ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
১৬ কোটি টাকা নিয়ে ভুয়া কাগজ! প্রেস সচিবের ভাইয়ের ধোঁকায় এখন নিঃস্ব ডা. শাহরিয়ার
নৌকা প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।
‘দায়মুক্তি’ শীর্ষক
নাইকোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, ক্ষতিপূরণ মিললো ৪২ মিলিয়ন ডলার
আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোট হবে না, আমরাও কেন্দ্রে যাবো না” –নাগরিক কন্ঠ
ইউনুস রেজিমের বিচার, যেখানে আইন অপরাধীর দালাল আর রাষ্ট্র জনগণের সঙ্গে প্রতারণায় ব্যস্ত
বাংলাদেশে আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক বড় হচ্ছে, জঙ্গি আবদুল্লাহ মায়মুন আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট: বাংলাদেশ কি নিজেই নিজেকে ‘হাই-রিস্ক স্টেট’ বানাচ্ছে?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিছু সিদ্ধান্ত থাকে, যেগুলো কেবল প্রশাসনিক নয়—সেগুলো স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করে। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত ঠিক তেমনই একটি পদক্ষেপ। এটি শুধু আকাশপথ উন্মুক্ত করা নয়; এটি বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া যে বাংলাদেশ নিজেকে কোন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানে দাঁড় করাতে চায়।
যে পাকিস্তানকে আজও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন নিরাপত্তা নথিতে জঙ্গিবাদের উৎস ও লজিস্টিক হাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেই দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনোভাবেই “নিরপেক্ষ” সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলে
বিশ্বের দিকে তাকালেই এর তুলনামূলক চিত্র স্পষ্ট হয়।
আফগানিস্তান (২০২১–পরবর্তী সময়): তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বহু দেশ কাবুলের
সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ বা সীমিত করে। কারণ—মানবাধিকার নয়, সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি। সিরিয়া: গৃহযুদ্ধ ও জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কার্যত স্থগিত রেখেছে। লিবিয়া ও ইয়েমেন: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সীমিত বা বন্ধ—কারণ একই, জঙ্গিবাদ ও অস্ত্র পাচার। অথচ পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে—যখন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) বহু বছর ধরে পাকিস্তানকে জঙ্গি অর্থায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাসপোর্ট, ভিসা এবং ‘রিস্ক প্রোফাইল’ আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় একটি অঘোষিত কিন্তু বাস্তব বিষয় আছে—Risk Profiling। বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের ভিসা বা ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে বিশ্বের বহু বিমানবন্দরেই যাত্রীকে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ, আলাদা স্ক্যানিং ও
নজরদারির মুখে পড়তে হয়। এই বাস্তবতা বাংলাদেশ অস্বীকার করতে পারে না। বরং সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকেও সেই ‘উচ্চ ঝুঁকির ভ্রমণ করিডোর’-এর অংশ করে তুলছে। কারা আসবে—এই প্রশ্ন এড়ানো যায় না সরকারি ভাষ্যে বলা হতে পারে—এই ফ্লাইট বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জনগণের যোগাযোগ বাড়াবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ভিন্ন কথা বলে। পাকিস্তানের ভেতর সক্রিয় বা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক— লস্কর-ই-তৈয়বা, আইএস-এর উপ-শাখা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান—এরা কেউ সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকে না। তারা সুযোগ খোঁজে বৈধ রুটের, বৈধ কাগজের, বৈধ ফ্লাইটের। সরাসরি ফ্লাইট মানে— নজরদারির চাপ কমে, যাতায়াত সহজ হয়, নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। ইরাক ও লেবাননের অভিজ্ঞতা বলে—একবার এই নেটওয়ার্ক ঢুকে পড়লে পরে তা নির্মূল করতে দশক লেগে যায়। ভূরাজনৈতিক অবস্থান: বাংলাদেশ কোথায়
দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক, চীন–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে অঞ্চলটি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা মানে— পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রশ্নচিহ্ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। শ্রীলঙ্কা হামলার (২০১৯) পর দেশটি যেভাবে নিরাপত্তা নীতিতে কঠোরতা দেখিয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে ঠিক উল্টো সংকেত দিচ্ছে। সার্বিক বার্তা: সিদ্ধান্ত আজ, মূল্য কাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি আবেগে চলে না—চলে স্মৃতি ও রেকর্ডে। আজ যারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা হয়তো ক্ষমতায় আছে। কিন্তু কাল ইতিহাস হিসাব চাইবে। বাংলাদেশ কি সচেতনভাবে নিজেকে একটি High-Risk Transit State হিসেবে তুলে ধরতে চায়? নাকি এটি একটি অবিবেচক, কিন্তু বিপজ্জনক কূটনৈতিক আত্মঘাত? কারণ জঙ্গিবাদ কোনো একদিনে আসে না—এটি আসে ধাপে ধাপে,
সিদ্ধান্তের ফাঁক গলে। আর একবার এলে, পুরো জাতিকেই তার মূল্য দিতে হয়।
সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ বা সীমিত করে। কারণ—মানবাধিকার নয়, সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি। সিরিয়া: গৃহযুদ্ধ ও জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কার্যত স্থগিত রেখেছে। লিবিয়া ও ইয়েমেন: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সীমিত বা বন্ধ—কারণ একই, জঙ্গিবাদ ও অস্ত্র পাচার। অথচ পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে—যখন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) বহু বছর ধরে পাকিস্তানকে জঙ্গি অর্থায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাসপোর্ট, ভিসা এবং ‘রিস্ক প্রোফাইল’ আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় একটি অঘোষিত কিন্তু বাস্তব বিষয় আছে—Risk Profiling। বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের ভিসা বা ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে বিশ্বের বহু বিমানবন্দরেই যাত্রীকে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ, আলাদা স্ক্যানিং ও
নজরদারির মুখে পড়তে হয়। এই বাস্তবতা বাংলাদেশ অস্বীকার করতে পারে না। বরং সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকেও সেই ‘উচ্চ ঝুঁকির ভ্রমণ করিডোর’-এর অংশ করে তুলছে। কারা আসবে—এই প্রশ্ন এড়ানো যায় না সরকারি ভাষ্যে বলা হতে পারে—এই ফ্লাইট বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জনগণের যোগাযোগ বাড়াবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ভিন্ন কথা বলে। পাকিস্তানের ভেতর সক্রিয় বা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক— লস্কর-ই-তৈয়বা, আইএস-এর উপ-শাখা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান—এরা কেউ সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকে না। তারা সুযোগ খোঁজে বৈধ রুটের, বৈধ কাগজের, বৈধ ফ্লাইটের। সরাসরি ফ্লাইট মানে— নজরদারির চাপ কমে, যাতায়াত সহজ হয়, নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। ইরাক ও লেবাননের অভিজ্ঞতা বলে—একবার এই নেটওয়ার্ক ঢুকে পড়লে পরে তা নির্মূল করতে দশক লেগে যায়। ভূরাজনৈতিক অবস্থান: বাংলাদেশ কোথায়
দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক, চীন–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে অঞ্চলটি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা মানে— পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রশ্নচিহ্ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। শ্রীলঙ্কা হামলার (২০১৯) পর দেশটি যেভাবে নিরাপত্তা নীতিতে কঠোরতা দেখিয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে ঠিক উল্টো সংকেত দিচ্ছে। সার্বিক বার্তা: সিদ্ধান্ত আজ, মূল্য কাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি আবেগে চলে না—চলে স্মৃতি ও রেকর্ডে। আজ যারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা হয়তো ক্ষমতায় আছে। কিন্তু কাল ইতিহাস হিসাব চাইবে। বাংলাদেশ কি সচেতনভাবে নিজেকে একটি High-Risk Transit State হিসেবে তুলে ধরতে চায়? নাকি এটি একটি অবিবেচক, কিন্তু বিপজ্জনক কূটনৈতিক আত্মঘাত? কারণ জঙ্গিবাদ কোনো একদিনে আসে না—এটি আসে ধাপে ধাপে,
সিদ্ধান্তের ফাঁক গলে। আর একবার এলে, পুরো জাতিকেই তার মূল্য দিতে হয়।



