সুদখোর আর জামায়াতের হাতে স্বাধীনতার ইতিহাস – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৮:৩২ অপরাহ্ণ

সুদখোর আর জামায়াতের হাতে স্বাধীনতার ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৮:৩২ 8 ভিউ
জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর ক্ষমতায় আসা ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এখন পাঠ্যবই থেকে 'বঙ্গবন্ধু' শব্দটি মুছে ফেলছে। শেখ মুজিবুর রহমানকে এখন শুধু 'শেখ মুজিবুর রহমান' লিখতে হবে, 'বঙ্গবন্ধু' নয়। এটা কোনো সাধারণ সম্পাদনা নয়, এটা একটা সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রকল্প। যে প্রকল্পের লক্ষ্য হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়া, স্বাধীনতার নায়কদের খাটো করা এবং পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসিত করা। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। সেদিন থেকে আজ অবধি ৫৬ বছর ধরে তিনি এই নামেই পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, গেরিলা যোদ্ধাদের স্লোগান, বিশ্ব নেতাদের বক্তৃতা সবখানে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

কিন্তু এখন হঠাৎ করেই এই শব্দটা সমস্যা হয়ে গেল কেন? কারণ এই সরকারের পেছনে যারা আছে, তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু শব্দটা সহ্য করার মতো নয়। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের বুদ্ধিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই শব্দটাকে অস্বীকার করে এসেছে। জুলাইয়ের দাঙ্গাবাজরা রাস্তায় নেমে শেখ মুজিবকে 'মুজিব' বলে তাচ্ছিল্য করেছে, এবং এখন সেই তাচ্ছিল্যই রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে লিখিত নির্দেশনা এসেছে, এনসিটিবি সেই নির্দেশনা মেনে পাঠ্যবইয়ে সংশোধন করেছে। অষ্টম শ্রেণির 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে যে অধ্যায়, সেখানে সাতটি জায়গার মধ্যে ছয়টিতে 'বঙ্গবন্ধু' শব্দটা বাদ দেওয়া হয়েছে। একটা জায়গায় রয়ে গেছে, সম্ভবত ভুলবশত। এই যে পদ্ধতিগতভাবে একটা

শব্দ মুছে ফেলার প্রক্রিয়া, এটা কোনো একাডেমিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা রাজনৈতিক প্রতিশোধ। কিন্তু শুধু পাঠ্যবই থেকে শব্দ মুছে দিলেই কি ইতিহাস বদলে যায়? দেশে লাখো বই আছে যেখানে বঙ্গবন্ধু শব্দটা লেখা আছে। হাজার হাজার গবেষণাপত্র, নথিপত্র, ছবি, ভিডিও আছে যেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু নামেই চিহ্নিত। সরকার কি সেগুলো সব পুড়িয়ে ফেলবে? ইন্টারনেট থেকে মুছে দেবে? মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলবে? ইতিহাস এভাবে মোছা যায় না। ইতিহাস বিকৃত করার প্রতিটা প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। কিন্তু পাঠ্যবই থেকে শব্দ মোছাটা আসলে একটা বড় প্রকল্পের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র। আসল লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাসটাই নতুন করে লেখা। এবং সেই কাজটা চলছে পুরোদমে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শামীম আজাদ বলছেন, পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, এটা মানতে তিনি রাজি নন। জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম বাবু বলছেন, মুজিব বাহিনীর 'গণহত্যার' জবাবেই পাকিস্তানের 'ক্র্যাকডাউন' হয়েছিল। মুফতি আমির হামজা বলছেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুধে। শিবিরের নেতা নিজামী এবং গোলাম আযমকে 'সূর্যসন্তান' বলছেন। বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধকে 'প্রতিরোধ যুদ্ধ' এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে 'দখলদার বাহিনী' বলা হচ্ছে, যেন তারা কোনো বিদেশি শক্তি ছিল না, নিজেদের দেশেরই বাহিনী ছিল। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার সরাসরি বলছেন, শেখ মুজিব বিশ্বাসঘাতক। এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো মন্তব্য নয়। এগুলো একটা পরিকল্পিত অভিযান। যে অভিযানের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে একটা বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন

করা। যেন মুক্তিযুদ্ধ আসলে ঠিক-ভুল, ন্যায়-অন্যায়ের কোনো প্রশ্ন নয়, বরং দুটো পক্ষের একটা সংঘাত ছিল, যেখানে উভয় পক্ষেরই যুক্তি ছিল। মজার ব্যাপার হলো, ইউনূস সরকার নিজেও এই বিতর্কে অংশ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, 'মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস' তুলে ধরতে হবে। প্রশ্ন হলো, 'প্রকৃত ইতিহাস' মানেটা কী? এতদিন ধরে যা লেখা হয়েছে, যা পড়ানো হয়েছে, যা জানা হয়েছে, সেটা কি মিথ্যা ছিল? হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে যে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে কি মিথ্যা লেখা আছে? রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের মতো যুদ্ধের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা

যা লিখেছেন, সেগুলো কি বানানো? ইতিহাসবিদ এবং গবেষকরা যা লিখেছেন, আফসান চৌধুরীর মতো মানুষ যারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে বই লিখেছেন, সেগুলো কি সব ভুল? বদরুদ্দীন উমর ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক-প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয়নি। যেটা লেখা হয়েছে সেটা হলো সরকারি ভাষ্য, যা লেখা হয়েছে সেটা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মিথ্যা।" বদরুদ্দীন উমর অবশ্যই একজন শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবী ছিলেন, কিন্তু তার এই মন্তব্যটা অত্যন্ত দায়িত্বহীন এবং বিপজ্জনক। কারণ এই একটা বাক্যকে পুঁজি করে এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি পুরো ইতিহাসটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা বলছে, দেখো, বদরুদ্দীন উমরই বলছেন ৮০-৯০ ভাগ মিথ্যা, তাহলে আমরা যা বলছি তাতে

দোষ কী? কিন্তু ইতিহাসের কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, এটা ঠিক। ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না, কীভাবে দিয়েছিলেন, কোন সময়ে দিয়েছিলেন, এসব নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। ৭ই মার্চের ভাষণে কেন সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না, এটা নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এসব নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু এসব বিতর্কের মানে এই নয় যে মুক্তিযুদ্ধের মূল ঘটনাগুলো, মূল সত্যগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। মূল সত্যগুলো হলো, পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণ করা হয়, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এই মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা। তার নামেই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন। তার নেতৃত্বেই স্বাধীনতা এসেছে। এবং যুদ্ধাপরাধীরা, জামায়াত-শিবির, রাজাকার-আলবদর-আল শামস পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মিলে বাঙালি হত্যা করেছে। এসব মূল সত্য কেউ পাল্টাতে পারবে না। কিন্তু এখন চেষ্টা হচ্ছে এই মূল সত্যগুলোকেই বিতর্কিত করে তোলার। বলা হচ্ছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেনি পাকিস্তানি বাহিনী। বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের 'ক্র্যাকডাউন' আসলে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ছিল। বলা হচ্ছে, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি, শুধু ভারতের বিরোধিতা করেছে। বলা হচ্ছে, নিজামী এবং গোলাম আযম আসলে 'সূর্যসন্তান' ছিলেন। এসব কথা শুনলে যে কারও রক্ত ফুটে ওঠার কথা। কিন্তু ইউনূস সরকার এসব বয়ানের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না। বরং তাদের নীরব সমর্থন দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে জুলাইয়ের দাঙ্গার মাধ্যমে। সেই দাঙ্গার পেছনে ছিল বিদেশি অর্থ, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থন। একটা নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করা হয়েছে। এবং এখন সেই অবৈধ সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে খেলা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করছে। স্বাধীনতার শত্রুদের সম্মান দেখাচ্ছে। এবং স্বাধীনতার নায়কদের অপমান করছে। ইউনূস নিজে একজন সুদী মহাজন। তার গ্রামীণ বাংক দরিদ্র মানুষকে চড়া সুদে ঋণ দিয়ে তাদের জীবন নরক করে দিয়েছে। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে একজন মানবহিতৈষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের কাছে তিনি একজন শোষক ছাড়া আর কিছু নন। এবং এখন সেই শোষকই দেশ চালাচ্ছে, এবং ইতিহাস বিকৃত করছে। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করে আসছে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই তারা নানা ধরনের বয়ান ছড়িয়েছে। কিন্তু এখন তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে এই কাজটা করছে। এবং এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকলে পাঠ্যবই বদলানো যায়, পাঠ্যক্রম বদলানো যায়, নতুন প্রজন্মকে ভুল শেখানো যায়। এবং সেটাই হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস এত সহজে বদলায় না। লাখো মানুষ মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, অংশ নিয়েছেন, পরিবার হারিয়েছেন। তাদের স্মৃতি, তাদের বেদনা, তাদের গর্ব কোনো সরকারি নির্দেশে মুছে যাবে না। পাঠ্যবই থেকে 'বঙ্গবন্ধু' শব্দটা মুছে ফেললেও ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের বয়ান বদলানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃত সত্য চাপা দেওয়া যাবে না। ইউনূস সরকার এবং তাদের সহযোগী জামায়াত-শিবির এবং ইসলামি জঙ্গিরা ভাবছে তারা হয়তো ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষেই থাকে। এবং সত্য হলো, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ন্যায়যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ছিলেন এর নেতা, এবং জামায়াত-রাজাকাররা ছিল দেশদ্রোহী। এই সত্য কোনোদিন বদলাবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬ তেহরানসহ একাধিক জায়গায় ফের জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা বাড়ল স্বর্ণের দাম আবারও বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা সরকারি অনুদানের সিনেমায় রাজ-মিম জুটি নিউজিল্যান্ড সিরিজে কোহলি-রোহিতের ওপর ভরসা রাখছেন গিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নেতাদের হাতে শিক্ষক হেনস্তা সার্চের ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া যাবে ইউটিউবের শর্টস ১৫ লাখ পোস্টাল ভোট: অদৃশ্য খামের ভেতরেই কি লুকিয়ে নির্বাচনের ভাগ্য? সুদখোর আর জামায়াতের হাতে স্বাধীনতার ইতিহাস ইউনুসের অবৈধ শাসনে বাংলাদেশিরা এখন বিশ্বের অচ্ছুত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আতঙ্ক, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা শেখ হাসিনাকেই চাই, মরতেও রাজি আওয়ামী লীগ আমলেই ভালো ছিলাম”: চাল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ ১৬ বছরের উন্নয়ন আগামী ৫০ বছরেও কেউ করতে পারবে না: সাধারণ নাগরিকের অভিমত পিতার নামে শপথ নেওয়ার দিন আজ গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট