ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জুলাইয়ের দাঙ্গা থেকে জামায়াততন্ত্র: একটি ক্যুয়ের ময়নাতদন্ত
যেভাবে ইউনুসের সংস্কারের ঠ্যালায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতে গিয়ে সিসিমপুর হয়ে গেলো!
ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে এবার ঝরল জামায়াত নেতার প্রাণ
ইতিহাসের অন্ধকার, ইউনুস সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ
গতবছর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ৫২২টি, দাবি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের
নারীমুক্তির মুখোশ পরা ইউনুসের আসল চেহারা
১৮-এর নির্বাচনে অনিয়ম আমরা চাইনি, প্রশাসনের অতিউৎসাহীরা করেছে: সজীব ওয়াজেদ জয়
দোজখের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের খেলা: জামায়াত-বিএনপির নির্বাচনী ধর্মব্যবসা এখন প্রকাশ্যে
বাংলাদেশে এখন যা চলছে তাকে নির্বাচন বলা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলাই বাহুল্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রক্তাক্ত দাঙ্গার মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে অবৈধ কাঠামো ক্ষমতায় বসেছে, তার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই তথাকথিত নির্বাচনের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচিত হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায়। নোয়াখালীর মাঠে যা দেখা যাচ্ছে তা নিছক নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত নাটকের মহড়া যেখানে ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে নারীদের ভোটের পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি, এই দুটি দলের প্রচারণার ধরন দেখলেই বোঝা যায় তারা আসলে কোন যুগে বাস করছে। একদিকে জামায়াত তালিমের নামে মাসের পর মাস ধরে নারীদের মগজধোলাই করে আসছে, আর এখন সরাসরি বলছে
তাদের দলকে ভোট দিলে আখিরাতে পুরস্কার মিলবে। অন্যদিকে বিএনপির এক নেতা নির্লজ্জভাবে বলছেন যে স্ত্রীরা স্বামীর আদেশ মানতে বাধ্য, নইলে জাহান্নামে যেতে হবে। এই হলো তাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা, এই হলো নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পেছনে যে শক্তিগুলো কাজ করেছে, তারা এখন তাদের আসল রূপ প্রকাশ করছে। সুদী মহাজন ইউনুস এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতায় আসা যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি সংগঠন জামায়াত আর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের আখড়া বিএনপি মিলে এখন একটি প্রহসনের আয়োজন করেছে যার নাম দিয়েছে নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা কেমন নির্বাচন যেখানে
দেশের প্রধানতম দলটিই অনুপস্থিত? নোয়াখালীর মাঠে যা ঘটছে তা সারাদেশের চিত্র মাত্র। জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিমের নামে ধর্মীয় আলোচনার আড়ালে মাসের পর মাস ধরে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা নারীদের বিকাশ নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে, যদিও এখন তা অস্বীকার করছে। আর এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তাদের দলকে ভোট দিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, আখিরাতে পুরস্কার মিলবে। এটা কি ধর্মের অপব্যবহার নয়? এটা কি নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন নয়? বিএনপির চিত্র আরও ভয়াবহ। তাদের এক স্থানীয় নেতা নির্দ্বিধায় বলছেন যে স্ত্রী স্বামীর নির্দেশ অমান্য করলে জাহান্নামি হবে, তাই তার স্ত্রী তার পছন্দের দলকেই ভোট দেবে। এই মানসিকতা
কোন শতাব্দীর? এরা কি মনে করে নারীরা স্বাধীন মানুষ নয়? তাদের কি নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা নেই? তারা কি জানে না যে ভোট দেওয়ার অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার, যেখানে কেউ কারো ওপর জোর খাটাতে পারে না? বিএনপির নারী কর্মীরা প্রচারণায় গিয়ে নারীদের কাছে থেকে ধানের শীষকে ভোট দেওয়ার ওয়াদা নিচ্ছে, যেন ভোট একটি ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি। এটাও ধর্মের চরম অপব্যবহার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে সামরিক বাহিনী জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নীরব সমর্থন দিয়েছিল, তারা এখন এই প্রহসনকে তত্ত্বাবধান করছে। যে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলো রাজপথে তাণ্ডব চালিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল, তারা এখন নির্বাচনের প্রার্থী। যে বিদেশি শক্তিগুলো এই অভ্যুত্থানে অর্থ জোগান দিয়েছিল, তারা এখন
এই প্রহসনকে গণতন্ত্র হিসেবে বিক্রি করার চেষ্টা করছে। নোয়াখালীর মাঠে নারী ভোটারদের সাথে কথা বললে বোঝা যায় তারা কতটা বিভ্রান্ত। ৭৫ বছরের আফরোজা বেগম বলছেন তিনি বুঝতে পারছেন না গণভোটে হ্যাঁ না না কী দিতে হবে। শাহিদা আক্তার চান রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, লাইলী বেগম চান নিরাপত্তা। কিন্তু তাদের কাছে যারা ভোট চাইতে আসছে তারা এসব বাস্তব সমস্যার কথা বলছে না, বলছে জান্নাত-জাহান্নামের কথা। এটাই হলো জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির মূল চরিত্র। যে দেশে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছেন, যে দেশে শেখ হাসিনা নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অভূতপূর্ব সাফল্য এনেছিলেন, সেই দেশে এখন নারীদের বলা হচ্ছে তারা স্বামীর নির্দেশ মানতে বাধ্য।
যে দেশ একসময় প্রগতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই দেশকে এখন টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মধ্যযুগে। জামায়াত এবং বিএনপি দুটোই জানে যে তাদের রাজনীতির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাদের কাছে নেই উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা, নেই দেশের অগ্রগতির কোনো রূপরেখা। তাই তারা আশ্রয় নিয়েছে ধর্মের। তারা জানে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাই ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে বাংলাদেশের মানুষ বুদ্ধিমান, তারা বুঝতে পারে কে সত্যিকারের ধার্মিক আর কে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের আরেকটি বড় সমস্যা হলো এতে দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। যে দল দেশ স্বাধীন
করেছে, যে দল দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এটা কি গণতন্ত্র নাকি প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রেখে একতরফা খেলা? জামায়াতে ইসলামী, যে সংগঠন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে দাঁড়িয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, সেই সংগঠনকে এখন নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে যে সরকার দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই সরকারকে উৎখাত করে এখন যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এটা দেশের সাথে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে, শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা নয় কি? বিএনপি, যে দল দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিল, যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশে বোমাবাজি ও জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল, তারা এখন আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তারা জানে সৎভাবে তারা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তাই তারা ধর্মকে ব্যবহার করছে, নারীদের অধিকারকে পদদলিত করছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। নোয়াখালীর মাঠে জামায়াতের নারী কর্মীরা যখন বলছে তাদের দলকে ভোট দিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, তখন তারা আসলে ধর্মকে অপমান করছে। ইসলাম কখনো শেখায়নি যে কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে। ইসলাম শেখায় ন্যায়বিচার, সততা, মানবতা। কিন্তু জামায়াত এসব শিক্ষার ধার ধারে না, তারা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। বিএনপির নেতা যখন বলছেন স্ত্রী স্বামীর আদেশ না মানলে জাহান্নামে যাবে, তখন তিনি নারীদের অপমান করছেন, ইসলামকে অপমান করছেন। ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে, অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এই তথাকথিত নেতারা নারীকে দেখছে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে, যার কোনো স্বাধীন চিন্তা করার ক্ষমতা নেই। যে সামরিক বাহিনী জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে নীরব ভূমিকা পালন করেছিল, তারা এখন এই প্রহসনের তত্ত্বাবধায়ক। তারা দেখছে কীভাবে ধর্মকে অপব্যবহার করা হচ্ছে, কীভাবে নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, কিন্তু তারা নীরব। এটা কি তাদের দায়িত্ব ছিল না যে তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে? তারা কি দেখছে না যে এই নির্বাচন একটি প্রহসন মাত্র? বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এই পুরো অভিযানের উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া। যে দেশ একসময় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়েছিল, সেই দেশকে আবার পিছিয়ে দেওয়া। যে দেশের মানুষ একসময় অর্থনৈতিক প্রগতির স্বপ্ন দেখত, তাদের আবার দারিদ্র্যে ঠেলে দেওয়া। নোয়াখালীর সেই ৭৫ বছরের আফরোজা বেগমের কথা মনে পড়ে। তিনি বলছিলেন তিনি বুঝতে পারছেন না গণভোটে কী করতে হবে। এটাই হলো এই প্রহসনের আসল চিত্র। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত, তারা বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে। একদিকে তাদের বলা হচ্ছে জান্নাত-জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে, অন্যদিকে তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো থেকে যাচ্ছে অমীমাংসিত। এই নির্বাচন যদি সত্যিই গ্রহণযোগ্য হতো, তাহলে সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হতো। নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতো। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো না। কিন্তু এসবের কিছুই হচ্ছে না, কারণ এটা কোনো সত্যিকারের নির্বাচন নয়, এটা একটি সুপরিকল্পিত নাটক যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জনগণকে ধোঁকা দেওয়া।
তাদের দলকে ভোট দিলে আখিরাতে পুরস্কার মিলবে। অন্যদিকে বিএনপির এক নেতা নির্লজ্জভাবে বলছেন যে স্ত্রীরা স্বামীর আদেশ মানতে বাধ্য, নইলে জাহান্নামে যেতে হবে। এই হলো তাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা, এই হলো নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পেছনে যে শক্তিগুলো কাজ করেছে, তারা এখন তাদের আসল রূপ প্রকাশ করছে। সুদী মহাজন ইউনুস এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতায় আসা যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি সংগঠন জামায়াত আর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের আখড়া বিএনপি মিলে এখন একটি প্রহসনের আয়োজন করেছে যার নাম দিয়েছে নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা কেমন নির্বাচন যেখানে
দেশের প্রধানতম দলটিই অনুপস্থিত? নোয়াখালীর মাঠে যা ঘটছে তা সারাদেশের চিত্র মাত্র। জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিমের নামে ধর্মীয় আলোচনার আড়ালে মাসের পর মাস ধরে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা নারীদের বিকাশ নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে, যদিও এখন তা অস্বীকার করছে। আর এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তাদের দলকে ভোট দিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, আখিরাতে পুরস্কার মিলবে। এটা কি ধর্মের অপব্যবহার নয়? এটা কি নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন নয়? বিএনপির চিত্র আরও ভয়াবহ। তাদের এক স্থানীয় নেতা নির্দ্বিধায় বলছেন যে স্ত্রী স্বামীর নির্দেশ অমান্য করলে জাহান্নামি হবে, তাই তার স্ত্রী তার পছন্দের দলকেই ভোট দেবে। এই মানসিকতা
কোন শতাব্দীর? এরা কি মনে করে নারীরা স্বাধীন মানুষ নয়? তাদের কি নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা নেই? তারা কি জানে না যে ভোট দেওয়ার অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার, যেখানে কেউ কারো ওপর জোর খাটাতে পারে না? বিএনপির নারী কর্মীরা প্রচারণায় গিয়ে নারীদের কাছে থেকে ধানের শীষকে ভোট দেওয়ার ওয়াদা নিচ্ছে, যেন ভোট একটি ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি। এটাও ধর্মের চরম অপব্যবহার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে সামরিক বাহিনী জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নীরব সমর্থন দিয়েছিল, তারা এখন এই প্রহসনকে তত্ত্বাবধান করছে। যে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলো রাজপথে তাণ্ডব চালিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল, তারা এখন নির্বাচনের প্রার্থী। যে বিদেশি শক্তিগুলো এই অভ্যুত্থানে অর্থ জোগান দিয়েছিল, তারা এখন
এই প্রহসনকে গণতন্ত্র হিসেবে বিক্রি করার চেষ্টা করছে। নোয়াখালীর মাঠে নারী ভোটারদের সাথে কথা বললে বোঝা যায় তারা কতটা বিভ্রান্ত। ৭৫ বছরের আফরোজা বেগম বলছেন তিনি বুঝতে পারছেন না গণভোটে হ্যাঁ না না কী দিতে হবে। শাহিদা আক্তার চান রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, লাইলী বেগম চান নিরাপত্তা। কিন্তু তাদের কাছে যারা ভোট চাইতে আসছে তারা এসব বাস্তব সমস্যার কথা বলছে না, বলছে জান্নাত-জাহান্নামের কথা। এটাই হলো জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির মূল চরিত্র। যে দেশে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছেন, যে দেশে শেখ হাসিনা নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অভূতপূর্ব সাফল্য এনেছিলেন, সেই দেশে এখন নারীদের বলা হচ্ছে তারা স্বামীর নির্দেশ মানতে বাধ্য।
যে দেশ একসময় প্রগতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই দেশকে এখন টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মধ্যযুগে। জামায়াত এবং বিএনপি দুটোই জানে যে তাদের রাজনীতির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাদের কাছে নেই উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা, নেই দেশের অগ্রগতির কোনো রূপরেখা। তাই তারা আশ্রয় নিয়েছে ধর্মের। তারা জানে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাই ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে বাংলাদেশের মানুষ বুদ্ধিমান, তারা বুঝতে পারে কে সত্যিকারের ধার্মিক আর কে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের আরেকটি বড় সমস্যা হলো এতে দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। যে দল দেশ স্বাধীন
করেছে, যে দল দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এটা কি গণতন্ত্র নাকি প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রেখে একতরফা খেলা? জামায়াতে ইসলামী, যে সংগঠন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে দাঁড়িয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, সেই সংগঠনকে এখন নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে যে সরকার দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই সরকারকে উৎখাত করে এখন যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এটা দেশের সাথে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে, শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা নয় কি? বিএনপি, যে দল দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিল, যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশে বোমাবাজি ও জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল, তারা এখন আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তারা জানে সৎভাবে তারা কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তাই তারা ধর্মকে ব্যবহার করছে, নারীদের অধিকারকে পদদলিত করছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। নোয়াখালীর মাঠে জামায়াতের নারী কর্মীরা যখন বলছে তাদের দলকে ভোট দিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, তখন তারা আসলে ধর্মকে অপমান করছে। ইসলাম কখনো শেখায়নি যে কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে। ইসলাম শেখায় ন্যায়বিচার, সততা, মানবতা। কিন্তু জামায়াত এসব শিক্ষার ধার ধারে না, তারা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। বিএনপির নেতা যখন বলছেন স্ত্রী স্বামীর আদেশ না মানলে জাহান্নামে যাবে, তখন তিনি নারীদের অপমান করছেন, ইসলামকে অপমান করছেন। ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে, অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এই তথাকথিত নেতারা নারীকে দেখছে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে, যার কোনো স্বাধীন চিন্তা করার ক্ষমতা নেই। যে সামরিক বাহিনী জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে নীরব ভূমিকা পালন করেছিল, তারা এখন এই প্রহসনের তত্ত্বাবধায়ক। তারা দেখছে কীভাবে ধর্মকে অপব্যবহার করা হচ্ছে, কীভাবে নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, কিন্তু তারা নীরব। এটা কি তাদের দায়িত্ব ছিল না যে তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে? তারা কি দেখছে না যে এই নির্বাচন একটি প্রহসন মাত্র? বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এই পুরো অভিযানের উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া। যে দেশ একসময় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়েছিল, সেই দেশকে আবার পিছিয়ে দেওয়া। যে দেশের মানুষ একসময় অর্থনৈতিক প্রগতির স্বপ্ন দেখত, তাদের আবার দারিদ্র্যে ঠেলে দেওয়া। নোয়াখালীর সেই ৭৫ বছরের আফরোজা বেগমের কথা মনে পড়ে। তিনি বলছিলেন তিনি বুঝতে পারছেন না গণভোটে কী করতে হবে। এটাই হলো এই প্রহসনের আসল চিত্র। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত, তারা বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে। একদিকে তাদের বলা হচ্ছে জান্নাত-জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে, অন্যদিকে তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো থেকে যাচ্ছে অমীমাংসিত। এই নির্বাচন যদি সত্যিই গ্রহণযোগ্য হতো, তাহলে সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হতো। নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হতো। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো না। কিন্তু এসবের কিছুই হচ্ছে না, কারণ এটা কোনো সত্যিকারের নির্বাচন নয়, এটা একটি সুপরিকল্পিত নাটক যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জনগণকে ধোঁকা দেওয়া।



