ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
মিত্র নাকি প্রয়োজন — যুক্তরাষ্ট্র কেন এখন ভারতকে অপরিহার্য মনে করছে?
মার্কো রুবিও ভারতে এসেছেন। চার দিনের এই সফর — কলকাতা, নয়াদিল্লি, জয়পুর, আগ্রা — শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়। এটি আসলে একটি স্বীকারোক্তি। স্বীকারোক্তি এই যে, ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে — ভারতকে ছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিকে তাদের কৌশল অসম্পূর্ণ, এমনকি অকার্যকর। আর এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে তাদের এক বছরের বেশি সময় লেগেছে — এক বছর যেটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ছিল রীতিমতো বিপর্যয়কর।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছে, সেখানে ভারতের বিকল্প নেই। সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে স্থলসীমান্তে চীনের মুখোমুখি হওয়ার সক্ষমতা — ভূগোল, সামরিক শক্তি আর বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্পের বিচারে ভারতই একমাত্র দেশ যে
চীনের বিপরীতে প্রকৃত ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, ভারতের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প, যা তাকে কেবল ক্রেতা নয়, একটি সম্ভাব্য কৌশলগত উৎপাদন অংশীদারে পরিণত করেছে। এই সত্যটি ওয়াশিংটন আগে থেকেই জানত। কিন্তু গত এক বছরে তারা নিজেরাই সেই সম্পর্ককে প্রায় ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে। ২০২৫ সালটি ছিল একের পর এক ধাক্কার বছর। এপ্রিলে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। মে মাসে ভারত-পাকিস্তান চার দিনের সশস্ত্র সংঘর্ষের পর ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দেন — যা ভারত আজও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, অন্যদিকে পাকিস্তান ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। আগস্টে
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা অব্যাহত রাখার কারণে সেই শুল্ক এক লাফে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। এই শাস্তিমূলক শুল্কের বার্তাটি ছিল সরাসরি — রুশ তেল কেনা বন্ধ করো, নইলে অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করো। দিল্লি সমান সরাসরি ভাষায় জবাব দেয়, শুল্ককে “অন্যায্য” বলে আখ্যা দেয় এবং রুশ আমদানিতে মার্কিন দ্বিমুখিতার কথা তুলে ধরে। এরপর ইরান সংকট ভারতের জ্বালানি সরবরাহকেও চাপে ফেলে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আর এর মাঝেই ট্রাম্প একটি মার্কিন রাইট-উইং পডকাস্টারের পোস্ট শেয়ার করেন যেখানে ভারতকে “নরকের গর্ত” বলা হয় — যা দিল্লিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং সাধারণ ভারতীয়দের মনেও গভীর ক্ষত রেখে যায়। একসময়
এই সম্পর্ককে “২১শ শতাব্দীর সংজ্ঞানির্ধারক সম্পর্ক” বলা হতো। সেই কথাটি বলেছিলেন খোদ রুবিও নিজেই। কিন্তু কথা আর কাজে মিল না থাকায় বিশ্বাস ভেঙে পড়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক ও গবেষণা মহলে এই সফরকে কেউ কেউ “পুনরুজ্জীবনের মুহূর্ত” হিসেবে দেখছেন, তবে সংশয়ও কম নেই। একাধিক সূত্র বলছে, এই সম্পর্কে বিশ্বাস এখন সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য পণ্য। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা — যুক্তরাষ্ট্র একটি অবিশ্বস্ত অংশীদার, যে তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধেও বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই আখ্যান শুধু দিল্লিতে নয় — ব্রাসেলস থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক কৌশলগত রাজধানীতেও হুবহু একই সুরে বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল মিত্র
ও অংশীদারদের মধ্যে এই সাধারণ অনুভূতি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত সমস্যা। ভারত কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই, বরং সক্রিয়ভাবে বিকল্প পথ তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যাকে দুই পক্ষ “সব চুক্তির মা” বলে অভিহিত করছে। যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও আলাদা চুক্তি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেবল একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো চুক্তি — শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বটে, তবে এটি সাময়িক প্যাচ, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। মূল সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চাইছে — বিশেষত কৃষি খাতে, যেটি ভারত ঐতিহাসিকভাবে সুরক্ষিত রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও রাখতে চায়।
এই মৌলিক দ্বন্দ্ব একটি সফরে মিটে যাওয়ার নয়। ভারত তার বহু-মেরুকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসবে না — এই বার্তাটি দিল্লি এখন আগের চেয়ে অনেক জোরালোভাবে দিচ্ছে। রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হবে না, কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া হবে না, বিদেশি সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। বিশেষত চীনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ও বিতর্কিত স্থলসীমান্ত রয়েছে, তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণ তিক্ত করে ফেলার বিলাসিতা ভারত দেখাতে পারে না। ইন্দো-প্যাসিফিকে অবাধ বাণিজ্য পথ নিশ্চিত রাখা এবং চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রুখে দেওয়ার ব্যাপারে দুই দেশের স্বার্থ মিলে যায় বটে, কিন্তু ভারত কখনোই চায় না কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিকের ন্যাটোতে পরিণত হোক। রুবিওর এই
সফরে তাই লাঠির বদলে গাজর নীতি নেওয়া হয়েছে। ভারতকে যতটুকু চাই ততটুকু আমেরিকান তেল ও গ্যাস কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা আন্তঃকার্যকারিতা আরও গভীর করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রস্তাব দিলেই হবে না — মূল্য, প্রাপ্যতা এবং সর্বোপরি বিশ্বাস, এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর আগে দিতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে যে চাপে সে নতিস্বীকার করে না। এই সফরে কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত এই জোটের শেষ রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলন হয়েছিল ২০২৪ সালে। ভারত এই বছর সেই সম্মেলন আয়োজন করার কথা ছিল, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তা আর হয়নি। এবার ভারত আশা করছে এই মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে একটি পূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের পথ খুলবে, যেখানে ট্রাম্প নিজে ভারতে আসবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন — এই সম্মেলন বাস্তবে রূপ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে আগে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয় কিনা তার উপর। পাশাপাশি কোয়াড আসলে কী এবং ভবিষ্যতে কী হবে — সেই মৌলিক প্রশ্নটিরও এখনো কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই। চার দিনে মাসের পর মাসের ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়। তবে এই সফরের গুরুত্ব কেবল এর দৈর্ঘ্যে নয় — এটি একটি সংকেত যে ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে সম্পর্কটিকে সত্যিকার অর্থে মনোযোগ দিতে হবে। ভারত যদি সত্যিই ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশীদার হয়, তাহলে সেই অংশীদারিত্ব হতে হবে সমতার ভিত্তিতে — চাপের নয়, সম্মানের ভিত্তিতে। ভারতকে তার নিজের শর্তে গ্রহণ করার মানসিকতা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসলেই তৈরি হয়েছে কিনা — রুবিওর এই সফর সেই প্রশ্নেরই পরীক্ষা।
চীনের বিপরীতে প্রকৃত ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, ভারতের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প, যা তাকে কেবল ক্রেতা নয়, একটি সম্ভাব্য কৌশলগত উৎপাদন অংশীদারে পরিণত করেছে। এই সত্যটি ওয়াশিংটন আগে থেকেই জানত। কিন্তু গত এক বছরে তারা নিজেরাই সেই সম্পর্ককে প্রায় ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে। ২০২৫ সালটি ছিল একের পর এক ধাক্কার বছর। এপ্রিলে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। মে মাসে ভারত-পাকিস্তান চার দিনের সশস্ত্র সংঘর্ষের পর ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দেন — যা ভারত আজও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, অন্যদিকে পাকিস্তান ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। আগস্টে
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা অব্যাহত রাখার কারণে সেই শুল্ক এক লাফে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। এই শাস্তিমূলক শুল্কের বার্তাটি ছিল সরাসরি — রুশ তেল কেনা বন্ধ করো, নইলে অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করো। দিল্লি সমান সরাসরি ভাষায় জবাব দেয়, শুল্ককে “অন্যায্য” বলে আখ্যা দেয় এবং রুশ আমদানিতে মার্কিন দ্বিমুখিতার কথা তুলে ধরে। এরপর ইরান সংকট ভারতের জ্বালানি সরবরাহকেও চাপে ফেলে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আর এর মাঝেই ট্রাম্প একটি মার্কিন রাইট-উইং পডকাস্টারের পোস্ট শেয়ার করেন যেখানে ভারতকে “নরকের গর্ত” বলা হয় — যা দিল্লিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং সাধারণ ভারতীয়দের মনেও গভীর ক্ষত রেখে যায়। একসময়
এই সম্পর্ককে “২১শ শতাব্দীর সংজ্ঞানির্ধারক সম্পর্ক” বলা হতো। সেই কথাটি বলেছিলেন খোদ রুবিও নিজেই। কিন্তু কথা আর কাজে মিল না থাকায় বিশ্বাস ভেঙে পড়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক ও গবেষণা মহলে এই সফরকে কেউ কেউ “পুনরুজ্জীবনের মুহূর্ত” হিসেবে দেখছেন, তবে সংশয়ও কম নেই। একাধিক সূত্র বলছে, এই সম্পর্কে বিশ্বাস এখন সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য পণ্য। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা — যুক্তরাষ্ট্র একটি অবিশ্বস্ত অংশীদার, যে তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধেও বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই আখ্যান শুধু দিল্লিতে নয় — ব্রাসেলস থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক কৌশলগত রাজধানীতেও হুবহু একই সুরে বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল মিত্র
ও অংশীদারদের মধ্যে এই সাধারণ অনুভূতি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত সমস্যা। ভারত কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই, বরং সক্রিয়ভাবে বিকল্প পথ তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যাকে দুই পক্ষ “সব চুক্তির মা” বলে অভিহিত করছে। যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও আলাদা চুক্তি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেবল একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো চুক্তি — শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বটে, তবে এটি সাময়িক প্যাচ, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। মূল সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চাইছে — বিশেষত কৃষি খাতে, যেটি ভারত ঐতিহাসিকভাবে সুরক্ষিত রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও রাখতে চায়।
এই মৌলিক দ্বন্দ্ব একটি সফরে মিটে যাওয়ার নয়। ভারত তার বহু-মেরুকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসবে না — এই বার্তাটি দিল্লি এখন আগের চেয়ে অনেক জোরালোভাবে দিচ্ছে। রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হবে না, কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া হবে না, বিদেশি সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। বিশেষত চীনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ও বিতর্কিত স্থলসীমান্ত রয়েছে, তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণ তিক্ত করে ফেলার বিলাসিতা ভারত দেখাতে পারে না। ইন্দো-প্যাসিফিকে অবাধ বাণিজ্য পথ নিশ্চিত রাখা এবং চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রুখে দেওয়ার ব্যাপারে দুই দেশের স্বার্থ মিলে যায় বটে, কিন্তু ভারত কখনোই চায় না কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিকের ন্যাটোতে পরিণত হোক। রুবিওর এই
সফরে তাই লাঠির বদলে গাজর নীতি নেওয়া হয়েছে। ভারতকে যতটুকু চাই ততটুকু আমেরিকান তেল ও গ্যাস কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা আন্তঃকার্যকারিতা আরও গভীর করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রস্তাব দিলেই হবে না — মূল্য, প্রাপ্যতা এবং সর্বোপরি বিশ্বাস, এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর আগে দিতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে যে চাপে সে নতিস্বীকার করে না। এই সফরে কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত এই জোটের শেষ রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলন হয়েছিল ২০২৪ সালে। ভারত এই বছর সেই সম্মেলন আয়োজন করার কথা ছিল, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তা আর হয়নি। এবার ভারত আশা করছে এই মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে একটি পূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের পথ খুলবে, যেখানে ট্রাম্প নিজে ভারতে আসবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন — এই সম্মেলন বাস্তবে রূপ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে আগে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয় কিনা তার উপর। পাশাপাশি কোয়াড আসলে কী এবং ভবিষ্যতে কী হবে — সেই মৌলিক প্রশ্নটিরও এখনো কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই। চার দিনে মাসের পর মাসের ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়। তবে এই সফরের গুরুত্ব কেবল এর দৈর্ঘ্যে নয় — এটি একটি সংকেত যে ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে সম্পর্কটিকে সত্যিকার অর্থে মনোযোগ দিতে হবে। ভারত যদি সত্যিই ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশীদার হয়, তাহলে সেই অংশীদারিত্ব হতে হবে সমতার ভিত্তিতে — চাপের নয়, সম্মানের ভিত্তিতে। ভারতকে তার নিজের শর্তে গ্রহণ করার মানসিকতা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসলেই তৈরি হয়েছে কিনা — রুবিওর এই সফর সেই প্রশ্নেরই পরীক্ষা।



