সুদ হার কমানো ও ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইয়ের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৬

সুদ হার কমানো ও ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি এফবিসিসিআইয়ের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৬ |
সুদ হার কমানো এবং একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সেই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ঋণ সহায়তা বাড়াতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে ধাপে ধাপে ইডিএফ তহবিল বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর। মো. আলমগীর বলেন, ‘ইডিএফ তহবিলে আগে ৭ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা বর্তমানে কমে ২ দশমিক ৩ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ সন্তোষজনক থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিবেচনায় ডলার বাজারে চাপ এড়াতে আমরা

তহবিল ৫ বিলিয়নে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছি। গভর্নর তা ধীরে ধীরে বাড়ানোর কথা বলেছেন।’ রপ্তারিকারকদের ঋণ সুবিধা দিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ইডিএফ গঠন করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ এ তহবিলের আকার ছিল ৩৫০ কোটি বা সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। কোভিড মহামারির শুরুর পর প্রথম দফায় সরকারের নির্দেশে ইডিএফের আকার ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এরপর কয়েক দফায় বাড়ানোর পর এর আকার এক সময় ৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। বর্তমানে এ তহবিলে প্রায় ২৩০ কোটি বা ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আছে বলে জানা গেছে। মো. আলমগীর বলেন, ‘গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সুদহার কমানো ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার থাকা ব্যাংকগুলোর

আমানতকারীদের যেন স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।’ সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা ‎একক গ্রাহক ঋণসীমা ১৫ শতাংশ থেকে আরও ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক যেন তার পরিশোধিত মূলধনের এক চতুর্থাংশ অর্থের পরিমাণ একজন গ্রাহককে ঋণ দিতে পারে সেই দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। যদিও আর্থিক খাতে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ঋণসীমা বাড়ালে ঋণ পুঞ্জীভূত হবে। এমনকি একজন গ্রাহক খেলাপি হলে ব্যাংক বড় চাপে পড়বে, যা বিগত সরকারের সময় ঘটেছে। আর সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ব্যাংকিং খেলাপি ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বৈঠকে ‎এফবিসিসিআই নেতারা ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে রাখা এবং খেলাপি ঋণের নিয়ম শিথিল করার

দাবি জানিয়েছেন। যদিও ২০২০ সালে এপ্রিলে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা পরে আইএমএফের চাপে বাজারভিত্তিক করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতিতে অনাদায়ি বা খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআই আজ লিখিতভাবে পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়ে পড়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। এফবিসিসিআই বলছে, খেলাপি ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের অন্তরায় তৈরি করছে। তাই অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনা জরুরি। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পক্ষে নয়। তবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়েছেন, তাঁদের জন্য পুনর্বাসনমূলক

নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করে এফবিসিসিআই। এতে করে এসব উদ্যোক্তা পুনরায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যান, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করলে সামগ্রিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে। এদিকে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা জোরদারের দাবি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুদ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। বৈঠকে এফবিসিসিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা; বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার

করা; ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখা; আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে সহায়তা; ঋণ পুনঃতফসিল করা; সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্যাকেজ; বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি; সরকারি ঋণ কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন বাড়ানো; প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ও সহজ ঋণ সুবিধা; এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা সহায়তায় জামানতবিহীন ঋণ ও ব্যাংকে হেল্প ডেস্ক চালু; গ্রিন ফাইনান্সিং; সৌরশক্তি ব্যবহারে স্বল্পসুদে ঋণ; শিল্প খাতের ব্যাংকিং সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিশেষ কমিটি গঠন প্রভৃতি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিহিংসামূলক নীতি তা নষ্ট করছে: আজিজ খান রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ থেকে এখন বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ টিটিপির নিশানায় বাংলাদেশ: সারাদেশে ‘রেড অ্যালার্ট বহুমুখী সংকটে শিল্পখাত, টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে সিমেন্টসহ উৎপাদন খাত হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করল বাংলাদেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকার ছবি তুলে বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই বিশ্বকাপ মিসের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন শুরুর লক্ষ্য লিটনের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর দুর্নীতির আখড়া ডিএনসিসি: বাজারদরের ৬ গুণ বেশি দামে পণ্য ক্রয়, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ দিতে বারবার দরপত্র বাতিল, শর্ত বদল ডিএনসিসির ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম: বাজেয়াপ্ত পে-অর্ডারের সাড়ে ৭ কোটি টাকা উত্তোলন, জানে না কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ সফল করতে নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভা — সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রগতির দৃঢ় অঙ্গীকার শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল তেলের লাইনে মৃত্যু—এটা কি শুধু একটি দুর্ঘটনা, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি? বিদ্যুৎ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ – বিএনপি সরকার ঘুমে ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, একটি ঘটনারও বিচার হয়নি মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক ফারুকীর নাশতায় প্রতিদিন খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা” গণঅভ্যুত্থান নয়, ৫ আগস্ট ছিল সুপরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’: পুরো সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য