ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর এবার বিএনপি সরকারের ৩ দিনের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’!
দেশের উন্নয়ন-আগ্রগতিতে মূখ্য ভূমিকা রাখা এনার্জি সেক্টরে ধস: ইউনূস সরকারের প্রতিহিংসা নাকি অদক্ষতা?
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি :বিএনপি সংসদে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা করেছে
খালেদা জিয়াকে পূর্ণ মুক্তিযোদ্ধা, তারেক-কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি মহান সংসদে
সুষ্ঠু ভোট হলে ৫৩ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিত: শেখ হাসিনা
সংকট থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান: আওয়ামী লীগের পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস
না খেয়ে থাকা ৬ হাজার শ্রমিকের হাহাকার: কুমিল্লায় রাজপথ অবরোধে ফুঁসে উঠেছে জনতা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং না থাকা ‘গোড়ায় গলদ’: সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভেটিং (যাচাই-বাছাই) না হওয়াকে ‘গোড়ায় গলদ’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব ও বিশ্লেষক আবু আলম মো. শহীদ খান। একই সঙ্গে তিনি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সাম্প্রতিক বিবিসি সাক্ষাৎকার, বর্তমান মামলা পরিস্থিতি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেরও কড়া সমালোচনা করেছেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠের ‘কালের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক এই আমলা এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ প্রসঙ্গের জের ধরে ‘কালের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, ‘আমাদের দেশে ছোটখাটো
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হলেও আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং নিতে হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়া কোনো চুক্তি হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এত বড় চুক্তি হলো, অথচ আইন উপদেষ্টা বলছেন তিনি জানেন না। তার মানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হয়নি। অর্থাৎ, এই চুক্তিটি তো গোড়াতেই গলদ হয়ে গেল।’ তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। নির্বাচন ঘোষণার পর ভবিষ্যৎ সরকার কারা গঠন করবে, তা অজানা থাকা অবস্থায় এ ধরনের চুক্তি করা সমীচীন হয়নি। নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত এটি স্থগিত রাখা যেত। সংসদ না থাকায় এসব চুক্তি অন্তত উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর স্বাক্ষর হওয়া উচিত ছিল
বলে তিনি মত দেন। বিবিসি বাংলায় সাংবাদিক কাদির কল্লোলের নেওয়া আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সাবেক এই সচিব বলেন, ‘মনে হয়েছে আসিফ নজরুলকে শুধু তাঁর নিজের কিছু বক্তব্য দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। পুরো সময় তাঁকে কোনো পাল্টা বা চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন করা হয়নি।’ ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত ছিল’ ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আবু আলম মো. শহীদ খান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে থাকা অবস্থায় সরকার চাইলে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ঠেকাতে পারত না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ব্যর্থতা সরকারের। বিদেশে এ ধরনের বড় ব্যর্থতার পর মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন, কিন্তু আমাদের দেশে তা
হয়নি। উল্টো এখন বলা হচ্ছে, তাঁকে (আইন উপদেষ্টা) এসব বিষয়ে জানানো হয়নি। মহাখালী ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় স্নাইপার হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্নাইপাররা কারা ছিল, তাদের কাছে ৭.৬২ এমএম রাইফেল কীভাবে এল এবং সেগুলো উদ্ধার হয়েছে কি না, তার বড় ধরনের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ‘গায়েবি মামলার বদলে শত শত গায়েবি অভিযুক্ত’ মামলা পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আসিফ নজরুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে এখন ‘গায়েবি মামলা’ না হলেও শত শত ‘গায়েবি অভিযুক্ত’ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশ্লেষক বলেন, পুলিশ কি কোনো প্রমাণ ও সাক্ষী ছাড়া শুধু কারও কথায় হত্যাপ্রচেষ্টার মামলা নিতে পারে? বর্তমানে
মামলার সংশোধনীর কথা বলা হলেও বাস্তবে মানুষ হয়রানিমূলক মামলায় ভুগছেন এবং উচ্চ আদালতে জামিন শুনানি হচ্ছে না বলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন। ক্ষুদ্রঋণের নামে ‘শোষণ’ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অতীত ভূমিকা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়েও অনুষ্ঠানে তীব্র সমালোচনা করেন আবু আলম শহীদ খান। তিনি দাবি করেন, জাতির কোনো দুর্যোগে বা জনগণের পক্ষে ড. ইউনূসকে অতীতে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি। ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য দূর করার বদলে গ্রামের মানুষকে ঋণের জালে আবদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের একজন মানুষ প্রথমে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। সেটা শোধ করতে না পেরে আশা, এরপর ব্র্যাক, তারপর ঠেঙ্গামারা থেকে ঋণ নেন। এভাবে সাত-আটটি ঋণের জালে তাঁরা
আবদ্ধ হন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের হালের বলদ ও চাল বিক্রি করতে হয়।’ এনজিওগুলোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এনজিওরা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে বিশাল করপোরেট হাউস বানিয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে। গ্রামীণ গরিবদের শোষণ করেই এনজিওগুলোর এই বিকাশ ঘটেছে, এতে মানুষের দারিদ্র্য মুক্তি হয়নি।’
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হলেও আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং নিতে হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়া কোনো চুক্তি হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এত বড় চুক্তি হলো, অথচ আইন উপদেষ্টা বলছেন তিনি জানেন না। তার মানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হয়নি। অর্থাৎ, এই চুক্তিটি তো গোড়াতেই গলদ হয়ে গেল।’ তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। নির্বাচন ঘোষণার পর ভবিষ্যৎ সরকার কারা গঠন করবে, তা অজানা থাকা অবস্থায় এ ধরনের চুক্তি করা সমীচীন হয়নি। নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত এটি স্থগিত রাখা যেত। সংসদ না থাকায় এসব চুক্তি অন্তত উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর স্বাক্ষর হওয়া উচিত ছিল
বলে তিনি মত দেন। বিবিসি বাংলায় সাংবাদিক কাদির কল্লোলের নেওয়া আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সাবেক এই সচিব বলেন, ‘মনে হয়েছে আসিফ নজরুলকে শুধু তাঁর নিজের কিছু বক্তব্য দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। পুরো সময় তাঁকে কোনো পাল্টা বা চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন করা হয়নি।’ ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত ছিল’ ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আবু আলম মো. শহীদ খান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে থাকা অবস্থায় সরকার চাইলে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ঠেকাতে পারত না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ব্যর্থতা সরকারের। বিদেশে এ ধরনের বড় ব্যর্থতার পর মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন, কিন্তু আমাদের দেশে তা
হয়নি। উল্টো এখন বলা হচ্ছে, তাঁকে (আইন উপদেষ্টা) এসব বিষয়ে জানানো হয়নি। মহাখালী ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় স্নাইপার হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্নাইপাররা কারা ছিল, তাদের কাছে ৭.৬২ এমএম রাইফেল কীভাবে এল এবং সেগুলো উদ্ধার হয়েছে কি না, তার বড় ধরনের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ‘গায়েবি মামলার বদলে শত শত গায়েবি অভিযুক্ত’ মামলা পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আসিফ নজরুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে এখন ‘গায়েবি মামলা’ না হলেও শত শত ‘গায়েবি অভিযুক্ত’ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশ্লেষক বলেন, পুলিশ কি কোনো প্রমাণ ও সাক্ষী ছাড়া শুধু কারও কথায় হত্যাপ্রচেষ্টার মামলা নিতে পারে? বর্তমানে
মামলার সংশোধনীর কথা বলা হলেও বাস্তবে মানুষ হয়রানিমূলক মামলায় ভুগছেন এবং উচ্চ আদালতে জামিন শুনানি হচ্ছে না বলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন। ক্ষুদ্রঋণের নামে ‘শোষণ’ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অতীত ভূমিকা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়েও অনুষ্ঠানে তীব্র সমালোচনা করেন আবু আলম শহীদ খান। তিনি দাবি করেন, জাতির কোনো দুর্যোগে বা জনগণের পক্ষে ড. ইউনূসকে অতীতে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি। ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য দূর করার বদলে গ্রামের মানুষকে ঋণের জালে আবদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের একজন মানুষ প্রথমে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। সেটা শোধ করতে না পেরে আশা, এরপর ব্র্যাক, তারপর ঠেঙ্গামারা থেকে ঋণ নেন। এভাবে সাত-আটটি ঋণের জালে তাঁরা
আবদ্ধ হন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের হালের বলদ ও চাল বিক্রি করতে হয়।’ এনজিওগুলোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এনজিওরা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে বিশাল করপোরেট হাউস বানিয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে। গ্রামীণ গরিবদের শোষণ করেই এনজিওগুলোর এই বিকাশ ঘটেছে, এতে মানুষের দারিদ্র্য মুক্তি হয়নি।’



