সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: কমনওয়েলথ মহাসচিবকে ড. মোমেনের জরুরি বার্তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: কমনওয়েলথ মহাসচিবকে ড. মোমেনের জরুরি বার্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ |
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কমনওয়েলথ মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আজ (১৯ নভেম্বর) পাঠানো এই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক একটি রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং সেই রায়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিতর্কিত ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আগামী ২০ থেকে ২৪ নভেম্বর কমনওয়েলথ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই চিঠিটি দেওয়া হলো। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের 'অপব্যবহার' নিয়ে অভিযোগ চিঠিতে ড. মোমেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের (Volker Türk) দেওয়া একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই

প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মতো রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ড. মোমেন অভিযোগ করেন, "এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC) দ্বারা অনুমোদিত নয় এবং এটি পর্যালোচনার জন্যও সেখানে জমা দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) লঙ্ঘন করে এই প্রতিবেদনটি ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি দাবি করেন, এই ধরনের একপাক্ষিক পদক্ষেপ জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে এবং মানবাধিকার ব্যবস্থাকে রাজনীতিকরণের ঝুঁকিতে ফেলছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ প্রতিফলন। তিনি বলেন, "বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুতগতি, উপস্থাপিত প্রমাণের ধরন এবং একটি অননুমোদিত জাতিসংঘ প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরতা—সবই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।" কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে ৪ দফা দাবি কমনওয়েলথ মহাসচিবের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. মোমেন দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চারটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মহাসচিবকে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়ে বলেন: ১. অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: অবিলম্বে আওয়ামী লীগসহ (বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল) সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার আয়োজন করতে হবে। ২. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: রাজনৈতিক দল, সমাবেশ ও র‍্যালির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ৩. বন্দিদের মুক্তি: জরুরি অবস্থা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং সুশীল

সমাজের প্রতিনিধিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। ৪. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক: আস্থা ফেরাতে এবং সহিংসতা রোধে বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ বা সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চিঠির শেষে ড. মোমেন সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ এখন গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এই মুহূর্তে কমনওয়েলথ এবং জাতিসংঘের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও নীতিগত অবস্থানই কেবল বাংলাদেশকে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ফিরল, উৎস নিয়ে প্রশ্নও তোলা যাবে না আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা দেশে বিনিয়োগ কমলেও জিডিপি বেড়েছে লাইফস্টাইল টিপস: এই তীব্র গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই থাকায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ৩ শতাধিক বই জব্দ করল জেলা প্রশাসন মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ: ‘জীবন বাঁচাতে চুপ ছিলাম অন্তরীণ সরকারের সময়, তবু এনসিপি-জাশির আক্রমণ থামছে না’ থানায় পিঠ বাঁচলেও ডিসি অফিসে ধোলাই খেলেন পুলিশ হত্যাকারী সমন্বয়ক মাহাদী বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ নতুন জামা থেকে রং ওঠলে কী করবেন বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘ডিসক্লোজার ডে’ করছাড় পাচ্ছে আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ গৃহকর্মী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে কলিতা মাঝি পেলেন গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় তদন্তের আগেই দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি, ডিএই’র ডিজি লাঞ্ছিত পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ঝুঁকিতে হাজারো আমানতকারীর অর্থ ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারে বড় পতন জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার