ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভি নীতিমালার আওতায় আনা হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
একুশ মানে দৃঢ় সংকল্প। একুশ মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা
৪৫ হাজার কোটির গর্ত খুঁড়ে গেছে ইউনুস, ভরাট করবে কে?
মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি পদে খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন
বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে রেকর্ড ১২৯ সাংবাদিক নিহত
গভীর সংকটে বেসরকারি খাত: বিনিয়োগ পতন ৬১%, মব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অর্থনৈতিক স্থবিরতা
২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলকে বাধা এবং রাজাকারের নামে স্লোগান ইতিহাসকে বদলে দেবার চক্রান্ত!
'১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে বাংলা ভাষার দাবির সপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিব। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবনে মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলাকালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং নেতৃত্বদান করেন তিনি।' (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম)
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই সংগঠনটির ভূমিকা খুবই স্মরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগের ১০ দফা দাবির মধ্যে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষার দাবি ছিল অন্যতম।
১৯৪৮ সালের ২
মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে তমদ্দুন মজলিস ও মুসলিম ছাত্রলীগের যৌথ সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। এই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, মুহম্মদ তোয়াহা, আবুল কাসেম, রণেশ দাশ গুপ্ত, অজিত গুহ প্রমুখের নাম উল্লেখ্যযোগ্য। সভায় গণপরিষদ সিদ্ধান্ত ও মুসলিম লীগের বাংলা ভাষা বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে, তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে
প্রথম সফল হরতাল। এই হরতালে শেখ মুজিব নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। ভাষাসৈনিক অলি আহাদ তার ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার নিমিত্তে শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ হতে ১০ মার্চ ঢাকায় আসেন। ১১ মার্চের হরতাল কর্মসূচিতে যুবক শেখ মুজিব এতটাই উৎসাহিত হয়েছিলেন যে, এ হরতাল ও কর্মসূচি তার জীবনের গতিধারা নতুনভাবে প্রবাহিত করে।' আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ১৯৪৯ সালে দুবার গ্রেফতার হন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ পর্বে শেখ মুজিব জেলে ছিলেন। ভাষাসৈনিক গাজীউল হক তার 'আমার দেখা আমার লেখা' স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর,
জনাব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে আটক ছিলেন। ফলে স্বাভাবিক কারণেই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে জেলে থেকেই তিনি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন।’ ১৯৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির আইন পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খসড়া শাসনতন্ত্রের অন্তর্গত জাতীয় ভাষা সংক্রান্ত প্রশ্নে বলেছিলেন, ''পূর্ববঙ্গে আমরা সরকারি ভাষা বলতে রাষ্ট্রীয় ভাষা বুঝি না। কাজেই খসড়া শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্রের ভাষা সম্পর্কে যে সব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তা কুমতলবে করা হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণের শতকরা ৫৬ ভাগ লোকই বাংলা ভাষায় কথা বলে, রাষ্ট্রীয় ভাষার প্রশ্নে কোনো ধোঁকাবাজি
করা যাবে না। পূর্ববঙ্গের জনগণের দাবি এই যে, বাংলাও রাষ্ট্রীয় ভাষা হোক।'' ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন গঠন করা হয় আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ — এই দুটি সংগঠনের হাত ধরেই পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে৷ অথচ, স্বাধীনতার মাত্র ৫৩ বছর পর রাজাকারেরা ক্ষমতা দখল করে ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা দেবার দুঃশাহস করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে আজ রাজাকারেরা যায়, গোলাম আযমের মত কুখ্যাত দেশবিরোধীকে নিয়ে অবাধে স্লোগান হয়। অথচ আজ ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতার আন্দোলন-সংগ্রামের সংগঠক রাজনৈতিক দলগুলো আজ বাধাপ্রাপ্ত; শহিদ মিনারে গেলেই গ্রেফতার এবং মব হামলার শিকার
হতে হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই আজ ক্ষমতার চেয়ারে; গোলাম আযমের মত আত্মস্বীকৃত রাজাকার ও বাংলাদেশ বিরোধীকে আজ ভাষা সৈনিক দাবি করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধকেও তারা কখনো বলছে 'প্রতিরোধ যুদ্ধ', কখনো বলছে 'ভারতের ষড়যন্ত্র'। স্পষ্টতই এসব ইতিহাসকে মুছে ফেলে বিকৃত বয়ান প্রতিষ্ঠা করার চক্রান্ত। যারা এসব করছে এবং যারা এসমস্ত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে নিরব সমর্থন দিচ্ছে, কেউই এ বাংলার মাটিতে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারবেনা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা এনেছি; রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারো একাত্তর সংঘটিত হবে।
মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে তমদ্দুন মজলিস ও মুসলিম ছাত্রলীগের যৌথ সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। এই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, মুহম্মদ তোয়াহা, আবুল কাসেম, রণেশ দাশ গুপ্ত, অজিত গুহ প্রমুখের নাম উল্লেখ্যযোগ্য। সভায় গণপরিষদ সিদ্ধান্ত ও মুসলিম লীগের বাংলা ভাষা বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে, তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে
প্রথম সফল হরতাল। এই হরতালে শেখ মুজিব নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। ভাষাসৈনিক অলি আহাদ তার ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার নিমিত্তে শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ হতে ১০ মার্চ ঢাকায় আসেন। ১১ মার্চের হরতাল কর্মসূচিতে যুবক শেখ মুজিব এতটাই উৎসাহিত হয়েছিলেন যে, এ হরতাল ও কর্মসূচি তার জীবনের গতিধারা নতুনভাবে প্রবাহিত করে।' আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ১৯৪৯ সালে দুবার গ্রেফতার হন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ পর্বে শেখ মুজিব জেলে ছিলেন। ভাষাসৈনিক গাজীউল হক তার 'আমার দেখা আমার লেখা' স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর,
জনাব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে আটক ছিলেন। ফলে স্বাভাবিক কারণেই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে জেলে থেকেই তিনি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন।’ ১৯৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির আইন পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খসড়া শাসনতন্ত্রের অন্তর্গত জাতীয় ভাষা সংক্রান্ত প্রশ্নে বলেছিলেন, ''পূর্ববঙ্গে আমরা সরকারি ভাষা বলতে রাষ্ট্রীয় ভাষা বুঝি না। কাজেই খসড়া শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্রের ভাষা সম্পর্কে যে সব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তা কুমতলবে করা হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণের শতকরা ৫৬ ভাগ লোকই বাংলা ভাষায় কথা বলে, রাষ্ট্রীয় ভাষার প্রশ্নে কোনো ধোঁকাবাজি
করা যাবে না। পূর্ববঙ্গের জনগণের দাবি এই যে, বাংলাও রাষ্ট্রীয় ভাষা হোক।'' ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন গঠন করা হয় আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ — এই দুটি সংগঠনের হাত ধরেই পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে৷ অথচ, স্বাধীনতার মাত্র ৫৩ বছর পর রাজাকারেরা ক্ষমতা দখল করে ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা দেবার দুঃশাহস করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে আজ রাজাকারেরা যায়, গোলাম আযমের মত কুখ্যাত দেশবিরোধীকে নিয়ে অবাধে স্লোগান হয়। অথচ আজ ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতার আন্দোলন-সংগ্রামের সংগঠক রাজনৈতিক দলগুলো আজ বাধাপ্রাপ্ত; শহিদ মিনারে গেলেই গ্রেফতার এবং মব হামলার শিকার
হতে হয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই আজ ক্ষমতার চেয়ারে; গোলাম আযমের মত আত্মস্বীকৃত রাজাকার ও বাংলাদেশ বিরোধীকে আজ ভাষা সৈনিক দাবি করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধকেও তারা কখনো বলছে 'প্রতিরোধ যুদ্ধ', কখনো বলছে 'ভারতের ষড়যন্ত্র'। স্পষ্টতই এসব ইতিহাসকে মুছে ফেলে বিকৃত বয়ান প্রতিষ্ঠা করার চক্রান্ত। যারা এসব করছে এবং যারা এসমস্ত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে নিরব সমর্থন দিচ্ছে, কেউই এ বাংলার মাটিতে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারবেনা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা এনেছি; রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারো একাত্তর সংঘটিত হবে।



