কয়লা শেষ, গ্যাস নেই, এবার বিদ্যুৎও যাবে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কয়লা শেষ, গ্যাস নেই, এবার বিদ্যুৎও যাবে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ |
শীতকাল পুরোটা কাটলো গ্যাসের হাহাকারে। ষোলো বছর পর প্রথমবার এই দেশের মানুষ শীতে গ্যাস পায়নি রান্না করতে, গোসল করতে। সকালে উঠে চুলায় আগুন জ্বালানোর জন্য মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে সিলিন্ডার কিনতে। আর এখন জানুয়ারি মাসেই যখন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, তখন বুঝতে বাকি নেই যে সামনে গরমকালে কী অবস্থা হতে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আগেই সতর্ক করেছেন স্মরণকালের ভয়াবহতম হিটওয়েভের কথা। আর সেই গরমে বিদ্যুৎ থাকবে না। এটাই ইউনুস সরকারের উপহার। বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটা ইউনিটের মধ্যে একটা বন্ধ আছে ২০২০ সাল থেকে। আরেকটা বন্ধ গত নভেম্বর থেকে। আর শেষ যে ইউনিটটা চলছিলো, সেটাও এখন বন্ধ। রোববার সকালে বয়লারের পুরো

টিউব ফেটে গেছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লার ঠান্ডা হতেই সময় লাগবে কয়েকদিন। তারপর মেরামত শুরু হবে। কবে শেষ হবে, কবে আবার চালু হবে, সেটা কেউ বলতে পারছে না। প্রধান প্রকৌশলী নিজেই বলেছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। দেশের অন্যতম প্রধান একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ। এটা কোনো ছোটখাটো ব্যাপার নয়। এটা একটা জাতীয় বিপর্যয়। কিন্তু ইউনুস সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত আছে অন্য কাজে। রিজার্ভ লুটপাট করতে করতে শেষ করে ফেলেছে। এখন দেশের অবকাঠামো ভেঙে পড়ুক, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাক, মানুষ কষ্ট পাক, সেসব নিয়ে তাদের কিছু যায় আসে না। প্রথম ইউনিটের ওভার হোলিং করার কথা।

কিন্তু সেটা হয়েছে কি? রক্ষণাবেক্ষণে কোনো নজর ছিলো কি? গত ত্রিশ ডিসেম্বর যখন ইউনিটটা প্রথম বন্ধ হয়, তখন মেরামত করে চালু করা হলো চৌদ্দ জানুয়ারি। মাত্র চারদিন চললো। তারপরই আবার বন্ধ। এটা কোন ধরনের মেরামত? এটা কোন ধরনের ব্যবস্থাপনা? তৃতীয় ইউনিটের জন্য চীন থেকে যন্ত্রাংশ আসার অপেক্ষা। প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, মার্চে হয়তো আংশিক উৎপাদনে ফেরা যাবে। হয়তো। মানে নিশ্চিত কিছু নেই। আর দ্বিতীয় ইউনিট যেটা পাঁচ বছর ধরে বন্ধ, সেটা চালু করতে চীনা ঠিকাদাররা গড়িমসি করছে যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। মানে কেন্দ্রটি কবে পুরোপুরি চালু হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই অবস্থা কেন হলো? একটা দেশের প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র এভাবে ভেঙে পড়ে

কীভাবে? উত্তর সহজ। যারা ক্ষমতায় এসেছে জুলাই দাঙ্গা বাঁধিয়ে, বিদেশি টাকা আর ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায়, সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে, তারা দেশ চালাতে এসেছে না। তারা এসেছে দেশ লুটতে। রিজার্ভ লুট করেছে, সম্পদ লুট করেছে, এখন দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করছে। শীতকালটা কাটলো গ্যাস ছাড়া। মানুষ কষ্ট পেয়েছে, কিন্তু তবু শীত সহ্য করা গেছে। কিন্তু এখন আসছে গরম। বাংলাদেশের গরম কেমন হয়, সেটা এই দেশের প্রতিটা মানুষ জানে। এপ্রিল, মে, জুন মাসে তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। আর্দ্রতা এত বেশি থাকে যে শরীর থেকে ঘাম ঝরতে থাকে। ঘরে বসে থাকা যায় না, বাইরে বেরোনো যায় না। একমাত্র ভরসা

ছিলো ফ্যান আর এয়ার কুলার। কিন্তু যদি বিদ্যুৎ না থাকে? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছরের গরম হবে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। হিটওয়েভ আসবে দীর্ঘ সময় ধরে। এরকম পরিস্থিতিতে যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে মানুষের কী অবস্থা হবে? বাচ্চা, বুড়ো, অসুস্থ মানুষ, তারা কীভাবে বাঁচবে? হাসপাতালে যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে চিকিৎসা হবে কীভাবে? দোকানপাট, অফিস, কারখানা, সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। বড়পুকুরিয়া একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয় যেটা সমস্যায় পড়েছে। সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক। লোডশেডিং এখনই শুরু হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। সরকার বলছে, চাহিদা কম তাই কিছু কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু আসল সত্য হলো, জ্বালানি কিনতে টাকা নেই। রিজার্ভ শেষ। গ্যাসের দাম বেড়েছে,

তেলের দাম বেড়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ মেটানো যাচ্ছে না। তাই বন্ধ রাখা হচ্ছে কেন্দ্র। ইউনুস সাহেবের নোবেল পুরস্কার কিসের জন্য ছিলো, সেটা আমরা সবাই জানি। ক্ষুদ্র ঋণ। গরীব মানুষকে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে তাদের জীবন আরো কঠিন করে তোলার জন্য নোবেল পেয়েছিলেন। এখন সেই একই কাজ করছেন পুরো দেশের সাথে। দেশকে ধ্বংস করে, মানুষকে কষ্টে ফেলে, জীবন অসহনীয় করে তুলে, তিনি কী পাচ্ছেন? কী তার লাভ? গরম পড়লে যখন বিদ্যুৎ থাকবে না, তখন মানুষ রাস্তায় নামবে। দাঙ্গা হবে। মানুষ মরবে। হাসপাতালে রোগী মরবে। শিশুরা অসুস্থ হবে। বৃদ্ধরা হিট স্ট্রোকে মারা যাবে। কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারণ সেচ দেওয়া যাবে না বিদ্যুৎ ছাড়া।

খাদ্য সংকট দেখা দেবে। অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। কিন্তু ইউনুস সরকারের কিছু যায় আসে না। তারা তো ক্ষমতায় এসেছে দেশ চালাতে নয়, দেশ শেষ করতে। যারা বিদেশি প্রভুদের হুকুমে দেশ চালায়, তারা কি দেশের মানুষের কথা ভাবে? যারা জঙ্গিদের সহায়তায় ক্ষমতায় আসে, তারা কি শান্তি চায়? যারা সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেয়, তারা কি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে? শীতে গ্যাস নেই, গরমে বিদ্যুৎ নেই। এটাই ইউনুসের নোবেলের ম্যাজিক। দেশটাকে একদম তলানিতে নিয়ে যাওয়ার প্রজেক্ট চলছে। আর মানুষ বসে বসে দেখছে। কারণ কিছু বলতে গেলে জেলে যেতে হয়, মামলা খেতে হয়, গুম হতে হয়, মব লিঞ্চিং হতে হয়। তাই সবাই চুপ। বড়পুকুরিয়া বন্ধ এখন, কালকে আরো কেন্দ্র বন্ধ হবে। বিদ্যুৎ থাকবে না। ফ্যান চলবে না। লাইট জ্বলবে না। মানুষ ঘরে বসে রোস্ট হবে। আর ইউনুস সাহেব হয়তো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে পরবর্তী কোন সম্পদ লুটের পরিকল্পনা করবেন। এই হলো আসল চিত্র। এই হলো স্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা। যেখানে একটা অবৈধ সরকার পুরো জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে। আর জাতি অসহায় হয়ে দেখছে নিজেদের ধ্বংস হতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কান উৎসবে প্রাধান্য পাচ্ছেন স্বাধীন নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দল যাবে না ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১৯৪০ টাকা প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন, শান্তি চুক্তি ‘হবে’ : ট্রাম্প দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের সম্পর্ক নেই যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন বিতর্কে থালাপতি বিজয় শেখ মুজিবকে প্রাপ্ত সম্মান দিতে হবে: শাহাদাত হোসেন চবিতে পোস্টার হাতে ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী উৎপাদন বন্ধ হয়ে অচল দেশের সার কারখানাগুলো, আমদানি নির্ভরতায় বাংলাদেশ: জানালেন শিল্পমন্ত্রী এবার বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানাটিও জ্বালানি তেলের সংকট: দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার দুই সপ্তাহ ব্যবধানে নজিরবিহীন দুই দফা দাম বৃদ্ধি: ১২ কেজির এলপিজি এখন ১৯৪০ শরীফুলের স্পেলই নাকি কিউইদের মিরপুর জয়ের পথ দেখিয়েছে! তথ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে স্ক্রল আকারে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনায় সাংবাদিক সায়ের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের টাকায় এনজিও অভিযোগ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের