ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মার্কিন চুক্তি ও স্বার্থরক্ষায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে গম আমদানির অনুমোদন
সম্পত্তির বিরোধ থেকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, উচিৎ শিক্ষা দিতে সবার নামে জুলাই মামলা: আছেন ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ আওয়ামী নেতারাও
“আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আমি সমর্থন করি না”, সাক্ষাৎকারে এম সাখাওয়াত হোসেন
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির হজম করা কঠিন হবে, অকল্পনীয় অনেক ব্যাপার ঘটতে পারে: সাবির মুস্তাফা
মবসন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে হাসনাতই সেরা: অনুসন্ধানে উঠে এলো মুখোশের আড়ালের চিত্র
এই সংসদ একটি পরাশক্তির মধ্যস্থতায় গড়ে ওঠা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের সংসদ: জমিয়ত নেতা ইউসুফী
বান্দরবানে কেএনএফ ক্যাম্পে সেনা-জেএসএস যৌথ হামলা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৪ সেনা নিহতের দাবি
৫ ঘণ্টার শৃঙ্খল: জামায়াতের প্রস্তাব নারীকে কর্মক্ষেত্র থেকে বিতাড়িত করার নীলনকশা
জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আমিরের পক্ষ থেকে নারীদের কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় সীমিত করার যে প্রস্তাব এসেছে, তা মূলত একটি সম্পূর্ণ নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখা, তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সীমিত করা এবং সমাজে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করার পরিচায়ক। আধুনিক রাষ্ট্রে নারীদের সমান ভূমিকা নিশ্চিত করার বদলে এ ধরনের নীতি তাদের কর্মজীবনকে সংকুচিত করে, পরনির্ভরশীলতা বাড়ায় এবং রাষ্ট্রকে পশ্চাৎমুখী করে তোলে।
এ ধরনের নীতির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রাইভেট সেক্টরে। বাংলাদেশের প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ৮ ঘণ্টা শিফট ও পূর্ণ-সময়ের কাজের ওপর নির্ভর করে। এখানে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ও বাজারে টিকে থাকতে কর্মীদের পূর্ণ সময় এবং সমান দক্ষতা প্রয়োজন। নারীদের
কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করে দিলে কোম্পানির ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন কমবে, এবং দুইজনকে দিয়ে এক জনের কাজ করাতে হবে। ফলে কোম্পানিগুলো খুব সহজেই নারী কর্মীকে ‘ঝুঁকি’ বা ‘অতিরিক্ত ঝামেলা’ হিসাবে দেখবে এবং নারীদের নিযুক্ত না করার প্রবণতা বাড়বে। অর্থাৎ, এই নীতি সরাসরি নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। ৮ ঘণ্টা ভিত্তিক শিফট সিস্টেম—যা শিল্প, সেবা, ব্যাংকিং, হসপিটাল, কল সেন্টার, মিডিয়া সবখানে ব্যবহৃত—এই নীতির কারণে বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়বে। নারীদের জন্য বিশেষ ৫ ঘণ্টার শিফট তৈরি করতে হলে পুরো ওয়ার্কফ্লো ভেঙে যাবে, দায়িত্ব বণ্টন হবে অসম, এবং কাজে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। টিমওয়ার্কে ভারসাম্য রাখতে না পারলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে ও প্রতিষ্ঠানের
ভেতরে নারীকে অযোগ্য হিসেবে দেখার সংস্কৃতি আরও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ কমে যাবে, নতুন নারীরা চাকরির জন্য নিরুৎসাহিত হবে এবং পুরনো কর্মজীবী নারীরাও ধীরে ধীরে জায়গা হারাবে। এতে নারীর সামাজিক সম্মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হবে যে নারীরা “পূর্ণ সময় কাজের জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়।” অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রস্তাব রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে। নারীর কর্মঘণ্টা কমে গেলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে, রপ্তানি ও শিল্প খাতেও প্রভাব পড়বে। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে বিভিন্ন সেক্টরে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ একদিকে উৎপাদন কমবে, অন্যদিকে ব্যয় বাড়বে—যা সরাসরি রাষ্ট্রের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করবে। আধুনিক উন্নত রাষ্ট্রগুলো নারীর সুযোগ
ও সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোয়, কিন্তু এ ধরনের নীতি নারীর স্বাধীনতা সীমিত করা, তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমানো এবং সমাজে তাদের প্রভাব সংকুচিত করার দিকে ঠেলে দেয়। এটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে দেবে এবং নারী উন্নয়নের বহু অর্জন নষ্ট করে দেবে। সব মিলিয়ে, নারীদের ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার ধারণা কোনোভাবেই উন্নয়ন, সমতা বা আধুনিকতার লক্ষণ নয়—এটি মূলত নারীদের সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা, তাদের কর্মজীবনকে সংকুচিত করা এবং সমাজে পুরনো পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি স্পষ্ট নারীবিদ্বেষী অবস্থান।
কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করে দিলে কোম্পানির ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন কমবে, এবং দুইজনকে দিয়ে এক জনের কাজ করাতে হবে। ফলে কোম্পানিগুলো খুব সহজেই নারী কর্মীকে ‘ঝুঁকি’ বা ‘অতিরিক্ত ঝামেলা’ হিসাবে দেখবে এবং নারীদের নিযুক্ত না করার প্রবণতা বাড়বে। অর্থাৎ, এই নীতি সরাসরি নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। ৮ ঘণ্টা ভিত্তিক শিফট সিস্টেম—যা শিল্প, সেবা, ব্যাংকিং, হসপিটাল, কল সেন্টার, মিডিয়া সবখানে ব্যবহৃত—এই নীতির কারণে বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়বে। নারীদের জন্য বিশেষ ৫ ঘণ্টার শিফট তৈরি করতে হলে পুরো ওয়ার্কফ্লো ভেঙে যাবে, দায়িত্ব বণ্টন হবে অসম, এবং কাজে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। টিমওয়ার্কে ভারসাম্য রাখতে না পারলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে ও প্রতিষ্ঠানের
ভেতরে নারীকে অযোগ্য হিসেবে দেখার সংস্কৃতি আরও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ কমে যাবে, নতুন নারীরা চাকরির জন্য নিরুৎসাহিত হবে এবং পুরনো কর্মজীবী নারীরাও ধীরে ধীরে জায়গা হারাবে। এতে নারীর সামাজিক সম্মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হবে যে নারীরা “পূর্ণ সময় কাজের জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়।” অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রস্তাব রাষ্ট্রের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে। নারীর কর্মঘণ্টা কমে গেলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে, রপ্তানি ও শিল্প খাতেও প্রভাব পড়বে। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে বিভিন্ন সেক্টরে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থাৎ একদিকে উৎপাদন কমবে, অন্যদিকে ব্যয় বাড়বে—যা সরাসরি রাষ্ট্রের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করবে। আধুনিক উন্নত রাষ্ট্রগুলো নারীর সুযোগ
ও সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোয়, কিন্তু এ ধরনের নীতি নারীর স্বাধীনতা সীমিত করা, তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমানো এবং সমাজে তাদের প্রভাব সংকুচিত করার দিকে ঠেলে দেয়। এটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে দেবে এবং নারী উন্নয়নের বহু অর্জন নষ্ট করে দেবে। সব মিলিয়ে, নারীদের ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার ধারণা কোনোভাবেই উন্নয়ন, সমতা বা আধুনিকতার লক্ষণ নয়—এটি মূলত নারীদের সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা, তাদের কর্মজীবনকে সংকুচিত করা এবং সমাজে পুরনো পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি স্পষ্ট নারীবিদ্বেষী অবস্থান।



