মাত্র তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বাড়ল সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা, মোট অঙ্ক ৬ লাখ কোটি ছুঁইছুঁই – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ June, ২০২৬

মাত্র তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বাড়ল সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা, মোট অঙ্ক ৬ লাখ কোটি ছুঁইছুঁই

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ June, ২০২৬ |
দেশের ব্যাংক খাতে আবারও বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেড়েছে। এর ফলে মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেই অঙ্ক আরও বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে।

ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ৩০.৬ শতাংশ খেলাপি ছিল। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার আরও ১.৬৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২.২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরের তুলনায় এই সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ঋণ বৃদ্ধির পেছনে নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে বিদ্যমান ঋণের ওপর সুদ যোগ হওয়ার বিষয়টি বেশি ভূমিকা রেখেছে। কারণ মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে ঋণের স্থিতি বাড়লেও তা মূলত সুদ সংযোজনের কারণে হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি

ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব নীতির আওতায় ঋণগ্রহীতাদের জন্য পুনঃতফসিল (রিশিডিউলিং) ও পুনর্গঠনের (রিস্ট্রাকচারিং) সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণধারীরা বিভিন্ন সময় এসব সুবিধা নিয়ে তাদের ঋণকে নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থী ও ব্যবসায়ীও খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েছেন বলে ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। তবে এতসব সুবিধা দেওয়ার পরও কেন খেলাপি ঋণ বাড়ছে—এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রত্যাশিত মাত্রায় খেলাপি ঋণ আদায় সম্ভব হয়নি। ফলে পুরোনো খেলাপি ঋণের সঙ্গে নতুন

করে সুদ যুক্ত হয়ে মোট খেলাপির পরিমাণ আরও বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “খেলাপি ঋণ আদায় যেই পরিমাণে হওয়ার কথা ছিল সেই মাত্রায় হয়নি। একই সময়ে খেলাপি ঋণের সুদ যুক্ত হয়ে পরিমাণ আরও বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, যেসব ঋণগ্রহীতা নীতি সহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, তাদের অনেকেই দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা অবকাশ সুবিধা নিয়েছেন। ফলে ওই ঋণগুলোর বিপরীতে এখন উল্লেখযোগ্য আদায় হচ্ছে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর আদায়ের গতি বাড়তে পারে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরিফ হোসেন খান বলেন, “নীতি সহায়তার মাধ্যমে যারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছে তারা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড নিয়েছে। যেই কারণে এখন আদায় হচ্ছে না। দুই বছর পার

হলে আদায়ের গতি ও পরিমাণ বাড়বে। একইভাবে নির্বাচনের আগে যারা ঋণ রিশিডিউল করেছে তারাও মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট জমা দিয়েছে।” বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছিল। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় কয়েকটি বড় ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও

ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে দেশের ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা, ঋণ আদায়ের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কেবল পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ সাময়িকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর আদায় ব্যবস্থা, ঋণ বিতরণে সুশাসন, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনিক ও নীতিগত সহায়তা সত্ত্বেও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখনও অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাড়তি ৬০,৪৩২ কোটি টাকা দেবে ফিফা, বাংলাদেশ কত পাবে শিক্ষাসহ ৩ সচিবকে সিনিয়র পদমর্যাদা দিল সরকার কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, ভাঙচুর দিল্লিতে আবারও জড়ো হওয়ার আহ্বান অভিজিৎ দীপকের গঙ্গা চুক্তি নবায়নে সিদ্ধান্ত হয়নি, ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা হরমুজে ২ হাজার ৫০০ কনটেইনারসহ জাহাজডুবি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দিন শুরু যেভাবে— নাশতা বানান, বাসনও মাজেন ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী বিশ্বজুড়ে ডিজেল সংকট থাকবে কতদিন, জানাল আইইএ ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলো হাসানুল হক ইনুকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন, দেশে ভরি কত? চাঁদাবাজী-ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্যে বেঁচে ফেরাকে ‘কপাল জোরে বেঁচে গেলাম’ বললেন এভারেস্ট জয়ী বাবর আলী ‘জয় বাংলা’কে দাবিয়ে রাখা যাবে না’: আদালত চত্বরে জামিন পেয়েই গর্জে উঠলেন আইভী বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ‘রেড জোন’ করা হবে, মিলবে ‘সবকিছু’ নোবেল জয়ের ২০ বছরে ইউনূস: অভিনন্দনের দিনেও হামে শিশুমৃত্যু থামেনি, সরকারি হিসাবেই ১,১৭০ ছাড়ালো শিশু মৃত্যুর সংখ্যা সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা, যৌথ সহয়তা’র ‘মক্কা জোট’ যৌথ নিন্দা প্রকেশেই সীমিত টঙ্গীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কারখানা পুড়ে ছাই: মার্কিন ওষুধ-চুক্তির সাথে একসূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন কর্মচারীদের নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে একদিনে দুই মৃত্যু: চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, সোনাইমুড়ীতে মাঠে মিলল প্রবাসীর মরদেহ যা দেখছেন চোখের সামনে, পর্দার পেছনের বাস্তবতা কেমন – সেটা কি জানেন?