ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে কাদের, কত জামানত লাগবে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে অভিশংসন করা হতে পারে, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড: বাংলাদেশ কেন তালিকায়, কাদের জন্য জামানত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের গুণতে হবে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল দেবে ভেনেজুয়েলা: ডোনাল্ড ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আলোচনা চলছে: হোয়াইট হাউস
পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে স্ত্রীসহ তুলে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। দেশটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চাপা উত্তেজনার মধ্যে সড়কে টহল দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে খাটো করেছে। বিশ্ব এখন আগের চেয়ে কম নিরাপদ।
মাদুরোকে তুলে আনার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও। এ অবস্থায় ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজ দেশে ফেরার অঙ্গীকার প্রকাশ করে দ্রুত নির্বাচন চেয়েছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী এ মাচাদোই যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার আগ্রাসনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি মাদুরো প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিরোধী নেতা মাচাদো এরই মধ্যে তাঁর ওপর
অনাস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তাঁকে (ডেলসি) বিশ্বাস করা যায় না।’ তিনি সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করেন। এ প্রেক্ষাপটে পুরো ভেনেজুয়েলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিবিসি লিখেছে, গুয়ানাসহ বিভিন্ন শহরে সামরিক বাহিনী টহল দিচ্ছে। সড়কে লোকজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে; গাড়ির সংখ্যাও কম। রাজধানী কারাকাসে পোষা কুকুর নিয়ে দোকান পাহারা দিতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আলজাজিরা জানায়, মার্কিন সামরিক অভিযানের পর আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না ভেনেজুয়েলার মানুষ। ওই অভিযানে কিউবার ৩২ সেনাসদস্য ও অজ্ঞাতসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুরো দেশ অনিশ্চয়তায় চাদরে ঢাকা; জীবন স্বাভাবিকতা থেকে বহুদূর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি
পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ভেনেজুয়েলায় একটি নির্বাচনকে সমর্থন করেছেন। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, এখনও পরিস্থিতি ভোটের জন্য উপযুক্ত নয়। চলমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড আগ্রাসনে ট্রাম্পের হুমকি-ধমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্কা রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো ভেঙে যাওয়ারও। বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে গতকাল বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে। জাপানের টোকিওতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে একদল লোক। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ারস, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানানো হয়। ‘ভেনেজুয়েলাকে বাঁচাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়। বিশ্বকে কম নিরাপদ করে তুলেছে: জাতিসংঘ ভেনেজুয়েলায়
মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, মার্কিন পদক্ষেপ ‘বিশ্বের সব দেশকে কম নিরাপদ করে তুলেছে।’ জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি অর্জন করা যায় না। মানবাধিকারের বিজয় তো দূরের কথা, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘনকারী এ সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কাঠামোর ক্ষতি করেছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা মহাসচিবও তুলে ধরেছেন।’ নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক ও মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণ আন্তর্জাতিক আইনের জন্য নজির
স্থাপনকারী ঘটনা হতে পারে। ১৫ সদস্যের ব্লক গত সোমবার নিউইয়র্কে জরুরি বৈঠক করে। জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা মার্কিন অভিযানকে ‘কোনো আইনি যুক্তি ছাড়াই অবৈধ সশস্ত্র আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। কিউবা, কলম্বিয়া ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানায়। উজ্জীবিত মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলা থেকে কীভাবে তেল নেওয়া যায়, তা নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল কোম্পানি ট্র্যাফিগুরা গ্রুপের প্রধান লুকক ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় কী সুযোগ আছে, আমি মনে করি, সবাই সেদিকে তাকিয়ে।’ হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় নতুন বিনিয়োগ ও সুযোগ তৈরিতে
যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’ দেশে ফেরার অঙ্গীকার মাচাদোর, চান দ্রুত নির্বাচন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তিনি ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ ভেনেজুয়েলায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে ফক্স নিউজের সম্প্রচারক শন হ্যানিটিকে তিনি এ কথা জানান। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসির সমালোচনা করে তিনি তাঁকে ‘নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি, মাদক পাচারের অন্যতম স্থপতি’ বলে বর্ণনা করেন। এ সময় নির্বাচন চেয়ে মাচাদো বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটে জয়ী হব। এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ গত অক্টোবরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো সরকারের পতন ঘটনোর জন্য আহ্বান জানান মাচাদো। এরপরই ভেনেজুয়েলার আশপাশে
সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোকে তুলে নিয়ে এলেও ট্রাম্প বলেছেন, দেশ চালানোর মতো গ্রহণযোগ্যতা মাচাদোর নেই। নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গত সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তোলা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ষড়যন্ত্র, অস্ত্র রাখাসহ চারটি অভিযোগ আনা হয়। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কোকেনের ফ্যাক্টরি আছে পেত্রোর, দাবি ট্রাম্পের ট্রাম্প প্রশাসন ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়া ‘খুব অসুস্থ’ এবং ‘একজন অসুস্থ ব্যক্তির’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।” তিনি বলেন, ‘তাঁর কোকেন মিল ও কোকেনের ফ্যাক্টরি আছে। তিনি খুব বেশি দিন এটি করতে পারবেন না।’ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তেজনা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, এ নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর ডেনমার্কের নেতা সতর্ক করে বলেন, ন্যাটো মিত্রের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের অর্থ সামরিক জোট ও ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা’ উভয়েরই অবসান হবে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে ‘খুবই প্রয়োজন’। কানাডার প্রতিবেশী স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি মূলত ডেনমার্কের রাজ্য। গ্রিনল্যান্ডের বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতি কোপেনহেগেন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত সোমবার সতর্ক করে বলেন, ন্যাটো মিত্রের ওপর মার্কিন যে কোনো আক্রমণে ‘সবকিছুর’ শেষ হবে। ডেনিশ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি২-কে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র অন্য ন্যাটো দেশকে সামরিকভাবে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে, যার মধ্যে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পকে ‘সংযুক্তিকরণ সম্পর্কে তাঁর কল্পনা’ ত্যাগের আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘হুমকি, চাপ ও সংযুক্তির কথা বলাটা বন্ধুত্বের মধ্যে চলে না। যথেষ্ট হয়েছে। আর কোনো চাপ নেই। আর ইঙ্গিত নেই। সংযুক্তিকরণ সম্পর্কে আর কোনো কল্পনা নেই।’ এ উত্তেজনার মধ্যে গতকাল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, ব্রিটেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তারা বলেন, ‘বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের। তারাই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
অনাস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তাঁকে (ডেলসি) বিশ্বাস করা যায় না।’ তিনি সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করেন। এ প্রেক্ষাপটে পুরো ভেনেজুয়েলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিবিসি লিখেছে, গুয়ানাসহ বিভিন্ন শহরে সামরিক বাহিনী টহল দিচ্ছে। সড়কে লোকজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে; গাড়ির সংখ্যাও কম। রাজধানী কারাকাসে পোষা কুকুর নিয়ে দোকান পাহারা দিতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আলজাজিরা জানায়, মার্কিন সামরিক অভিযানের পর আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না ভেনেজুয়েলার মানুষ। ওই অভিযানে কিউবার ৩২ সেনাসদস্য ও অজ্ঞাতসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুরো দেশ অনিশ্চয়তায় চাদরে ঢাকা; জীবন স্বাভাবিকতা থেকে বহুদূর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি
পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ভেনেজুয়েলায় একটি নির্বাচনকে সমর্থন করেছেন। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, এখনও পরিস্থিতি ভোটের জন্য উপযুক্ত নয়। চলমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড আগ্রাসনে ট্রাম্পের হুমকি-ধমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্কা রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো ভেঙে যাওয়ারও। বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে গতকাল বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে। জাপানের টোকিওতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে একদল লোক। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ারস, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানানো হয়। ‘ভেনেজুয়েলাকে বাঁচাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়। বিশ্বকে কম নিরাপদ করে তুলেছে: জাতিসংঘ ভেনেজুয়েলায়
মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, মার্কিন পদক্ষেপ ‘বিশ্বের সব দেশকে কম নিরাপদ করে তুলেছে।’ জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি অর্জন করা যায় না। মানবাধিকারের বিজয় তো দূরের কথা, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘনকারী এ সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কাঠামোর ক্ষতি করেছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা মহাসচিবও তুলে ধরেছেন।’ নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক ও মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণ আন্তর্জাতিক আইনের জন্য নজির
স্থাপনকারী ঘটনা হতে পারে। ১৫ সদস্যের ব্লক গত সোমবার নিউইয়র্কে জরুরি বৈঠক করে। জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা মার্কিন অভিযানকে ‘কোনো আইনি যুক্তি ছাড়াই অবৈধ সশস্ত্র আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। কিউবা, কলম্বিয়া ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানায়। উজ্জীবিত মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলা থেকে কীভাবে তেল নেওয়া যায়, তা নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল কোম্পানি ট্র্যাফিগুরা গ্রুপের প্রধান লুকক ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় কী সুযোগ আছে, আমি মনে করি, সবাই সেদিকে তাকিয়ে।’ হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় নতুন বিনিয়োগ ও সুযোগ তৈরিতে
যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’ দেশে ফেরার অঙ্গীকার মাচাদোর, চান দ্রুত নির্বাচন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তিনি ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ ভেনেজুয়েলায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে ফক্স নিউজের সম্প্রচারক শন হ্যানিটিকে তিনি এ কথা জানান। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসির সমালোচনা করে তিনি তাঁকে ‘নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি, মাদক পাচারের অন্যতম স্থপতি’ বলে বর্ণনা করেন। এ সময় নির্বাচন চেয়ে মাচাদো বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটে জয়ী হব। এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ গত অক্টোবরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো সরকারের পতন ঘটনোর জন্য আহ্বান জানান মাচাদো। এরপরই ভেনেজুয়েলার আশপাশে
সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোকে তুলে নিয়ে এলেও ট্রাম্প বলেছেন, দেশ চালানোর মতো গ্রহণযোগ্যতা মাচাদোর নেই। নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গত সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তোলা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ষড়যন্ত্র, অস্ত্র রাখাসহ চারটি অভিযোগ আনা হয়। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কোকেনের ফ্যাক্টরি আছে পেত্রোর, দাবি ট্রাম্পের ট্রাম্প প্রশাসন ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়া ‘খুব অসুস্থ’ এবং ‘একজন অসুস্থ ব্যক্তির’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।” তিনি বলেন, ‘তাঁর কোকেন মিল ও কোকেনের ফ্যাক্টরি আছে। তিনি খুব বেশি দিন এটি করতে পারবেন না।’ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তেজনা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, এ নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর ডেনমার্কের নেতা সতর্ক করে বলেন, ন্যাটো মিত্রের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের অর্থ সামরিক জোট ও ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা’ উভয়েরই অবসান হবে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে ‘খুবই প্রয়োজন’। কানাডার প্রতিবেশী স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি মূলত ডেনমার্কের রাজ্য। গ্রিনল্যান্ডের বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতি কোপেনহেগেন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত সোমবার সতর্ক করে বলেন, ন্যাটো মিত্রের ওপর মার্কিন যে কোনো আক্রমণে ‘সবকিছুর’ শেষ হবে। ডেনিশ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি২-কে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র অন্য ন্যাটো দেশকে সামরিকভাবে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে, যার মধ্যে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পকে ‘সংযুক্তিকরণ সম্পর্কে তাঁর কল্পনা’ ত্যাগের আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘হুমকি, চাপ ও সংযুক্তির কথা বলাটা বন্ধুত্বের মধ্যে চলে না। যথেষ্ট হয়েছে। আর কোনো চাপ নেই। আর ইঙ্গিত নেই। সংযুক্তিকরণ সম্পর্কে আর কোনো কল্পনা নেই।’ এ উত্তেজনার মধ্যে গতকাল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, ব্রিটেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তারা বলেন, ‘বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের। তারাই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’



