যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫:১৬ 9 ভিউ
‘২৪ এর পাঁচ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন লক্ষ সাতাশটা কারখানা বন্ধ হয়েছে গাজীপুর, সাভার আর আশুলিয়ায়। ইউনুস সাহেব জানেন কি এর মানে কী? এর মানে দেড় লক্ষ মানুষ বেকার হওয়া নয়, এর মানে দেড় লক্ষ পরিবার রাস্তায় বসে যাওয়া। চার জনের পরিবার ধরলে ছয় লক্ষ মানুষ। আর যদি পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব করি তাহলে সংখ্যাটা দশ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। এক কোটি সত্তর লক্ষ মানুষের দেশে দশ লক্ষ মানুষের জীবিকা শেষ হয়ে যাওয়া মানে দেশের প্রায় ছয় শতাংশ মানুষ সরাসরি আঘাত খাওয়া। রুস্তম আলী আটচল্লিশ বছর বয়সে প্রথমবার জানলেন বেকার হওয়া মানে কী। লিজ অ্যাপারেলসে চাকরি করতেন, নির্দিষ্ট তারিখে ব্যাংকে টাকা ঢুকত,

এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। আলেয়া আক্তার নাসা গ্রুপে চাকরি করতেন, এখন এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা উপোস থাকেন। তার স্বামী কখনো রিকশা চালান, কখনো রাজমিস্ত্রির সাথে জোগালির কাজ করেন। কিন্তু নিয়মিত কাজ জোটে না। ইউনুস সাহেব কি জানেন বেক্সিমকোর আটাশ হাজার শ্রমিক কোথায় গেছে? তেরোটা কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে একসাথে। আটাশ হাজার মানুষ যেখানে কাজ করতেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন, দোকান থেকে মুদিখানা কিনতেন, চায়ের দোকানে চা খেতেন, সেই পুরো ইকোসিস্টেম ধসে গেছে। কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় যেসব বাড়ির মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বহুতল বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিয়েছিলেন, তারা এখন ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না। ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। জামগড়ার আব্দুল

হাকিমের দুটো বাড়িতে একশো রুম ছিল, সব ভরা থাকত, এখন সব ফাঁকা। আশুলিয়ার বুড়ির বাজারের শফিকুর রহমানের মুদি দোকানে আগে দশ-পনেরো হাজার টাকার বিক্রি হতো রোজ, এখন তিন-চার হাজার। এই যে পুরো অর্থনীতির একটা স্তর ভেঙে পড়ল, এর জন্য কে দায়ী? ইউনুস সাহেব বলবেন বৈশ্বিক মন্দা। বলবেন ক্রয়াদেশ কমে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারতে, ভিয়েতনামে, কম্বোডিয়ায় কি একই হারে কারখানা বন্ধ হচ্ছে? চীন থেকে কারখানা সরিয়ে আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটা কি বাংলাদেশে এসেছে? উল্টো বাংলাদেশ থেকেই কারখানা সরে যাচ্ছে। কারণটা পরিষ্কার। জুলাই মাসে যখন রাস্তায় লাশ পড়েছিল, যখন দেশজুড়ে দাঙ্গা হয়েছিল, যখন একটা নির্বাচিত সরকারকে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জোর করে

সরিয়ে দেওয়া হলো, তখন থেকেই বিদেশি ক্রেতারা বুঝে গেছে বাংলাদেশ আর নির্ভরযোগ্য জায়গা নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই মানে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা নেই। আর ইউনুস সাহেবের তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত সতেরো মাসে কী করেছে? সংস্কারের নামে কাগজে কলমে কমিটি বানিয়েছেন। শ্রমিকদের ঘনঘন আন্দোলন, ভাঙচুর হচ্ছে। শিল্প পুলিশের সুপার নিজেই স্বীকার করছেন আর্থিক সংকট, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের অসহযোগিতা, রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা। ব্যাংকিং খাতের অসহযোগিতা মানে কী? মানে কারখানার মালিকরা ঋণ পাচ্ছেন না, কাঁচামাল কিনতে পারছেন না, শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না। জ্বালানি সংকট মানে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা মানে কেউ জানে না আগামীকাল কী হবে। আর এই তিনটি জিনিসই সরকারের দায়িত্ব।

কিন্তু ইউনুস সাহেব কি একবারও গাজীপুর গিয়ে বন্ধ কারখানার সামনে দাঁড়িয়েছেন? কি একবারও আলেয়া আক্তারের সাথে কথা বলেছেন? কি রুস্তম আলীকে জিজ্ঞেস করেছেন তার চোখে কেন অন্ধকার দেখা যাচ্ছে? না। উনি ব্যস্ত আছেন সংস্কারের নামে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে। নির্বাচন হবে না, কারণ সংস্কার শেষ হয়নি। সংস্কার কবে শেষ হবে? কেউ জানে না। ততদিন পর্যন্ত ইউনুস সাহেব ক্ষমতায় থাকবেন, আর বাংলাদেশের অর্থনীতি ডুবতে থাকবে। দেড় লক্ষ শ্রমিক বেকার মানে কী? মানে দেড় লক্ষ মানুষ এখন অন্য কাজ খুঁজছেন। কিন্তু কাজ নেই। তাই অনেকে রিকশা চালাচ্ছেন, দিনমজুর হচ্ছেন। অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। আর অনেকে, স্থানীয়রা যেমন বলছেন, অপরাধজগতে ঢুকে পড়েছেন। কারণ খালি পেটে

বিবেক টেকে না। ইউনুস সাহেব যখন মাইক্রোক্রেডিটের কথা বলতেন, তখন বলতেন গরিব মানুষকে সামান্য টাকা দিলে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু এখন দেড় লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়ে মাটিতে বসে আছেন, তাদের কি গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ দেবে? নাকি শুধু সুদ আদায় করবে? সংখ্যাটা আরেকবার দেখুন। তিন লক্ষ সাতাশটা কারখানা। গাজীপুরে একশো আটাশটা, সাভার-আশুলিয়ায় একশো ঊনচল্লিশটা। এর মধ্যে অনেকগুলো নামী কারখানা। শুধু বেক্সিমকো নয়, লিজ ফ্যাশন, সিঙ্গার রেফ্রিজারেটর, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, বসুন্ধরা গার্মেন্টস। এগুলো সব পুরনো প্রতিষ্ঠান, যারা দশকের পর দশক ধরে চলছিল। হঠাৎ করে সবাই একসাথে ব্যর্থ হয়ে গেল? নাকি সরকারি নীতি এমন হয়ে গেল যে টিকে থাকা সম্ভব না? ইউনুস সাহেব নোবেল পুরস্কার

পেয়েছেন অর্থনীতিতে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির এই দশা দেখে মনে হয় না উনি অর্থনীতি বোঝেন। নাকি বুঝেন কিন্তু পাত্তা দেন না? কারণ যে লোক সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায়, রাস্তায় লাশ ফেলে ক্ষমতায় এসেছেন, তার কাছে জনগণের জীবিকার চেয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকাটা বেশি জরুরি। আর সবচেয়ে বড় কথা, এদেশের মানুষ কোথায়? তিন লক্ষ সাতাশটা কারখানা বন্ধ হলো, দেড় লক্ষ মানুষ বেকার হলো, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই। কোনো আন্দোলন নেই। কেন? কারণ যারা জুলাই মাসে রাস্তায় নেমেছিল, তারা ছাত্র ছিল, মধ্যবিত্ত ছিল। তাদের চাকরি যায়নি এখনো। আর যাদের চাকরি গেছে, তারা গরিব শ্রমিক, যাদের কথা কেউ শোনে না। তারা চুপচাপ রিকশা চালাচ্ছে, দিনমজুরি করছে, কেউ কেউ চুরি-ডাকাতিতে নামছে। কিন্তু মিডিয়ায় তাদের কথা আসছে না, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ পোস্ট করছে না, কোনো বুদ্ধিজীবী কলাম লিখছে না। এই হলো ইউনুস সাহেবের বাংলাদেশ। যেখানে তিন লক্ষ সাতাশটা কারখানা বন্ধ হলেও কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ সবাই ব্যস্ত সংস্কারের স্বপ্ন দেখতে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হওয়ার বদলে সিসিমপুর হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
জুলাইয়ের দাঙ্গা থেকে জামায়াততন্ত্র: একটি ক্যুয়ের ময়নাতদন্ত যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো! ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ ইতিহাসের অন্ধকার, ইউনুস সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ দোজখের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের খেলা: জামায়াত-বিএনপির নির্বাচনী ধর্মব্যবসা এখন প্রকাশ্যে শেরপুরের ঘটনায় নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে: জামায়াতের আমির গতবছর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ৫২২টি, দাবি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নারীমুক্তির মুখোশ পরা ইউনুসের আসল চেহারা ১৮-এর নির্বাচনে অনিয়ম আমরা চাইনি, প্রশাসনের অতিউৎসাহীরা করেছে: সজীব ওয়াজেদ জয় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্ট মার্টিনের দখল নেবার পটভূমি তৈরি শুরু চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার ‘রহস্যজনক’ পরিদর্শন: জাতীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন গ্যাস সংকটে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে : ইউনুসের অদক্ষতার মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ “ড. মুহাম্মদ ইউনূস জীবনে কোনদিন ট্যাক্স দিয়েছে? জিজ্ঞেস করেন! ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া— এটা সে খুব ভালো জানে” –জননেত্রী শেখ হাসিনা Bangladesh’s ousted leader Hasina denounces the upcoming election from her exile in India The Achievements of Fascist Yunus: Theft, Robbery, Murder “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের মানুষ; কিন্তু বলবে কে? সত্য কথা বললে জেলে যেতে হয়” – জনতার ক্ষোভ বাংলাদেশ : বাতাসে এখন শুধু লাশের গন্ধ লুট হওয়া হাজার অস্ত্র এখন বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে : নির্বাচনের আগে রক্তস্নাত বাংলাদেশ, নির্বিকার সুদখোর ইউনূসের মূল লক্ষ্য কি? Bangladesh: Power Bought With Blood তারেক রহমানের ‘অসম্ভব’ তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করে শেখ হাসিনার হাত ধরেই আলোকিত বাংলাদেশ