লোডশেডিং-ই কি এখন বিএনপি সরকারের সরকারি নীতি? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩ মার্চ, ২০২৬
     ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

লোডশেডিং-ই কি এখন বিএনপি সরকারের সরকারি নীতি?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৪৪ 10 ভিউ
একজন বিদ্যুৎমন্ত্রী যখন বলেন “লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো”, তখন সবার আগে জিজ্ঞেস করা দরকার, কার কষ্ট? উনি কি নিজে সেই কষ্ট ভাগ করে নেবেন? মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখন ৩৫-৩৬ ডিগ্রি গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে বসে থাকে, গুলশান-বনানী তখন ঠান্ডা এসিতে ঘুমায়। এই সত্যটা কিন্তু মন্ত্রী সাহেব বেমালুম এড়িয়ে গেলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই একটা ন্যারেটিভ তৈরি করছিল যে দেশের বিদ্যুৎ খাত আসলে ঋণের বোঝার উপর দাঁড়িয়ে আছে। কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা না, বিপিডিবির আর্থিক সংকট বাস্তব। কিন্তু এই সত্যটাকে ব্যবহার করে তারা আসলে যা করছে সেটা হলো, ভবিষ্যতের যেকোনো ব্যর্থতার জন্য আগাম একটা এক্সকিউজ তৈরি করে রাখছে। “আমরা

কী করব, আগেরটাই তো এমন পেয়েছিলাম।” এই খেলা বিএনপি আগেও খেলেছে, এখনো খেলছে। তারেক রহমান একসময় বলেছিলেন বাসাবাড়ি আর শপিংমলে একসাথে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব না। এখন তার দলের মন্ত্রী বলছেন ঋণের চেয়ে লোডশেডিং ভালো। মানে দলীয় দর্শনটা একটাই, জনগণ অন্ধকারে থাকুক, সেটাই স্বাভাবিক। এই দলের কাছে বিদ্যুৎ কখনো অধিকার ছিল না, সুবিধা ছিল। আর সুবিধা দেওয়া না দেওয়া তাদের ইচ্ছার ব্যাপার। এখন যে প্রশ্নটা কেউ জিজ্ঞেস করছে না সেটা হলো, এই মন্ত্রণালয় তাহলে আছে কীসের জন্য? যদি লোডশেডিং দেওয়াটাই নীতি হয়, তাহলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিলেই তো হয়। কোটি কোটি টাকার বেতন, গাড়ি, অফিস, সচিবালয় এগুলো কি ঋণের বোঝা না? সেই

বোঝা কমানোর কথা কিন্তু মন্ত্রী বললেন না। সিস্টেম লস ১০ শতাংশ, এটা মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করলেন। প্রতি ১ শতাংশ লস মানে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি মানে বছরে শুধু এই খাতে যাচ্ছে কয়েক শ কোটি টাকা। এই লসের পেছনে দশকের পর দশক ধরে যে চুরি, লাইন ট্যাম্পারিং, রাজনৈতিক সংযোগে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ নেওয়ার সংস্কৃতি চলে আসছে, সেটা কিন্তু বিএনপির আমলেই সবচেয়ে শিকড় গেড়েছিল। সেই একই দল এখন সিস্টেম লস কমানোর কথা বলছে, এটা অনেকটা যে আগুন লাগিয়েছে সে-ই ফায়ার ব্রিগেড ডাকতে এসেছে এরকম। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের ১৩-১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। এই বকেয়াটা কীভাবে তৈরি হলো? রাতারাতি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে ক্যাপাসিটি চার্জের

নামে বিদ্যুৎ না কিনেও টাকা দেওয়ার যে চুক্তিগুলো হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। এখন সেই বকেয়ার দায় চাপানো হচ্ছে গোটা ব্যবস্থার ওপর, আর সমাধান হিসেবে বলা হচ্ছে জনগণ অন্ধকারে থাকুক। ১৭ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন হয়ে গেল, সেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো ছিল না। জনগণের একটা বড় অংশ ভোট দিতে যায়নি। সেই প্রশ্নবিদ্ধ বৈধতার উপর দাঁড়িয়ে এই সরকার এখন জনগণকে বলছে কষ্ট সহ্য করতে। যাদের ম্যান্ডেট নেই তাদের কাছ থেকে ত্যাগ স্বীকারের বক্তৃতা শোনা আর যা তা একটা ব্যাপার। “বিএনপির উন্নতি, ঘরে ঘরে মোমবাতি” এই স্লোগান পুরনো না। এটা বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতি থেকে বের হওয়া একটা সত্যি কথা। আর সেই সত্যি কথাটা

২০২৬ সালেও মিথ্যা হয়নি, বরং নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
দশ দিনে ডুবল অর্থনীতি, নাকি মঞ্চ তৈরি হচ্ছে লুটের? মার্চ ১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিকতা আলু ফলায় কৃষক, দাম পায় ফড়িয়া, ক্ষমতা ভোগ করে বিএনপি ইউনূসের সংস্কার : পোশাক বদলাও, সিন্ডিকেট বাঁচাও যাওয়ার আগে যা করে গেছেন ইউনূস, তার হিসাব কে দেবে? ছিনতাইয়ের স্বর্ণযুগ: ১০ শতাংশের দিন শেষ, ৩০ শতাংশের বাংলাদেশ ইরানে হামলা ও খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের ‘ডামি বিক্ষোভ’ পুলিশ হত্যা তদন্ত শুরু হলে পালানোর পরিকল্পনায় হান্নান মাসুদ লোডশেডিং-ই কি এখন বিএনপি সরকারের সরকারি নীতি? জাতিকে ভুল বুঝিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দেশবিক্রির চুক্তি করেছেন ইউনূস ‘কোরবানি-ভাগাভাগির’ নির্বাচনে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে বিএনপি মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার ইরানকে সমর্থন জানাল চীন সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি সংঘাতে জড়াতে চায় না যুক্তরাজ্য, চটলেন ট্রাম্প ইসরায়েলে আবারও হামলা, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ৩৮ হাজার ‘ছাত্র’কে দেখানো হয়েছে ‘ছাত্রী’ প্রকাশ্যে এলেন আলভী, দায়ী করলেন ইকরার পরিবারকেই মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশে নাগরিকদের জরুরি বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের এবার ইরানের পরমাণু স্থাপনায় যৌথ হামলা