ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পুরান ঢাকায় গণশৌচাগার দখল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়
শাহবাগে ৪০ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৪: প্রশ্নবিদ্ধ নতুন নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
এবার ফেনীতে নিজ বাড়ির সামনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে, গলা-হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা
সেই মিন্নির কারাজীবনের অজানা অধ্যায় সামনে এলো
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে গুলিবর্ষণ, রক্তাক্ত ৭ জন
‘সংসার চলে না, চিকিৎসা বন্ধ’— ব্যাংক একীভূতকরণের জাঁতাকলে পিষ্ট ৩ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ
“দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সঞ্চয়, পেনশন আর জমি বিক্রির টাকা রেখেছিলাম পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই আমানত ফেরত না পেয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছি। মুনাফা দূরের কথা, জমা রাখা টাকাও পাইনি। এখন সংসারও চলছে না।”
আজ ২৯শে জুন, সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এভাবেই নিজের চরম আকুতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাইদুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী আমানতকারী।
তিনি তার জীবনের সব সঞ্চয় রেখেছিলেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। আজ তার মতোই হাজারো আমানতকারী রাস্তায় নেমে এসেছেন নিজেদের হকের টাকা ফিরে পাওয়ার দাবিতে।
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায়
থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে আজ এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এর আগে সকাল ১১টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় আমানতকারীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘হই হই রই রই, আমানতের টাকা গেল কই’, ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়?’, ‘হেয়ার কাট, হেয়ার কাট, মানি না মানব না’ ইত্যাদি। আন্দোলনকারীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন (যা ‘হেয়ার কাট’ নামে পরিচিত) এবং মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে ব্যাংক থেকে স্বাভাবিকভাবে কোনো টাকা তুলতে না পেরে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা বেশ কয়েকটি জরুরি দাবি তুলে ধরেন: বিতর্কিত ও অন্যায্য ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখা) নীতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী মুনাফাসহ মূল আমানত দ্রুত ফেরত দিতে হবে। অন্যান্য সব ব্যাংকের মতো এই ব্যাংকগুলোতেও স্বাভাবিক লেনদেন চালু করতে হবে। তারল্যসংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সহায়তা
প্রদান করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে। এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী নাজিয়া হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্যাংকে আমানত রাখা কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি নয়, এটি একজন নাগরিকের নিরাপত্তার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু এখন চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, সংসারের ব্যয় এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও আমরা আমাদের সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, শুধু আমাদের ন্যায্য আমানত ও মুনাফা ফেরত চাই।” আমানতকারীদের দাবি, ব্যাংক-কোম্পানি আইন এবং আমানত রাখার চুক্তি অনুযায়ী এই অর্থ ফেরত পাওয়া তাঁদের আইনি অধিকার। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করায় আনুমানিক
৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য আজ চরম মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা আমাদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি পাঠিয়েছি। আমরা আমাদের ন্যায্য অর্থের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু আমানতকারীদের অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া না হলে, আমরা আগামীতে আরও কঠিন ও তীব্র কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।” উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা যে ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, সেগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকে দেশের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর
মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে, যা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে আজ এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এর আগে সকাল ১১টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় আমানতকারীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘হই হই রই রই, আমানতের টাকা গেল কই’, ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়?’, ‘হেয়ার কাট, হেয়ার কাট, মানি না মানব না’ ইত্যাদি। আন্দোলনকারীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন (যা ‘হেয়ার কাট’ নামে পরিচিত) এবং মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে ব্যাংক থেকে স্বাভাবিকভাবে কোনো টাকা তুলতে না পেরে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা বেশ কয়েকটি জরুরি দাবি তুলে ধরেন: বিতর্কিত ও অন্যায্য ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখা) নীতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী মুনাফাসহ মূল আমানত দ্রুত ফেরত দিতে হবে। অন্যান্য সব ব্যাংকের মতো এই ব্যাংকগুলোতেও স্বাভাবিক লেনদেন চালু করতে হবে। তারল্যসংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সহায়তা
প্রদান করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে। এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী নাজিয়া হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্যাংকে আমানত রাখা কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি নয়, এটি একজন নাগরিকের নিরাপত্তার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু এখন চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, সংসারের ব্যয় এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও আমরা আমাদের সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, শুধু আমাদের ন্যায্য আমানত ও মুনাফা ফেরত চাই।” আমানতকারীদের দাবি, ব্যাংক-কোম্পানি আইন এবং আমানত রাখার চুক্তি অনুযায়ী এই অর্থ ফেরত পাওয়া তাঁদের আইনি অধিকার। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করায় আনুমানিক
৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য আজ চরম মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা আমাদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি পাঠিয়েছি। আমরা আমাদের ন্যায্য অর্থের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু আমানতকারীদের অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া না হলে, আমরা আগামীতে আরও কঠিন ও তীব্র কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।” উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা যে ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, সেগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকে দেশের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর
মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে, যা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।



