ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইউনূস আমলে এলএনজি ক্রয়ে দুর্নীতি ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার; জুন পর্যন্ত এলএনজি-সার কিনতে দরকার অতিরিক্ত ২.৬১ বিলিয়ন ডলার
মুজিবনগর দিবসে কোনো কর্মসূচি রাখেনি বিএনপির সরকার;স্মৃতিসৌধে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা
আস্থাহীনতার চাপেই আর্থিক খাত: ব্যাংক পুনর্গঠন ও পুঁজিবাজারে অস্থিরতার দ্বৈত সংকট
জাতীয় দলের অধিনায়কদের জন্য বিসিবির প্রিভিলেজ কার্ড
তেলসহ অর্থনৈতিক সংকট সামাল না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে:সাংবাদিক মাহবুব কামাল
শেখ হাসিনা ভারতের ‘মেহমান’, আওয়ামী লীগ রাজনীতির ‘বাস্তবতা’: গৌতম লাহিড়ী
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরিফ রহমানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, মিয়াপাড়ায় তোলপাড়
সেনা জেনারেলদের গভীর রাতের বৈঠকই শেখ হাসিনার সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়
শেখ হাসিনাকে হেলিকপ্টারে করে দিল্লির পথে পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা আগেও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ‘পরোক্ষ অভ্যুত্থানের’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট রাতে, এক টেলিকনফারেন্সে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে। খাকি উর্দিধারীদের ওই গোপন বৈঠকের তথ্য নর্থইস্ট নিউজকে জানিয়েছেন দুই ব্যক্তি।
ওই টেলিকনফারেন্সে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধান ‘প্রভাবক’ ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
ততক্ষণে অবরুদ্ধ শেখ হাসিনা সরকারের জন্য আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন যে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের ব্যাপার—সেটা সবার কাছে স্পষ্ট। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ওই ভাগ্যরাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনা
ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকেন—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের দীর্ঘস্থায়ী ‘কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ’ ও তীব্র মানসিক নির্যাতন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহেলকে ভেঙে পড়তে বাধ্য করে। ধানমন্ডির একটি সেফ হাউজে তাজুল ইসলামের দল চাপ প্রয়োগ করলে সোহেল বমি করেন এবং অন্তত একবার জ্ঞান হারান। সোহেল আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ২০শে আগস্ট বনানী থেকে গ্রেপ্তার হন এবং তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের ১৩ দিন আগে তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরিয়ে নৌ-প্রশিক্ষণ ও ডকট্রিন অধিদপ্তরের কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। সোহেল ২০১০ সালে র্যাবের মিডিয়া উইং
প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান সোহেলকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সোহেলের গ্রেপ্তারে প্রধান ভূমিকা রাখেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। সোহেল নাজমুলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ৬ই আগস্ট, ২০২৪-এ সোহেলের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয় যে তিনি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকিকে সমুদ্রপথে দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করেন। পরে তাকে শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকি ও মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় ‘রাষ্ট্রীয় সাক্ষী’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জিয়াউল আহসানের কথিত
‘সিরিয়াল কিলিংয়ে’ জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে তাকে পরিবারসহ বিদেশে নিরাপদে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। র্যাব-এর মিডিয়া উইং প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে সক্রিয় বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নির্মূলে সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল সিদ্দিকির সাথে ঘনিষ্ঠতা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় সোহেল নিয়মিত সিদ্দিকিকে বার্তা পাঠান যে সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন ও বিচার বিভাগ রক্ষায় কর্তব্য পালনে অবহেলা করছে। তাঁর মতে, সশস্ত্র বাহিনীর এ অবহেলা ছিল ইচ্ছাকৃত ও নীতি-নির্ধারিত। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিদ্দিকির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) কবির আহমেদ সমন্বয়ে অনিচ্ছুক ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী
বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান শামীম দায়িত্ব পালনে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য ছিলেন বলে জানা যায়। চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম ও কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুল হক জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) শোয়েব ও মেজর (অব.) মামুনকে ২০২১ সালে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এসএসএফ কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অরক্ষিত রাখা হয়। উচ্ছৃঙ্খল জনতা এসব ভবনে
স্বচ্ছন্দে লুটপাট চালায়। সেনা সদস্যদের সামনেই অপরাধীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ভাঙচুর করে। সেনাবাহিনী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও অন্যান্য আপিল বিভাগের বিচারপতিদের রক্ষা করতেও ব্যর্থ হয়। তাদের ক্যান্টনমেন্টের আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হলেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সারা দেশে সশস্ত্র হামলাকারীরা ৪৬০টি পুলিশ স্টেশনে নিরস্ত্র পুলিশের ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় সার্ভারে ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও সরকারি আদেশে পুলিশ বিভাগীয় তদন্ত করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। সেনাবাহিনীর ‘নিরব অভ্যুত্থান’ পুলিশ বাহিনীকে মনোবলহীন করার লক্ষ্যমাত্রায় পরিচালিত হয়। ৪৬০টি থানা-ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয় এবং এখনো উদ্ধার হয়নি। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগকে ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বানানো
হয়। ২০২৪ সালের ২৪শে জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর জেনারেল জামান প্রথমদিকে সেনাবাহিনীর কমান্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন। সাইফুল ও মুজিবের সঙ্গে তার সংঘাত স্পষ্ট ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মতিউর রহমান ও জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার মতো কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদিও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই থেকে সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন করা হয়, তাদের শিথিলতার কারণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক ও মেজর জেনারেল জোবায়ের সরকারের কাছে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হন। রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর নাটকীয় ঘটনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ দেয়। অস্থিরতায় ৪৩ জন নিহত হওয়ার মধ্যে সরকার ও বেসামরিক প্রশাসন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে। সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে জনরোষ তীব্র হয়। অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে ৪৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক তদন্তের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভ মিছিল বা জনতার ভিড়ে থাকা ব্যক্তিরা হঠাৎ পেছন থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে বা অজ্ঞাত কারণে আহত হয়ে ঢলে পড়ছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা পুলিশ এই অজ্ঞাত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনাবাহিনী এই হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারাও যারা দাবি করেন যে তারা অস্থিরতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করছেন এবং হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও গ্রেপ্তার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডিজিএফআইয়ের হামিদুল হকের সুপারিশে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হন। স্নাইপার ও ৭.৬২ মি.মি. বুলেট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে অপসারণ করা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেন, ‘পুলিশ হত্যার কোনো বিচার হবে না; এটি ময়দানেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।’ জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে জুলাইয়ের অস্থিরতাকে ‘যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছে এবং নিহত ও আহতদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের (২০০১-২০০৬) আমলে বাংলাদেশ বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল, যার প্রমাণ ১০ ট্রাক অস্ত্র চালান মামলা। তারেক রহমানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, জুলাই-আগস্ট অস্থিরতায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জড়িত থাকার ঘটনা—যা সেনাবাহিনীর একটি অংশের সঙ্গে সমন্বয়ে হয়েছিল—পুলিশ হত্যা ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের তদন্ত দমন করে চাপা দেওয়া হয়েছে।
ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকেন—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের দীর্ঘস্থায়ী ‘কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ’ ও তীব্র মানসিক নির্যাতন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহেলকে ভেঙে পড়তে বাধ্য করে। ধানমন্ডির একটি সেফ হাউজে তাজুল ইসলামের দল চাপ প্রয়োগ করলে সোহেল বমি করেন এবং অন্তত একবার জ্ঞান হারান। সোহেল আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ২০শে আগস্ট বনানী থেকে গ্রেপ্তার হন এবং তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের ১৩ দিন আগে তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরিয়ে নৌ-প্রশিক্ষণ ও ডকট্রিন অধিদপ্তরের কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। সোহেল ২০১০ সালে র্যাবের মিডিয়া উইং
প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান সোহেলকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সোহেলের গ্রেপ্তারে প্রধান ভূমিকা রাখেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। সোহেল নাজমুলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ৬ই আগস্ট, ২০২৪-এ সোহেলের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয় যে তিনি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকিকে সমুদ্রপথে দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করেন। পরে তাকে শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকি ও মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় ‘রাষ্ট্রীয় সাক্ষী’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জিয়াউল আহসানের কথিত
‘সিরিয়াল কিলিংয়ে’ জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে তাকে পরিবারসহ বিদেশে নিরাপদে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। র্যাব-এর মিডিয়া উইং প্রধান হিসেবে বাংলাদেশে সক্রিয় বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নির্মূলে সোহেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল সিদ্দিকির সাথে ঘনিষ্ঠতা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় সোহেল নিয়মিত সিদ্দিকিকে বার্তা পাঠান যে সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন ও বিচার বিভাগ রক্ষায় কর্তব্য পালনে অবহেলা করছে। তাঁর মতে, সশস্ত্র বাহিনীর এ অবহেলা ছিল ইচ্ছাকৃত ও নীতি-নির্ধারিত। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিদ্দিকির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) কবির আহমেদ সমন্বয়ে অনিচ্ছুক ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী
বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান শামীম দায়িত্ব পালনে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য ছিলেন বলে জানা যায়। চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম ও কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুল হক জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) শোয়েব ও মেজর (অব.) মামুনকে ২০২১ সালে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এসএসএফ কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদ, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অরক্ষিত রাখা হয়। উচ্ছৃঙ্খল জনতা এসব ভবনে
স্বচ্ছন্দে লুটপাট চালায়। সেনা সদস্যদের সামনেই অপরাধীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ভাঙচুর করে। সেনাবাহিনী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও অন্যান্য আপিল বিভাগের বিচারপতিদের রক্ষা করতেও ব্যর্থ হয়। তাদের ক্যান্টনমেন্টের আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হলেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সারা দেশে সশস্ত্র হামলাকারীরা ৪৬০টি পুলিশ স্টেশনে নিরস্ত্র পুলিশের ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় সার্ভারে ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও সরকারি আদেশে পুলিশ বিভাগীয় তদন্ত করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। সেনাবাহিনীর ‘নিরব অভ্যুত্থান’ পুলিশ বাহিনীকে মনোবলহীন করার লক্ষ্যমাত্রায় পরিচালিত হয়। ৪৬০টি থানা-ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয় এবং এখনো উদ্ধার হয়নি। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগকে ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বানানো
হয়। ২০২৪ সালের ২৪শে জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর জেনারেল জামান প্রথমদিকে সেনাবাহিনীর কমান্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন। সাইফুল ও মুজিবের সঙ্গে তার সংঘাত স্পষ্ট ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মতিউর রহমান ও জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার মতো কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদিও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই থেকে সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন করা হয়, তাদের শিথিলতার কারণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক ও মেজর জেনারেল জোবায়ের সরকারের কাছে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হন। রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর নাটকীয় ঘটনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ দেয়। অস্থিরতায় ৪৩ জন নিহত হওয়ার মধ্যে সরকার ও বেসামরিক প্রশাসন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে। সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে জনরোষ তীব্র হয়। অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে ৪৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক তদন্তের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভ মিছিল বা জনতার ভিড়ে থাকা ব্যক্তিরা হঠাৎ পেছন থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে বা অজ্ঞাত কারণে আহত হয়ে ঢলে পড়ছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা পুলিশ এই অজ্ঞাত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনাবাহিনী এই হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারাও যারা দাবি করেন যে তারা অস্থিরতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করছেন এবং হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও গ্রেপ্তার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডিজিএফআইয়ের হামিদুল হকের সুপারিশে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হন। স্নাইপার ও ৭.৬২ মি.মি. বুলেট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে অপসারণ করা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেন, ‘পুলিশ হত্যার কোনো বিচার হবে না; এটি ময়দানেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।’ জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে জুলাইয়ের অস্থিরতাকে ‘যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছে এবং নিহত ও আহতদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের (২০০১-২০০৬) আমলে বাংলাদেশ বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল, যার প্রমাণ ১০ ট্রাক অস্ত্র চালান মামলা। তারেক রহমানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, জুলাই-আগস্ট অস্থিরতায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জড়িত থাকার ঘটনা—যা সেনাবাহিনীর একটি অংশের সঙ্গে সমন্বয়ে হয়েছিল—পুলিশ হত্যা ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের তদন্ত দমন করে চাপা দেওয়া হয়েছে।



