ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অভিযানের মধ্যেও খুনোখুনি, নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনে ইসির সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী: টিআইবি
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: আজও মেলেনি বিচার, থমকে আছে আইনি লড়াই
সিলেটের ডিসির বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
জামায়াত প্রার্থীর সাম্প্রদায়িক উসকানি,প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ধর্মবিদ্বেষী বিক্ষোভ
নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না’ – সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
ডিগ্রি-সার্টিফিকেট কেড়ে নিলেও জ্ঞান কেড়ে নিতে পারবে না’: ছাত্রলীগকে শেখ হাসিনা
রাষ্ট্র নাকি জামায়াতের প্রশাসনিক উপনিবেশ?
জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর থেকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় যে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে, তার ভয়াবহতা এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা কেবল মন্ত্রিত্ব বা উপদেষ্টা পরিষদ দখল করেননি। তারা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই নিজেদের আদর্শিক অনুসারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আর এই কাজটি করা হয়েছে এমন সুপরিকল্পিতভাবে যে, মনে হয় না এটা কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল। বরং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি আর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়, আতঙ্কজনক। জেল সুপারিনটেন্ডেন্টদের মধ্যে ৭২ শতাংশ, জেলা পুলিশ প্রধানদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ, থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ এবং জেলা প্রশাসকদের
মধ্যে ৬৪ শতাংশ পদ এখন জামায়াতে ইসলামীর লোকদের দখলে। এমনকি বিচার বিভাগেও এই অনুপ্রবেশ কম নয়। জেলা জজদের ৭১ শতাংশ পদ এখন এই সংগঠনের প্রভাবাধীন বলে অভিযোগ উঠছে। এর মানে কী দাঁড়াচ্ছে? এর মানে হলো, একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে রাষ্ট্রের যতগুলো স্পর্শবিন্দু আছে, প্রায় সবগুলোতেই এখন একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর মানুষ বসে আছেন। যে জামায়াতে ইসলামীকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আর যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করা হয়, যাদের নেতাদের বিচার হয়েছে এবং ফাঁসি হয়েছে, সেই সংগঠনটিই এখন বাংলাদেশের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এই পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জুলাইয়ের সেই কালো দিনগুলোতে ফিরে যেতে হয়। যখন রাস্তায় রক্ত ছিল,
যখন শত শত তরুণের লাশ পড়ে ছিল, তখন কারা পর্দার আড়ালে সুতো টানছিল, সেটা এখন আর রহস্য নেই। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা এখানে কেন্দ্রীয়। একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, যিনি দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে সুদ আদায় করে একসময় আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিলেন, তিনিই এখন একটি অবৈধ ক্ষমতা দখলের মুখ। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে যে ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে, তার বৈধতা নেই, গ্রহণযোগ্যতা নেই, কিন্তু সামরিক বাহিনীর সমর্থন আছে। আর আছে বিদেশি শক্তির অর্থায়ন। এই দুটো ছাড়া এই ধরনের সুবিন্যস্ত রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি আদর্শিক সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট ধরনের ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম
করা। বাংলাদেশে তাদের ইতিহাস বিতর্কিত এবং রক্তাক্ত। তাদের নেতারা জাতীয় আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন, স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। কিন্তু এখন তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে প্রবেশ করেছেন শুধু নয়, তারা এখন সেই যন্ত্রটাই চালাচ্ছেন। আর এই চালনার পদ্ধতি কতটা নিয়মতান্ত্রিক আর পরিকল্পিত, সেটা এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই দখলদারিত্বের প্রভাব কী হতে পারে, সেটা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। একজন থানার অফিসার যদি একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থান থেকে কাজ করেন, তাহলে সেখানে ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত হবে? একজন জেল সুপার যদি কারাগারে বন্দিদের সাথে আচরণে তার সাংগঠনিক আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলে সেখানে মানবাধিকার রক্ষা পাবে কীভাবে? একজন জেলা জজ যদি তার রায়ে ধর্মীয় বা
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দেখান, তাহলে আইনের শাসন থাকবে কোথায়? এই প্রশ্নগুলো তাত্ত্বিক নয়, এগুলো এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই পরিবর্তনটা ঘটেছে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়। এখানে কোনো নির্বাচন হয়নি, কোনো জনমত যাচাই হয়নি। বরং একটি রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার পর, যখন দেশ বিশৃঙ্খলায় ডুবে গিয়েছিল, তখন সুযোগ নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যারা এই পরিকল্পনার পেছনে আছেন, তাদের কাছে বাংলাদেশের সংবিধান, আইন বা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোনো মূল্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ক্ষমতা দখল এবং নিজেদের আদর্শিক প্রকল্প বাস্তবায়ন। বিদেশি অর্থায়নের বিষয়টিও এখানে উপেক্ষা করার মতো নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এত বড় মাপের প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতে হলে বিপুল সম্পদ
দরকার। পদ বদল, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্ক তৈরি, সবকিছুতেই অর্থ লাগে। আর এই অর্থ এসেছে বাইরে থেকে। কোন দেশ বা কোন সংস্থা এই অর্থ দিয়েছে, সেটা জানা জরুরি। কারণ যারা টাকা দেয়, তারা শুধু দাতব্য কাজ করে না। তাদের নিজস্ব স্বার্থ থাকে, এজেন্ডা থাকে। আর সেই এজেন্ডাই এখন বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর সমর্থন ছাড়া এই ধরনের ক্যু সফল হয় না। জুলাইয়ের ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে সামরিক সমর্থন অপরিহার্য। আর সেই সমর্থন যে পাওয়া গিয়েছিল, তার প্রমাণ হলো ইউনূস সরকারের নির্বিঘ্ন ক্ষমতা
গ্রহণ এবং তার পরের প্রশাসনিক পুনর্গঠন। এই পুনর্গঠনে সামরিক বাহিনীর নীরব সম্মতি না থাকলে এতটা দ্রুত এবং ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? রাষ্ট্র তো শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, রাষ্ট্র হলো একটি প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যেখানে আইন আছে, সংবিধান আছে, নাগরিক অধিকার আছে। কিন্তু যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর মানুষ বসে যান, তখন রাষ্ট্রটা আর নিরপেক্ষ থাকে না। তখন রাষ্ট্র হয়ে যায় একটি সংগঠনের হাতিয়ার। আর সেটাই এখন ঘটছে বাংলাদেশে। যে তরুণরা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল, যারা পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল, তারা কি এই স্বপ্ন দেখেছিল? তারা কি চেয়েছিল যে একটি সংগঠন, যাদের ইতিহাস বিতর্কিত, যাদের আদর্শ প্রশ্নবিদ্ধ, তারা রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করে নেবে? নাকি তাদের ব্যবহার করা হয়েছে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তাদের পরিবারকে, যারা সন্তান হারিয়েছেন, কিন্তু পেয়েছেন একটি অপরিচিত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আগেও এসেছে, যখন রাষ্ট্রযন্ত্র বিশেষ স্বার্থের হাতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আলাদা। এবার পরিকল্পনাটা আরও গভীর, আরও সুসংগঠিত। এবার শুধু ক্ষমতা দখল নয়, রাষ্ট্রের চরিত্রই বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এই চেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষক হওয়ার কথা, তারাই এখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী, সেটা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার। যে রাষ্ট্র একাত্তরে জন্ম নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই রাষ্ট্র এখন একটি ভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে। রাস্তায় পতাকা আছে, অফিসে চেয়ার-টেবিল আছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সেই রাষ্ট্রটা আদৌ আছে কি না, যেটা সব নাগরিকের ছিল, যেটা ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। নাকি সেটা এখন শুধুই একটা স্মৃতি, আর বাস্তবে যা আছে তা হলো একটি সংগঠনের প্রশাসনিক হোস্টেল।
মধ্যে ৬৪ শতাংশ পদ এখন জামায়াতে ইসলামীর লোকদের দখলে। এমনকি বিচার বিভাগেও এই অনুপ্রবেশ কম নয়। জেলা জজদের ৭১ শতাংশ পদ এখন এই সংগঠনের প্রভাবাধীন বলে অভিযোগ উঠছে। এর মানে কী দাঁড়াচ্ছে? এর মানে হলো, একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে রাষ্ট্রের যতগুলো স্পর্শবিন্দু আছে, প্রায় সবগুলোতেই এখন একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর মানুষ বসে আছেন। যে জামায়াতে ইসলামীকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আর যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করা হয়, যাদের নেতাদের বিচার হয়েছে এবং ফাঁসি হয়েছে, সেই সংগঠনটিই এখন বাংলাদেশের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এই পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জুলাইয়ের সেই কালো দিনগুলোতে ফিরে যেতে হয়। যখন রাস্তায় রক্ত ছিল,
যখন শত শত তরুণের লাশ পড়ে ছিল, তখন কারা পর্দার আড়ালে সুতো টানছিল, সেটা এখন আর রহস্য নেই। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা এখানে কেন্দ্রীয়। একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, যিনি দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে সুদ আদায় করে একসময় আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিলেন, তিনিই এখন একটি অবৈধ ক্ষমতা দখলের মুখ। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে যে ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে, তার বৈধতা নেই, গ্রহণযোগ্যতা নেই, কিন্তু সামরিক বাহিনীর সমর্থন আছে। আর আছে বিদেশি শক্তির অর্থায়ন। এই দুটো ছাড়া এই ধরনের সুবিন্যস্ত রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি আদর্শিক সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট ধরনের ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম
করা। বাংলাদেশে তাদের ইতিহাস বিতর্কিত এবং রক্তাক্ত। তাদের নেতারা জাতীয় আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন, স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। কিন্তু এখন তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে প্রবেশ করেছেন শুধু নয়, তারা এখন সেই যন্ত্রটাই চালাচ্ছেন। আর এই চালনার পদ্ধতি কতটা নিয়মতান্ত্রিক আর পরিকল্পিত, সেটা এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই দখলদারিত্বের প্রভাব কী হতে পারে, সেটা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। একজন থানার অফিসার যদি একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থান থেকে কাজ করেন, তাহলে সেখানে ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত হবে? একজন জেল সুপার যদি কারাগারে বন্দিদের সাথে আচরণে তার সাংগঠনিক আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলে সেখানে মানবাধিকার রক্ষা পাবে কীভাবে? একজন জেলা জজ যদি তার রায়ে ধর্মীয় বা
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দেখান, তাহলে আইনের শাসন থাকবে কোথায়? এই প্রশ্নগুলো তাত্ত্বিক নয়, এগুলো এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই পরিবর্তনটা ঘটেছে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়। এখানে কোনো নির্বাচন হয়নি, কোনো জনমত যাচাই হয়নি। বরং একটি রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার পর, যখন দেশ বিশৃঙ্খলায় ডুবে গিয়েছিল, তখন সুযোগ নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যারা এই পরিকল্পনার পেছনে আছেন, তাদের কাছে বাংলাদেশের সংবিধান, আইন বা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোনো মূল্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ক্ষমতা দখল এবং নিজেদের আদর্শিক প্রকল্প বাস্তবায়ন। বিদেশি অর্থায়নের বিষয়টিও এখানে উপেক্ষা করার মতো নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এত বড় মাপের প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতে হলে বিপুল সম্পদ
দরকার। পদ বদল, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্ক তৈরি, সবকিছুতেই অর্থ লাগে। আর এই অর্থ এসেছে বাইরে থেকে। কোন দেশ বা কোন সংস্থা এই অর্থ দিয়েছে, সেটা জানা জরুরি। কারণ যারা টাকা দেয়, তারা শুধু দাতব্য কাজ করে না। তাদের নিজস্ব স্বার্থ থাকে, এজেন্ডা থাকে। আর সেই এজেন্ডাই এখন বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর সমর্থন ছাড়া এই ধরনের ক্যু সফল হয় না। জুলাইয়ের ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা কায়েম করতে হলে সামরিক সমর্থন অপরিহার্য। আর সেই সমর্থন যে পাওয়া গিয়েছিল, তার প্রমাণ হলো ইউনূস সরকারের নির্বিঘ্ন ক্ষমতা
গ্রহণ এবং তার পরের প্রশাসনিক পুনর্গঠন। এই পুনর্গঠনে সামরিক বাহিনীর নীরব সম্মতি না থাকলে এতটা দ্রুত এবং ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? রাষ্ট্র তো শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, রাষ্ট্র হলো একটি প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যেখানে আইন আছে, সংবিধান আছে, নাগরিক অধিকার আছে। কিন্তু যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর মানুষ বসে যান, তখন রাষ্ট্রটা আর নিরপেক্ষ থাকে না। তখন রাষ্ট্র হয়ে যায় একটি সংগঠনের হাতিয়ার। আর সেটাই এখন ঘটছে বাংলাদেশে। যে তরুণরা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল, যারা পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল, তারা কি এই স্বপ্ন দেখেছিল? তারা কি চেয়েছিল যে একটি সংগঠন, যাদের ইতিহাস বিতর্কিত, যাদের আদর্শ প্রশ্নবিদ্ধ, তারা রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করে নেবে? নাকি তাদের ব্যবহার করা হয়েছে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তাদের পরিবারকে, যারা সন্তান হারিয়েছেন, কিন্তু পেয়েছেন একটি অপরিচিত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আগেও এসেছে, যখন রাষ্ট্রযন্ত্র বিশেষ স্বার্থের হাতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আলাদা। এবার পরিকল্পনাটা আরও গভীর, আরও সুসংগঠিত। এবার শুধু ক্ষমতা দখল নয়, রাষ্ট্রের চরিত্রই বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এই চেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষক হওয়ার কথা, তারাই এখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী, সেটা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার। যে রাষ্ট্র একাত্তরে জন্ম নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই রাষ্ট্র এখন একটি ভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে। রাস্তায় পতাকা আছে, অফিসে চেয়ার-টেবিল আছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সেই রাষ্ট্রটা আদৌ আছে কি না, যেটা সব নাগরিকের ছিল, যেটা ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। নাকি সেটা এখন শুধুই একটা স্মৃতি, আর বাস্তবে যা আছে তা হলো একটি সংগঠনের প্রশাসনিক হোস্টেল।



