স্বগৌরবে অপতথ্য ও বিতর্কের জবাব দিচ্ছে পদ্মা সেতু: হয়ে উঠেছে স্থানীয় জিডিপি, উন্নয়ন ও ভরসার প্রতীক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ মার্চ, ২০২৬

স্বগৌরবে অপতথ্য ও বিতর্কের জবাব দিচ্ছে পদ্মা সেতু: হয়ে উঠেছে স্থানীয় জিডিপি, উন্নয়ন ও ভরসার প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ মার্চ, ২০২৬ |
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত, গুজব-আক্রান্ত এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু অন্যতম। নির্মাণকালীন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার, নির্মাণে বিলম্ব, পরিবেশগত উদ্বেগ, এমনকি “সেতু ভেঙে পড়বে” জাতীয় মিথ্যা প্রচার—এসব কিছু মিলিয়ে অনেকেই এটিকে “স্বপ্নের সেতু” না বলে “দুঃস্বপ্নের প্রকল্প” বলে উপহাস করেছিলেন। কিন্তু আজ, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ঈদযাত্রার প্রেক্ষাপটে এসে দেখা যাচ্ছে—পদ্মা সেতু সব অভিযোগ ও গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে নিজের সাফল্য দিয়ে জবাব দিয়েছে। সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী, মাত্র ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকারও বেশি—যা গত বছরের একই সময়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই সময়ে লাখ লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে, বিশেষ করে

ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। একদিনেই ৪১ হাজারেরও বেশি যানবাহন পার হয়ে ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার টোল আদায়ের রেকর্ড গড়েছে। এটি শুধু অর্থের পরিসংখ্যান নয়—এটি দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা, মানুষের আস্থা এবং প্রকল্পের বাস্তব সাফল্যের প্রমাণ।বিশেষ প্রতিবেদন উদ্বোধনের দিনে উচ্ছসিত জনতা পায়ে হেটে পদ্মা সেতু পার হচ্ছে। ২৫শে জুন, ২০২২ দুর্নীতি ও অর্থ লুটের অভিযোগ: আরও দেখুন Economics Civil Engineering Politics প্রকল্পের শুরুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিলে “দুর্নীতির কারণে প্রকল্প বন্ধ” বলে প্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে (প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে) সেতু সম্পন্ন করেছে। উদ্বোধনের পর থেকে টোল আদায় এখন ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে (২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত), এবং

সরকারকে ঋণ পরিশোধের অংশও দেওয়া হচ্ছে। এটি দুর্নীতির নয়, বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও স্বাবলম্বিতার প্রমাণ।News পদ্মা সেতু নিয়ে ছড়ানো একটি জনপ্রিয় গুজব ছিল যে, ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু (দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিমি) বা বিদেশের অন্যান্য সেতুর প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় অনেক কম, অথচ পদ্মা সেতুর ব্যয় “অস্বাভাবিকভাবে” বেশি—যা দুর্নীতি বা অদক্ষতার প্রমাণ বলে প্রচার করা হতো। পদ্মা সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় (প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা) শুধুমাত্র ৬.১৫ কিমি মূল সেতুর খরচ নয়; এতে যুক্ত রয়েছে শত শত কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড ও সংযোগ সড়কের উন্নয়ন (প্রায় ১৫ কিমি অ্যাপ্রোচ রোডসহ বিস্তৃত নেটওয়ার্ক), ২,৬৯৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ (যা বাজারমূল্যের ৩-৪ গুণ দামে

কেনা হয়েছে স্থানীয়দের ক্ষতিপূরণ দিতে), লাখো মানুষের জনপদ স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের বিশাল খরচ, নদীশাসন ও রিভার ট্রেনিং ওয়ার্কস (১৩.৮ কিমি), পরিবেশগত সুরক্ষা ও মিটিগেশন ব্যয়, টোল প্লাজা, সার্ভিস এরিয়া, কনসালটেন্সি, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ যাবতীয় সংশ্লিষ্ট খরচ। মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয়ই ছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, বাকি অংশ এসব অতিরিক্ত উপাদানে। ভূপেন হাজারিকা সেতুর মতো তুলনা করলে ভুল হয় কারণ সেটি সাধারণ বীম ব্রিজ, কম লোড-বহনক্ষমতা, শুধু সড়ক-সেতু এবং নদীর গভীরতা-প্রবাহ অনেক কম চ্যালেঞ্জিং—যেখানে পদ্মা নদী বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাহশীল, পাইল ১২২ মিটার গভীর (বিশ্বরেকর্ড), দ্বি-স্তরীয় (রেল-রোড) এবং ভূমিকম্প-ঝড়-বন্যা-প্রতিরোধী উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত। এই অসম তুলনা করে গুজব ছড়ানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে পদ্মা সেতুর

প্রকল্পটি একটি সমন্বিত মেগা-ইনফ্রাস্ট্রাকচার, যার প্রতি কিমি “মূল সেতু” ব্যয় আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে অমূল্য অবদান রাখছে।History “সেতু টিকবে না”, “ভেঙে পড়বে” গুজব: বিজ্ঞানসম্মত নকশা, আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সেতু আজও নিরাপদ ও সচল। লাখ লাখ যানবাহন প্রতিদিন পার হচ্ছে—কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কাঠামোগত সমস্যা ছাড়াই।Urban & Regional Planning “অর্থের অপচয়” অভিযোগ: অনেকে বলেছিলেন, এত টাকা দিয়ে সেতু বানানোর দরকার নেই। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে—সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। যাতায়াত সময় কমেছে শত শত কিলোমিটার, পরিবহন খরচ কমেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। অর্থনীতিতে অবদান: প্রত্যাশার চেয়েও বেশিঅর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল—পদ্মা সেতু চালু হলে জিডিপিতে ১.২% থেকে

২% অবদান রাখবে। বাস্তবে এর প্রভাব আরও ব্যাপক: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধিতে ২.৩% পর্যন্ত সম্ভাব্য অবদান। বছরে ৪২৩ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৪.২৩ হাজার কোটি টাকা) জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও বাণিজ্যে ৮-২৯% পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি। দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি (লাখ লাখ মানুষের জন্য সুযোগ) এবং এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ। এক অদম্য সাহসের নাম “পদ্মা সেতু” আরও দেখুন ব্রেকিং নিউজ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্যাকেজ নারী অধিকার কর্মশালা পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অদম্য সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং সার্বিক পরিকল্পনা-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক হঠাৎ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১২০ কোটি ডলারের অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিলে বিশ্বের অনেকেই মনে

করেছিলেন—এই মেগা প্রকল্প আর সম্ভব নয়। বহির্বিশ্বের চাপ, অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা এবং “নিজস্ব অর্থায়নে অসম্ভব” বলে বিশেষজ্ঞদের হতাশাবাদী বক্তব্য—সবকিছু উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন:Urban & Regional Planning “পদ্মা সেতু হবেই, নিজের টাকায় হবে!” তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন—অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বাজেট পুনর্বিন্যাস, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণের গুণগত মানে কোনো আপস না করার অঙ্গীকার। বহিরাগত চোখ রাঙানি ও চাপ সত্ত্বেও তাঁর নেতৃত্বে সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পন্ন করে, বিশ্বকে দেখিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ নির্ভরশীলতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাবলম্বী হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি সেতু নির্মাণ করেনি, বরং জাতির আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে—যা আজ টোল আদায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কোটি মানুষের স্বস্তির যাত্রায় প্রতিফলিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার এই দূরদর্শিতা ও অটল সংকল্পই পদ্মা সেতুকে শুধু ইস্পাত-কংক্রিটের কাঠামো নয়, বাংলাদেশের গৌরব ও সক্ষমতার প্রতীক করে তুলেছে।History প্রতিদিন গড়ে ২২ হাজার যানবাহন পার হয়, টোল আদায় হয় আড়াই কোটি টাকার মতো—এটি শুধু আয় নয়, দেশের অর্থনৈতিক সংযোগের মেরুদণ্ড।ঈদের বাড়ি ফেরা: নিরাপদ, স্বস্তির যাত্রাঈদ মানেই আগে ছিল দুর্ভোগ—ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, দুর্ঘটনা, লঞ্চ-ট্রলারের ঝুঁকি। আজ পদ্মা সেতু দিয়ে কোটি মানুষ নিরাপদে, দ্রুত বাড়ি ফিরছে। যাত্রীদের কথায়— “আগে ১০-১২ ঘণ্টা লাগতো, এখন ৪-৫ ঘণ্টায় পৌঁছে যাই।” এটি শুধু সময় বাঁচানো নয়—পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো, দুর্ঘটনা কমানো, মানসিক শান্তি। পদ্মা সেতু আজ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। যে দেশ নিজের টাকায় এমন বিশাল প্রকল্প করতে পারে, সে দেশ ভবিষ্যতে আরও অনেক স্বপ্ন পূরণ করবে। যারা বিরোধিতা করেছিলেন, গুজব ছড়িয়েছিলেন—তাদের জবাব দিয়েছে সেতুর টোল প্লাজার কাউন্টার, যানবাহনের সারি এবং কোটি মানুষের হাসিমুখ।পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়—এটি বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু, সাফল্যের সেতু, সমৃদ্ধির সেতু। জয় হোক বাংলাদেশের!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
স্বগৌরবে অপতথ্য ও বিতর্কের জবাব দিচ্ছে পদ্মা সেতু: হয়ে উঠেছে স্থানীয় জিডিপি, উন্নয়ন ও ভরসার প্রতীক কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত ৮ আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ৫৯, ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন জামালপুরে ব্রিজ ভেঙে নদে শতাধিক মানুষ: নিহত বেড়ে ৫ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস উল্টে নিহত ২, আহত ১০ যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে তথ্য না দিলে পুতিন প্রশাসনও ইরানকে দেবে না ফিলিপ সাংমার ১৪ দিনের জেল ঈদে ‘প্রিন্স’ ঘিরে বিশৃঙ্খলা, শো বাতিল ও ভাঙচুর ঈদে আসছে কামাল আহমেদের ‘স্বপ্নের আলপথ’ মিউজিক ভিডিও কীভাবে বুঝবেন আপনার কিডনি নষ্ট হচ্ছে? ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকারীদের জন্য দূতাবাসের বিশেষ পরামর্শ ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ট্রাম্পের, যা বলছে ইরান দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়ে ইরানকে যে বার্তা দিলেন পুতিন ঈদের দিনেও স্বর্ণের বড় দরপতন লন্ডনে কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন নতুন করে ২ ম্যাচের সূচি ঘোষণা আর্জেন্টিনার শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে রেকর্ড মুসল্লি