
শাহ্ ওয়ায়েজ জার্মানি
আরও খবর

আওয়ামী লীগ কি খেলায় ফেরার মত যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে?

জুলাই সনদ ও সংস্কার মানে সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের রাম রাজত্ব।

৭২ এর সংবিধান বাঙালির মুক্তিসনদ

গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর বর্বরতা – ৭১ সালের পাকিস্তানি সেনা বর্বরতাকে হার মানায়।

মুজিবকে ছোট করে তাজউদ্দিনকে কি বড় করা যায়, নাকি সেটা সম্ভব?

টেলিগ্রাম লীগ: আশীর্বাদ নাকি সর্ববৃহৎ দায়ভার?

জাগো বাহে, কুণ্ঠে সবায়?
রাজনীতিবিদশূন্য রাজনীতি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ – পর্ব ১

বাংলাদেশ বর্তমানে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৪ সালে মার্কিন মদদপুষ্ট এক সাঁজানো বৈপ্লবিক নাটকের মাধ্যমে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জনমনে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে যে— বাংলাদেশে রাজনীতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই ধারণাটিও জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই— এক সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
২০২৪ সালের আগস্টে অসংখ্য মিথ্যাচারের আড়ালে ক্ষমতার মসনদে বসে ড. ইউনুস প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতি ধ্বংসের এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে কেন রাজনীতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হাতেই থাকা উচিত— আজকের আলোচনার সূচনা সেই প্রেক্ষাপট থেকেই।
রাজনীতিবিদ: কারা এবং তাদের
ভূমিকা কারা রাজনীতিবিদ? যে ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা অন্য নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেন— তিনিই রাজনীতিবিদ। তারা কী করেন? রাজনীতিবিদদের প্রধান দায়িত্ব হলো— ১। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। ২। নীতি ও আইন প্রণয়ন করা। ৩। রাষ্ট্র পরিচালনা করা। ৪। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নেতৃত্ব গ্রহণ করা। ৫। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ৬। কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বাংলাদেশে রাজনীতির ধারাবাহিকতা ভাঙ্গনের শুরু একটি রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্র তার টিকে থাকার স্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে থেকে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এই ধারাবাহিকতায় মারাত্মক আঘাত
পেয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। সেই দিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি অন্ধকারের পথে যাত্রা শুরু করে। যারা এরপর রাজনীতির মঞ্চে এসেছেন তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপৎকালীন সমাধান দেওয়ার পরিবর্তে সংকটকে আরও গভীর করেছেন। পরীক্ষিত নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। বরং ভুঁইফোড় ও কর্পোরেট রাজনীতিবিদরা আবির্ভূত হয়েছেন, যাদের কাছে জাতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এই ভুঁইফোড় রাজনীতিবিদদের একদিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কৌশলে, অপরদিকে মাঠের পরীক্ষিত নেতাদের ইচ্ছাকৃতভাবে জনমনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানের মতো নেতাদের হত্যাকাণ্ড ছিল মূলত বাংলাদেশের
কণ্ঠস্বর বিশ্বপরিসরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং বৈশ্বিক স্বার্থ বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই ভৌগোলিক কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক কৌশলগত স্থানে অবস্থান করছে। বৈশ্বিক রাজনীতির যেসব শক্তি নিজেকে ‘বিশ্বের মোড়ল’ মনে করে, তারা কখনোই বাংলাদেশের উপর থেকে তাদের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়নি। যখনই দেখা গেছে, বাংলাদেশে একজন যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে, যিনি বঙ্গবন্ধুর মতো সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারেন, কিংবা শেখ হাসিনার মতো মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে পারেন— তখনই তাদের হত্যা করা হয়েছে অথবা হত্যাচেষ্টার পর মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও পরিকল্পিত নেতৃত্বশূন্যতা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিশ্লেষণ
করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে— কখন দলটি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদদের মতো শক্তিশালী নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়বে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আওয়ামী লীগের ক্রমাবনতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। শেখ হাসিনার পাশে সমান বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। আর এ অভাব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়— বরং দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত এক চক্রান্তের ফল, যেখানে রাজনীতি ধীরে ধীরে সরে গেছে প্রকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাত থেকে। (চলবে……)
ভূমিকা কারা রাজনীতিবিদ? যে ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা অন্য নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেন— তিনিই রাজনীতিবিদ। তারা কী করেন? রাজনীতিবিদদের প্রধান দায়িত্ব হলো— ১। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। ২। নীতি ও আইন প্রণয়ন করা। ৩। রাষ্ট্র পরিচালনা করা। ৪। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নেতৃত্ব গ্রহণ করা। ৫। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ৬। কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বাংলাদেশে রাজনীতির ধারাবাহিকতা ভাঙ্গনের শুরু একটি রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্র তার টিকে থাকার স্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে থেকে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এই ধারাবাহিকতায় মারাত্মক আঘাত
পেয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। সেই দিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি অন্ধকারের পথে যাত্রা শুরু করে। যারা এরপর রাজনীতির মঞ্চে এসেছেন তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপৎকালীন সমাধান দেওয়ার পরিবর্তে সংকটকে আরও গভীর করেছেন। পরীক্ষিত নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। বরং ভুঁইফোড় ও কর্পোরেট রাজনীতিবিদরা আবির্ভূত হয়েছেন, যাদের কাছে জাতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এই ভুঁইফোড় রাজনীতিবিদদের একদিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কৌশলে, অপরদিকে মাঠের পরীক্ষিত নেতাদের ইচ্ছাকৃতভাবে জনমনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানের মতো নেতাদের হত্যাকাণ্ড ছিল মূলত বাংলাদেশের
কণ্ঠস্বর বিশ্বপরিসরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং বৈশ্বিক স্বার্থ বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই ভৌগোলিক কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক কৌশলগত স্থানে অবস্থান করছে। বৈশ্বিক রাজনীতির যেসব শক্তি নিজেকে ‘বিশ্বের মোড়ল’ মনে করে, তারা কখনোই বাংলাদেশের উপর থেকে তাদের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়নি। যখনই দেখা গেছে, বাংলাদেশে একজন যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে, যিনি বঙ্গবন্ধুর মতো সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারেন, কিংবা শেখ হাসিনার মতো মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে পারেন— তখনই তাদের হত্যা করা হয়েছে অথবা হত্যাচেষ্টার পর মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও পরিকল্পিত নেতৃত্বশূন্যতা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিশ্লেষণ
করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে— কখন দলটি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদদের মতো শক্তিশালী নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়বে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আওয়ামী লীগের ক্রমাবনতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। শেখ হাসিনার পাশে সমান বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। আর এ অভাব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়— বরং দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত এক চক্রান্তের ফল, যেখানে রাজনীতি ধীরে ধীরে সরে গেছে প্রকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাত থেকে। (চলবে……)