যে দেশে মৃত্যু সস্তা, জামিন অতি দুর্লভ : ইউনূসের দেড় বছর, কত পরিবার শেষ? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

যে দেশে মৃত্যু সস্তা, জামিন অতি দুর্লভ : ইউনূসের দেড় বছর, কত পরিবার শেষ?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয় আমরা কোনো সভ্য দেশে বাস করছি না, বরং এক অদ্ভুত জঙ্গলে আটকা পড়েছি যেখানে আইনের শাসন বলে কিছু নেই, আছে শুধু প্রতিহিংসা আর ক্ষমতার নগ্ন প্রয়োগ। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টামণ্ডলী যে ভয়ংকর খেলা খেলছে, তা দেখে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ কতটা অনিরাপদ। একজন ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন, কিন্তু দেশের বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজ নিশ্চুপ। তাদের কান্না শুধু প্যারোল নিয়ে। এই কেমন বিবেক? একজন মানুষকে বিনা বিচারে মাসের পর মাস জেলে পচিয়ে রাখা, তার পরিবারকে এমন অসহায় করে ফেলা যে তারা মৃত্যু ছাড়া

আর কোনো পথ খুঁজে পায় না, এটা কি অপরাধ নয়? কিন্তু না, আমাদের দেশের তথাকথিত প্রগতিশীলদের কাছে এসব গৌণ। তাদের কাছে আসল সমস্যা হলো কাউকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে না দেওয়া। এই হলো আমাদের নৈতিকতার মাপকাঠি। যে দেশে জামিন একটি আইনগত অধিকার, সেখানে এখন জামিন হয়ে গেছে দয়া-দাক্ষিণ্যের বিষয়, অথবা আরও সত্য করে বলতে গেলে, টাকা-পয়সার লেনদেনের বিষয়। আসিফ নজরুল নিজেকে আইনের অধ্যাপক বলে পরিচয় দেন, কিন্তু তার কাজকর্ম দেখে মনে হয় তিনি আইনের মৌলিক নীতিগুলোই ভুলে গেছেন। বিচারকদের জামিন দেওয়ার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা, চিঠি লিখে তাদের চাপ দেওয়া, এসব কি আইনের শাসনের লক্ষণ? একজন আইনের অধ্যাপক কীভাবে এভাবে বিচার বিভাগের

স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন, সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বারবার পাবলিক স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে আওয়ামী লীগের কর্মীদের জামিন দেওয়া যাবে না। এমনকি তারা নিরপরাধ হলেও। এটা কী ধরনের ন্যায়বিচার? আর ইউনূস সাহেব এসব দেখেও চুপ, বরং মনে হয় সায় দিচ্ছেন। এই তিন উপদেষ্টা মিলে যে নারী আর শিশুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো জবাবদিহিতা হবে? পেনাল কোড অনুযায়ী কাউকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া একটি কগনিজেবল অফেন্স। কিন্তু সেই আইন কি এখনও আছে, নাকি সেটাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে? ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের মামলার গল্পটা শুনলে আরও স্পষ্ট হয় কীভাবে আইনকে পদদলিত করা হচ্ছে। একটা হরেদরে মামলায় তাকে আটক

করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জামিন নামঞ্জুর করলেও জেলা দায়রা জজ জামিন দেওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর কী হলো? জামাতপন্থী পাবলিক প্রসিকিউটর কোর্টের ভেতরেই হট্টগোল শুরু করলেন, এবং তার সহযোগীরা বিচারককে হুমকি দিল। একজন বিচারককে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আর কেউ কিছু বলছে না। এই হলো আমাদের বিচার ব্যবস্থার বাস্তবতা। সাদ্দামের স্ত্রী প্রতি সপ্তাহে ছোট বাচ্চা নিয়ে আদালত পাড়ায় যেতেন। তার কান্নাকাটি দেখে একজন বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জামাতপন্থী আইনজীবীরা তাকেও আদালতের ভেতরে গালিগালাজ করেছে। আর সেই দুঃখিনী মহিলার কাছে জামিনের জন্য বিশ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এটা কি আইনের শাসন, নাকি লুটপাটের ব্যবস্থা? অনেক চেষ্টার পর যখন সাদ্দামের জামিন

হয়ে গেল, তখন জেলা পুলিশ সুপারকে দিয়ে আবার তাকে গ্রেপ্তার করানো হলো। জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানোর সাথে সাথেই এই কাণ্ড ঘটলো। তার স্ত্রীকে বলা হলো দশ লাখ টাকা দিলে কারাফটক থেকে গ্রেপ্তার করা হবে না, ত্রিশ লাখ টাকা দিলে চার্জশিট থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়া হবে। এই হলো অবস্থা। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই সমস্ত অবিচার টানা দেড় বছর ধরে চলছে, আর মুহাম্মদ ইউনূস চুপচাপ বসে আছেন। তিনি কি আসলেই জানেন না কী হচ্ছে, নাকি জেনেও না জানার ভান করছেন? তিনি কি মনে করেন এসব তার দায়িত্ব নয়? নাকি তিনি নিজেই এই অবিচারের একজন নীরব সমর্থক? তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার এক ছাত্রের বাবার

গল্পটা আরেকটা উদাহরণ। পঁয়সট্টি বছরের একজন বৃদ্ধ মানুষকে জুলাই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে দেখিয়ে আওয়ামী লীগ বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো। মামলার বাদী স্থানীয় শিবির কর্মী, তদন্ত কর্মকর্তাও সাবেক শিবির কর্মী, আর বিচারকও জামাতপন্থী। এর চেয়ে নিখুঁত সেটআপ আর কী হতে পারে? বাদী নিজেই একপর্যায়ে কোর্টে সাবমিশন দিল যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এজাহারনামীয় নয়, এবং তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। তারপরও কোর্ট জামিন দিল না। এটা কোন ন্যায়বিচার? বৃদ্ধ লোকটি কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেন, যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে বলে খবর এলো। পরিবার চিকিৎসার কাগজপত্র জমা দিয়ে আবার জামিনের আবেদন করল, কিন্তু জামিন মিলল না। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, জামিন শুনানির

আগে বিচারক মামলার আইওকে খাস কামরায় ডেকে নিয়ে গোপনে কথা বলেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আইও নাকি বিচারককে নিশ্চিত করেছে যে আসামী দুর্ধর্ষ আওয়ামী লীগ। এই হলো আমাদের বিচার ব্যবস্থার মান। গোটা ব্যবস্থাটা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বলার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একজন মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে মানবিক হয়, তাহলে সে কীভাবে এসব দেখেও চুপ থাকতে পারে? মুহাম্মদ ইউনূস কি আসলেই মানুষ, নাকি তিনি এমন কিছু যা মানুষের বেশ ধরে আছে? কারণ একজন মানুষের পক্ষে এতটা নিষ্ঠুর, এতটা হৃদয়হীন হওয়া সম্ভব নয়। একজন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সামান্য সহমর্মিতা থাকে, কিন্তু এখানে তার কোনো চিহ্নই দেখা যায় না। যে দেশে একজন নারী তার সন্তানকে নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হয়, কারণ তার স্বামীকে বিচারের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে, সেই দেশে কীভাবে শান্তি আসবে? যে দেশে আইন আর বিচার ব্যবস্থা টাকা-পয়সার খেলায় পরিণত হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? যে দেশে বিচারকদের হুমকি দেওয়া হয়, আইনজীবীরা আদালতে গালিগালাজ করে, আর উপদেষ্টারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, সেখানে ন্যায়বিচার কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? মুহাম্মদ ইউনূস আর তার দল যে খেলা খেলছে, তার শিকার শুধু কিছু রাজনৈতিক কর্মী নয়, বরং পুরো দেশের বিচার ব্যবস্থা আর আইনের শাসন। তারা দেশটাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে মানুষ আর আইনে বিশ্বাস করে না, বিশ্বাস করে টাকায় আর যোগাযোগে। আর এই বিশ্বাসের অভাবই একদিন পুরো দেশটাকে ধ্বংস করে দেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে— হারের পর মিরাজ হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম হামের প্রকোপ কমাতে দেশব্যাপী সরকারের টিকাদানের পদক্ষেপ ১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের কাছে থাকা সব ইউরেনিয়াম পাবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের ‘জনপ্রিয়তায়’ আতিফ আসলামকেও ছাড়িয়ে যাওয়া কে এই তালহা আনজুম রাশেদ প্রধান লিমিট ক্রস করে বক্তব্য দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন ‘শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত’ পঁচিশে সমুদ্রপথে ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি প্রবাসীদের মাতাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রীতম-জেফার-পূজা-তমা 17 April: Mujibnagar Day — A Defining Moment in Bangladesh’s Liberation Struggle ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এক স্মৃতি বিজড়িত দিন জাতীয় দলের অধিনায়কদের জন্য বিসিবির প্রিভিলেজ কার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তিতে প্রথম আলোর জোরালো অবস্থান দিনে ৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং, শহরের চেয়ে গ্রামে সংকট তীব্রতর ১৭ এপ্রিল-বাংলাদেশের নূতন সূর্যোদয় বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্রে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে জুলাই-আগস্টে ঢাকায় হত্যাকাণ্ড বাড়ানোর নির্দেশ দেয় কে? জামায়াত জোট জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ; পিএস জনি আটক সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ নেতা ধর্মসিং চাকমা নিহত, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ২ বোন