংলাদেশে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সিডরা চেয়ারম্যানকে ক্রেতার অগ্রাধিকারমূলক ঋণ (পিবিসি) ও সরকারি ছাড়কৃত ঋণ (জিসিএল)

সুদের হার ২-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর থেকে ৩০ বছর করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। এরই মধ্যে সুদের হার কমানোতে সিডকা সম্মত না হলেও ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়িয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প, মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল সংযুক্তি স্থাপন এবং ফোরজি সম্প্রসারণ নামে চীনা অর্থায়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও এসেছে। চীনের পক্ষ থেকে এ সংকট নিরসনে একটি টেকসই রোডম্যাপ দিয়েছে, যা নিয়ে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করবে আর রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিয়ানমারের সঙ্গে চীন

আরও যোগাযোগ করবে এমন আলোচনাও করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু থেকে এ পর্যন্ত কখনো মন্দ হয়নি। তবে গত ১৫ বছর বাংলাদেশে ভারতের কর্তৃত্ববাদী আচরণের ফলে অনেক সময়ই কাজের বা অংশীদারত্বের সুযোগ হারিয়েছে চীন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় ভারতনির্ভরতা কমেছে। আর চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের যে ক্ষমতা প্রদর্শনের নীতি ও ডমিনেট করার স্বভাব তার কিছুটা জবাবও দেওয়া হবে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সফরে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান সংক্রান্ত এমওইউর সইসহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীন তার সম্পর্কে

সামনে আরও অনন্য উচ্চতায় নিতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে চায়, যেন নির্বাচিত সরকার এলে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা না পড়ে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ বলেন, চীনের সঙ্গে বিগত ৫০ বছরের সম্পর্কে আমরা কখনো হোঁচট খাইনি বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক সুগঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ঋণ ও কারিগরি সেবা দিতে চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকে অনেক কাজ হয়েছে বাংলাদেশে। এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি একটু ভিন্ন। তাই আমাদের প্রত্যাশাও অনেক ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ভালো ভাবনা ভেবেছে তারা। লক্ষণীয় বিষয়, আমাদের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অনেক ভালো। কিছুদিন আগেও বিএনপি-জামায়াত চীন সফর করেছে। চীনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ব্যালেন্সিং সম্পর্ক আছে, তাই চীনের কোনো প্রজেক্ট আমাদের দেশে আসতে কেউ বাধা দেয় না। আর এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, তাদের কূটনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আছে। চীনের মতো এমন শক্তিশালী দেশকে এ মুহূর্তে পাশে পাওয়াটা ইতিবাচক। আমরা ভারতকে বাদ দিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক করছি এমনটা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল বলেন, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় আমরা যেমনটা চেয়েছিলাম, অনেকটা সেসব বিষয়ই কিন্তু বেইজিংয়ে উঠে এসেছে। এবার একটা সম্ভাবনা এসেছে চীনের, আমাদের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আর আমাদের চীনের কাছ থেকে কিছু নেওয়ার। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আমরা যেমন বুঝেছি তেমনি চীনও বুঝতে পেরেছে, এখন একটা সময় এসেছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট : অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়নামা ইউনুসের গণভোট প্রহসন : সংবিধান ও গণতন্ত্রের সাথে নগ্ন প্রতারণা ইউনুসের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের বলি যেভাবে হলো বাংলাদেশের আপামর তরুণ প্রজন্ম শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা – জ্ঞান, শুভবুদ্ধি ও সম্প্রীতিতে আলোকিত হোক বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন ‘গণতন্ত্র নয়, স্বৈরতন্ত্র’—ড. ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করলেন শেখ হাসিনা ফাঁস হওয়া অডিও: ‘হাসিনার বিচার সুষ্ঠু হয়নি, তবুও পলিটিক্যালি জিনিয়াস’—মার্কিন কূটনীতিকের স্বীকারোক্তি সংস্কারের আড়ালে ‘ডাকাতি’: নিলাম ছাড়াই গ্রামীণফোনকে ২৫০০ কোটি টাকার উপহার সেনাবাহিনীতে ‘সফট ক্যু’র চেষ্টা নস্যাৎ: এনএসএ খলিলুরের পরিকল্পনা ভেস্তে দিলেন সেনাপ্রধান ম্যানইউকে বিদায় বলছেন ক্যাসেমিরো এবার দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ৩, হামলাকারী পলাতক দুবাইয়ে তুষারপাতের ছবি শেয়ার করলেন ক্রাউন প্রিন্স মাঝ আকাশে বৃদ্ধার সঙ্গে কিয়ারার দুর্ব্যবহার পাকিস্তানকে খুশি করতেই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতির উপর আঘাত? জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি স্থগিত, বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন,জুলাই ২০২৪-এর সহিংসতা নিয়ে বিতর্ক চলছে Bangladesh crisis News Yunus regime Dhaka’s Turbulent Streets: The Root of the Chaos Sits in Jamuna কয়লা শেষ, গ্যাস নেই, এবার বিদ্যুৎও যাবে গঙ্গা জলচুক্তির মেয়াদ শেষ ২০২৬-এ: নবায়ন নিয়ে বিরোধিতার মধ্যেই ফারাক্কায় তথ্যানুসন্ধানে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল ‘রং হার মানাবে গিরগিটিকেও’: ইসরাত আমিনের রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো ও সুবিধাবাদের চাঞ্চল্যকর নজির মিয়ানমারের ড্রোন হামলার অভিযোগ: সীমান্তে যুদ্ধের শঙ্কা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ‘লাল সংকেত’