নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৬

নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৬ |
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর হাতে আসা দুদকের নথিপত্র থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের শাসনামলে জাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান ২০২৩ সালের জুলাই থেকে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যদিকে রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম

মনিরুজ্জামান ২০২৪ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ দুদকের ২০২৫ সালের ৭ জুলাইয়ের একটি নথি অনুসারে, রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে "ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার" অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে শিপিং কর্পোরেশনের কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন, তেলের চুক্তিনামা, দরপত্র এবং তার ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খতিয়ে দেখা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে: ১. ক্রেন ক্রয় দুর্নীতি: চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য চীন থেকে প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন (২৮৬ কোটি) টাকা ব্যয়ে ৬টি ক্রেন কেনার সিদ্ধান্ত

হলেও, পরবর্তীতে একই খরচে মাত্র ৩টি ক্রেন কেনা হয়। এর ফলে প্রায় ১.৪৩ বিলিয়ন (১৪৩ কোটি) টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়। ২. জাহাজ ক্রয় দুর্নীতি: মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন চীন থেকে ২,৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু একই খরচে মাত্র ৪টি জাহাজ কেনা হয়, ফলে ৪৮৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়। ৩. মোংলা বন্দর ড্রেজিং: ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে প্রায় ১,৫৩৮.১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে 'অ্যানিমেল চ্যানেল কনজারভেশন ড্রেজিং' প্রকল্পের চুক্তি হয়, যেখানে কাজের বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসানের সংশ্লিষ্টতা ও অর্থ পাচার দুদকের তদন্তে এসব দুর্নীতির অন্যতম

সুবিধাভোগী হিসেবে বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসানের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্রয়ে তাঁর ভূমিকা মূলত নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উপদেষ্টা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। দুদক জানিয়েছে, চুক্তি ও কেনাকাটা থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ পাচার করে বিদেশের বিভিন্ন অফশোর আর্থিক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় 'মুকুল কর্পোরেশন' (প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ কাজী মুকুল) নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। সম্পদগুলো পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত থাকলেও, আয়ের উৎসের সাথে এর ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মো. সাজিদ হাসান ও তানজিম হাসানের নামে এসব সম্পদের মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, নৌবাহিনী প্রধানের স্ত্রীর ভগ্নিপতি মো. জিল্লুর রহমানের

মাধ্যমেও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। জিল্লুর রহমান মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং অলিলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক[3]। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশ ছেড়ে কাতারে পাড়ি জমান এবং সেখানে একটি মার্কেট কেনেন। দুদক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটটি জিল্লুর রহমানের নামে কেনা হলেও এর সম্পূর্ণ অর্থ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান অবৈধভাবে প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত কমিটির পরিধি বৃদ্ধি ও দুদকের পর্যবেক্ষণ দুর্নীতির এই বিশাল জাল উন্মোচনে প্রথমে ২০২৫ সালের ১ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং মোহাম্মদ ইমরান আহমেদের সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকায় এবং চট্টগ্রাম

বন্দর, শিপিং কর্পোরেশন ও মোংলা বন্দরের নানা প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসায় ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি তদন্ত দলে আরও চারজন কর্মকর্তাকে যুক্ত করতে বাধ্য হয় দুদক। দুদকের চূড়ান্ত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জবাবদিহিহীনভাবে বড় বড় প্রকল্পের অনুমোদন ও ঠিকাদার নির্বাচনের কাজ করেছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বৈধ আয়ের সাথে তাদের অর্জিত সম্পদের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দুদক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আরও গভীরতর পর্যালোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যেসব কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ককটেল নিক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরি গুরু পাপে লঘু দণ্ড পুঁজিবাজারে, উৎসাহিত হচ্ছে কারসাজি চক্র সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার, ৩৪৫৩ কেজি মাংস উদ্ধার! কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি চুয়াত্তরেও সেই জাদু রুনা লায়লার কণ্ঠে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮ কোরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যারা মানুষ কেন নাক খোঁটে জানেন? বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির: দেশের জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই চরম গ্যাস সংকটে উৎপাদনে ধস: সংকটে শিল্প, শঙ্কায় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল ঘোষণা: ফিরলেন সৌম্য ও জাকের, বাদ জয় ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ৪২% খেলাপি, বাড়ছে বড় ঋণের ঝুঁকি বিএনপি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প: নির্মাণের এক মাসেই সড়কে ধস, জলাবদ্ধতায় স্থবির পাঁচ গ্রামের জনজীবন আগস্টে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন না হলে সরকারি কর্মচারীদের বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা ‘লীগ নেতা’ ট্যাগে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না পেয়ে ব্যবসায়ীকে আয়নাঘরে নির্যাতনের পর পুলিশে দিল বিএনপি নেতা জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির খাবার পানিতে বিষ: নাশকতার শঙ্কা, নমুনা পাঠানো হলো ল্যাবে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে ডিগবাজি দেওয়া নেতা চাঁদাবাজির দায়ে গ্রেপ্তার অস্ত্রের ভাণ্ডারে পরিণত হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বাড়ছে জঙ্গি আতঙ্ক