সেই থেকে ‘কালো’ চঞ্চল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ জুন, ২০২৫
     ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সেই থেকে ‘কালো’ চঞ্চল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ জুন, ২০২৫ | ৮:৩৭ 167 ভিউ
স্বাধীনতার পর চঞ্চল তার বাবার ইয়াসিকা ক্যামেরাটা নিয়ে প্রায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় যেতেন। তখন তিনি এইটে পড়েন। বঙ্গবন্ধু ফটোগ্রাফারদের খুব পছন্দ করতেন, প্রশ্রয় দিতেন। আর শিশুদের প্রতি তাঁর মমতার অন্ত ছিল না। কম বয়সী আলোকচিত্রী চঞ্চলকে প্রথম দেখেই বঙ্গবন্ধু ‘তুই’ বলে ডাকলেন। সেই ‘তুই’ ডাকটা চঞ্চলের মনে চিরদিনের মতো গেঁথে যায়। একদিন চঞ্চল ৩২ নম্বরে গিয়ে দেখেন বঙ্গবন্ধু ভাত খাচ্ছেন। দূর থেকে ছবি তুলতে দেখে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এই ভাত খাইতাছি, গেঞ্জি পরে ভাত খাই; আর তুই ছবি তোলস? বয় এইখানে। ওই ওরে ভাত দে। কই মাছ দে।’ বঙ্গবন্ধু কই মাছ খুব পছন্দ করতেন। এই ঘটনায় চঞ্চল অবাক হয়ে গেলেন। তিনি অবাক

হয়ে ভাবতেন, কী সুন্দর একটা মানুষ, কী সুন্দর চুল-গোঁফ, চুলগুলো হাত দিয়ে কী স্টাইল করে আঁচড়ান। এমনভাবে পাইপটা ধরাতেন সেই দৃশ্য ভুলতে পারেন না চঞ্চল। মাঝে মাঝে বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘এই খাড়া, ঠিক করে লই; এইবার তোল।’ বঙ্গবন্ধু এভাবেই কথা বলতেন। তাঁর বলার মধ্যে কোনো ভণিতা ছিল না। মাঝে মাঝে বকাও খেয়েছেন। সকালে কবুতরের খোয়াড়গুলো যখন খোলা হতো তখন কবুতরগুলো বঙ্গবন্ধুর মাথায় এসে বসতো, দুই কাঁধে বসতো। উনি কথা বলতেন কবুতরগুলোর সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু তখন প্রধানমন্ত্রী। একদিন চঞ্চল দেখলেন, ৩২ নম্বরে যে পাহারাদার থাকতো তাকে বঙ্গবন্ধু ঘাড়ে ধরে বললেন, ‘আয়, তোর মুখটা শুকায়ে গেছে।’ পাহারাদার তো কাঁচুমাচু হয়ে বলে “স্যার”। বঙ্গবন্ধু তাকে বেড়ে খাওয়ালেন। এই

দৃশ্য দেখে চঞ্চল অবাক হয়ে ভাবলেন, ইনি তো অন্য এক মানুষ। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট সকালে চঞ্চল রেডিওতে শুনলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। শুনে তিনি অস্থির হয়ে গেলেন। দৌড়ে চলে গেলেন ৩২ নম্বরের দিকে। আশপাশে যারা ছিলেন, তারাও এলেন। দেখলেন, বাড়িটার জায়গায় জায়গায় গুলির ক্ষত। বাড়ির ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়নি। প্রথমে ব্যারিকেড ছিল না। ব্যারিকেড দেওয়া হয় পরে। কয়েক ঘণ্টা লাশগুলো এমনিতেই পড়েছিল। চঞ্চল এই দৃশ্য দেখে ফিরে এলেন নাখালপাড়ার রূপকার স্টুডিওতে। তার মাথা থেকে টপ টপ করে ঘাম ঝরছে। বমি শুরু হলো। রূপকারের মালিক লুৎফর বারী লাল তাকে ফার্মগেটের একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। স্যালাইন দেওয়া হলো। কিন্তু হেঁচকি থামছে না। ভয়ার্ত মুখ

দেখে ডাক্তার বললেন, ছেলেটার মনে হয় আপন কেউ মারা গেছে। তখন লুৎফর বারী লাল ডাক্তারকে সব ঘটনা খুলে বললেন। ৮ দিন ছিলেন হাসপাতালে। সুস্থ হয়েও শোকে আচ্ছন্ন চঞ্চল কয়েকদিন ভাত খেতে পারেননি। এরপর তিনি প্রায়ই ৩২ নম্বরের উল্টোদিকের রাস্তায় চুপচাপ বসে থাকতেন। নীরবে কাঁদতেন। গোয়েন্দা বিভাগের লোকেরা তাকে দেখতেন। তারা বুঝতে পারতেন, ছেলেটা কেন কষ্ট পায়। অনেককে উঠিয়ে দিলেও তাকে দিতেন না। পঁচাত্তর সালেই ১৮ বছরের যুবক চঞ্চল সিদ্ধান্ত নিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে কালো কাপড় পরার। রঙিন কোনো কিছু আর পরবেন না। তার আলোকচিত্রের গুরু মনজুর আলম বেগ বলেছিলেন, কালো সব কিছু শুষে নেয়। সেই থেকে কালো পরা শুরু। শুধু পোশাকই নয়, তার

স্টুডিও কিংবা বাসার প্রায় বেশির ভাগ জিনিসপত্রের রঙই কালো, এমনকি তার কাচের দরজাটাও। বঙ্গবন্ধু চঞ্চলকে একটা পতাকা উপহার দিয়েছিলেন। অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে তিনি ওই পতাকাটা সযত্নে সংরক্ষণ করেছেন। একদিন তার স্ত্রী বলল, ফাঙ্গাস পড়ে গেছে, ধুয়ে দিই। চঞ্চল বলেন, ‘কী বলো! ধুলে তো বঙ্গবন্ধুর স্পর্শই চলে যাবে।’ অনেকে তাকে বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার তো শেষ হয়ে গেছে, এখন কালো পোশাক ছেড়ে দেন।” চঞ্চল তাদের বলেন, এটা তার নীরব প্রতিবাদ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত এটা তিনি ছাড়বেন না। সেই থেকে ৪৯ বছর ধরে তিনি কালো কাপড় পরিধান করেন। পঁচাত্তরের সেই টগবগে প্রতিবাদী যুবকটিই এখন দেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ। গ্ল্যামার, মডেল ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হিসেবে এ

দেশের মানুষ তাকে একনামে চেনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
সুদখোর আর জামায়াতের হাতে স্বাধীনতার ইতিহাস ইউনুসের অবৈধ শাসনে বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বের অচ্ছুত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আতঙ্ক, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা শেখ হাসিনাকেই চাই, মরতেও রাজি আওয়ামী লীগ আমলেই ভালো ছিলাম”: চাল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ ১৬ বছরের উন্নয়ন আগামী ৫০ বছরেও কেউ করতে পারবে না: সাধারণ নাগরিকের অভিমত পিতার নামে শপথ নেওয়ার দিন আজ গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট খুনখারাপির বাংলাদেশ, জঙ্গিদের বাংলাদেশ, অবৈধ শাসনের বাংলাদেশ ইরানের এক শহরেই বিক্ষোভে ৮ সেনা নিহত গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে : খামেনি গ্রিনল্যান্ড ঠিক কী কারণে দরকার, জানালেন ট্রাম্প বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা গ্রহণের হার বেড়েছে ৫ গুণ সিসিটিভি ফুটেজে দুই শুটারের চেহারা স্পষ্ট, পরিচয় মেলেনি ২ দিনেও বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজিরও নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ-রুপা, বাজারদর জেনে নিন