প্রথম আলোর আড়ালে হিযবুত তাহরির ও মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমান: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

প্রথম আলোর আড়ালে হিযবুত তাহরির ও মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমান: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ |
প্রকাশ্যে তিনি একজন স্বনামধন্য গণমাধ্যমের সিনিয়র প্রতিবেদক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কিন্তু সাংবাদিকতার সাইনবোর্ডের আড়ালে তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরিরের অন্যতম 'থিঙ্ক ট্যাঙ্ক' এবং ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে নারকীয় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকের (মেজর জিয়া) ঘনিষ্ঠ সহযোগী। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ উঠেছে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক আরিফ রহমানের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বেনামে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চালিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির মধ্য দিয়ে আরিফ রহমানের হাতেখড়ি। সে সময়ই তিনি যুক্ত হন 'দৈনিক আমাদের সময়' পত্রিকার সঙ্গে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

তার এক সাবেক সহপাঠীও তার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে 'ঢাকা ট্রিবিউন' পত্রিকায় দায়িত্ব পালনের সময় হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে তিনি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা ট্রিবিউনে থাকাকালীনই সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও আত্মগোপনে থাকা মেজর জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১২ সালে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টার পর আলোচনায় আসা মেজর জিয়াকে বিগত সরকার জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা এবং একাধিক টার্গেট কিলিং ও হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। জানা যায়, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মেজর জিয়াকে নানাভাবে সহযোগিতা করতেন চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খান এবং এই আরিফ রহমান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর গত ৩১ অক্টোবর খিজির হায়াত

খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যে মেজর জিয়াকে নিজের 'বন্ধু' দাবি করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, "আমার বন্ধু মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক বেঁচে আছে আলহামদুলিল্লাহ। শেখ হাসিনার সরকার ওকে জঙ্গী আখ্যা দিয়ে মারতে পারে নাই"। খিজির হায়াতের এই পোস্টের পর মেজর জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে[। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ট্রিবিউনে আরিফ রহমানের সঙ্গে কাজ করা এক সাবেক সহকর্মী জানান, "আরিফকে ঢাকা ট্রিবিউনের সময় থেকেই আমার সন্দেহ হতো, তবে প্রমাণ ছাড়া কিছুই করতে পারিনি। চব্বিশের পট পরিবর্তনের পর একদিন গুলশানের সামদাদো রেস্তোরাঁয় খিজির হায়াত খানের সঙ্গে মিটিং শেষে বের হওয়ার সময় আরিফের সঙ্গে আমার দেখা হয়।

তখনই খিজির হায়াত খানের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। এরই মধ্যে আমাদের আরেক মিউচুয়াল বন্ধু খিজির হায়াত এবং আরিফের সঙ্গে মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠতার চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এটা শোনার পর থেকেই আমি আরিফের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখি।" আরিফ রহমানের সন্দেহভাজন এসব কর্মকাণ্ড নজর এড়ায়নি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই)। এনএসআই-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, "হলি আর্টিজানে হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়ার সঙ্গে যে গুটিকয়েক মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, তার মধ্যে খিজির হায়াত খান আর আরিফ রহমান অন্যতম। এই বিষয়ে আমরা আমাদের গোপন প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু তিনি সাংবাদিক বলে সহজেই পার পেয়ে যান। তবে আমার বুঝ আসে না, প্রথম আলোর মতো

একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে এখনো কর্মরত রেখেছে!" আরিফ রহমানের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহলও তার এই প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছে। একাধিক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বেনামে আরিফ রহমানের বিশাল ব্যবসা রয়েছে। সেখানে তার একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক—এই পরিচয়ে কেউ তাকে ঘাঁটানোর সাহস করেন না। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকতার অন্তরালে তিনি তার অপরাধকর্ম ও ব্যবসা সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন। আরিফ রহমানের এই অবস্থান দেশের সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের বিস্ময় তৈরি করেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো প্রথম আলো ও হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির বেদনাদায়ক সংযোগ। ২০১৬

সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফারাজ হোসেন। তিনি প্রথম আলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সিমিন রহমানের সন্তান। অথচ যেই জঙ্গি হামলার কারণে ট্রান্সকম পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে, সেই হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরিফ রহমানই কিনা আজ প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন! এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরিফ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, এমন স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন বহাল রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি

ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাচার বাড়ি থেকে ফেরার পথে শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১ কেন ওয়াদুদকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন জানালেন মৌসুমী অবসরের ঘোষণা দিলেন নেইমার উল্টোরথে ব্রাজিলের ‘মিশন হেক্সা কমপ্লিট’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু দেশের ১২ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস উলিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন ‘মানুষ চেয়েছিল ম্যারাডোনার মাথা ভেঙে দিই’ বিশ্বকাপ খেলে ২৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে কেপ ভার্দে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি গাজা যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল ‘দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়’ আদর্শকে হত্যা করা যায় না, ট্রাম্পের ‘এক আঘাতেই সবাই শেষ’ মন্তব্যের জবাবে ইরান গাজা যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল ‘দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়’ কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন মা-মেয়েকে ধর্ষণ: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা মার্কিন বাজারে ঝড় তুলেছে চীনের নতুন এআই মডেল