সক্ষমতা তলানিতে তিন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

সক্ষমতা তলানিতে তিন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ |
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে গতকাল জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। উৎপাদন সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে মফস্বল এলাকায়, যেখানে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গ্যাস, জ্বালানি তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দেশের তিনটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে না থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আদানি, এসএস পাওয়ার ও আরএনপিএলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে এগুলো থেকে গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ৩৯ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগ

আশা করছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে এবং ঘাটতি কিছুটা কমবে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা-১) উম্মে রেহানা গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের আটটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা আদানির একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ কেন্দ্রের ইউনিটটি ২৬শে এপ্রিল পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে। এছাড়া বাঁশখালীতে আইপিপি-ভিত্তিক এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিলের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। ফলে বাড়তি আরো ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ দেয়া গেলে এ সংকট কিছুটা নিরসন হবে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আরএনপিএলের

একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এটা উৎপাদনে আনার কথা জানিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে গ্রিডে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আদানি পাওয়ারের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২১ এপ্রিলও কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এ কেন্দ্র থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পটুয়াখালীতে আরপিসিএল ও নরিনকো পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা আরএনপিএলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। দীর্ঘদিন ধরে কয়লা সংকটে ভোগা কেন্দ্রটির একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) থেকে এখন ৩০৭ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্য ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরএনপিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা একটি ইউনিট অর্ধেক সক্ষমতায় চালিয়ে যাচ্ছি। আরেকটি ইউনিটের জন্য কয়লা আমদানি অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূলত কয়লা সংকট, টেন্ডার জটিলতার জন্য এ ইউনিটটি চালু করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে মে মাসের শুরুতে করা যাবে কিনা তা নিয়ে একটু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বেসরকারি অর্থায়নে নির্মিত এসএস পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ৬০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে

এসএস পাওয়ার প্লান্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইবাদত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের যে ইউনিটটি চালু করার কথা বলা হচ্ছে, সেটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কতদিন চালু রাখা যাবে সেটা বলা মুশকিল। বিপিডিবির কাছে বকেয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি মাসে পেমেন্ট দেয়া হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আগামী মাসে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি রয়েছে ১৪৫ মিলিয়ন ডলার। ফলে যে অর্থ দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে কীভাবে জ্বালানি আমদানি করব আর কীভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব? আমরা বার বার বলছি বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে, কারণ টাকা ছাড়া তো জ্বালানি আমদানি করা যাচ্ছে না। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির হিসাবে

২২ এপ্রিল পর্যন্ত এ তিনটি বড় কেন্দ্র থেকে মোট ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। ফলে সক্ষমতার তুলনায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনটি ইউনিটের মধ্যে সচল থাকা ১ নম্বর ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বন্ধ হয়। শেষ ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন ৫০-৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। জ্বালানি সংকটের কারণে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় মফস্বল ও প্রান্তিক এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। বর্তমানে এ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দিনে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটে

পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্তের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সারাদেশে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি রয়েছে, যা বিতরণ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে লোডশেডিং করে সমন্বয় করা হচ্ছে। ২২ এপ্রিল পিজিসিবির হিসাবে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৪৯৩ মেগাওয়াট, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের হিসাবে একই সময়ে তা ছিল ৩ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় সংসদে গতকাল ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কৃষকরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এ উত্তপ্ত গরমে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এ সমস্যা একদিনের নয়। এ পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারো নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই কাটানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপির পর এবার এনসিপিতে যোগ দিলেন পুরান ঢাকার কুখ্যাত চাঁদাবাজ ইসহাক সরকার মার্কিন দূতাবাসের জন্য বিশেষ স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিটঃ বুরকিনা ফাসো’র কাতারে বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হামের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সক্ষমতা তলানিতে তিন বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে তারেক রহমানকে ঘিরে দুর্নীতির আশঙ্কায় আইএমএফ ঋণ বন্ধ: রেজা কিবরিয়া ধানের নতুন দাম নির্ধারণ, হাওরে বোরো চাষিরা হতাশ ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত, তেহরানের জন্য কমল সময় অসামান্য প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ মাতাতে পারেন ফ্রান্সের অলিসে ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশে তালেবান নেটওয়ার্কের বিস্তার: কূটনীতির নামে উগ্রবাদী তৎপরতা, উদ্বেগ ও বিবিধ প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে একদিনেই ছাত্রলীগের তিন মিছিল, উদ্দীপ্ত সারাদেশের নেতাকর্মীরা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ মিত্রদের জন্য হরমুজে ফি মওকুফ করল ইরান, কারা আছেন তালিকায় ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন ক্যাম্পাসে উত্তেজনার ঝড় বড় সংঘাতের আশঙ্কা সালাউদ্দিন আম্মারকে সতর্ক করে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল তেহরান তেলের সংকট আরও তীব্র হতে পারে, বাড়ছে দাম