দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থাপনা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ June, ২০২৫

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থাপনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ June, ২০২৫ |
ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা যেন পরিণত হয়েছে এক নিস্তরঙ্গ শহরে। উৎসবের আবহে অধিকাংশ নগরবাসী ছুটে গেছেন আপন ঠিকানায়—গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ উদযাপন করতে। এই ফাঁকা শহরে থেকে যাওয়া মানুষরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুঁজে নিচ্ছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস, ছুটছেন নগরীর ঐতিহাসিক ও বিনোদনপ্রিয় স্থাপনাগুলোতে। দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢাকার নানান দর্শনীয় স্থান। এরই মাঝে ঈদের আনন্দে অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে ইতিহাসবিদ্ধ মোগল আমলের স্থাপত্য লালবাগ কেল্লা। রোববার ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত লালবাগ কেল্লার আনাচে-কানাচে দেখা গেছে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের ভিড়। নানা বয়সি নারী-পুরুষ ও শিশুরা পরিবারসহ ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে। কেউ কেউ ইতিহাসের গন্ধ নিতে, কেউবা ঈদের

আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছেন এই কেল্লায়। সরজমিনে দেখা যায়, ঈদুল আজহার ছুটির এই দিনে লালবাগ কেল্লা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ—বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, পরিবার নিয়ে আসা অভিভাবক, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা—ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ভিড় করছেন। কেউ এসেছেন ইতিহাসের টানে, কেউ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে, আবার কেউ এসেছেন নিছক ঘোরার উদ্দেশ্যে। কেল্লার চত্বরে শিশুদের ছুটোছুটি, পরিবারের পিকনিক আয়োজন, তরুণদের ফটোসেশন আর প্রবীণদের স্মৃতিচারণ মিলেমিশে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, বিদেশি দর্শনার্থীরাও এসেছেন লালবাগ কেল্লার ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য নিজ চোখে দেখতে, মোবাইল

বা গাইডবুকের সাহায্যে খুঁটিনাটি তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তারা। ধানমন্ডি থেকে ঘুরতে আসা মো. বিল্লাল বলেন, প্রতি বছরই ঈদের সময় ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরতে যাই। এবার ঠিক করলাম লালবাগ কেল্লা ঘুরে দেখি। ঢাকা শহরে ঘোরার জায়গা কম, কিন্তু এখানে এসে মনে হলো পরিবেশটা সুন্দর। কাঁঠালবাগান থেকে আসা মোস্তফা কামাল রাব্বি তার স্ত্রী তামান্নাকে নিয়ে এসেছেন লালবাগ কেল্লা ঘুরতে। রাব্বি জানান, স্ত্রীর অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে আসার। অবশেষে আজ তা পূরণ হলো। তামান্না বলেন, শৈশবে বইয়ে পড়েছিলাম লালবাগ কেল্লা অনেক সুন্দর। এবার এসে বাস্তবে দেখে ভালো লাগছে, যদিও রোদ একটু বেশি, তবুও মজা পাচ্ছি। ঝিনাইদহের এক পরিবার ঢাকা শহরের নবাবগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন।

ঈদের ছুটিতে দুই পরিবারের আটজন সদস্য মিলে এসেছেন লালবাগ কেল্লায়। ঘুরে তারা জানালেন, এটি ঈদের দিন কাটানোর এক দারুণ জায়গা। মোহাম্মদপুর থেকে খন্দকার আহমেদ ইমতিয়াজও এসেছেন পরিবার নিয়ে। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় লালবাগ কেল্লা সম্পর্কে প্রশ্ন পেয়ে আগ্রহ দেখায়। তাই ঈদে ঘুরতে চলে এসেছি। পরিবেশ সুন্দর, তবে দর্শনার্থীদের ফেলানো ময়লার কারণে কিছুটা অস্বস্তিকর লাগে। যদি সবাই ময়লা ডাস্টবিনে ফেলত, তাহলে সৌন্দর্য আরও বাড়ত। বেইলিরোড সিদ্ধেশ্বরী থেকে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসলাম শেখ তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে এসেছেন কেল্লা দেখতে। ঢাকায় ১০ বছর থাকার পর এবারই প্রথম এসেছেন এখানে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে জায়গাটা দারুণ। তবে জাদুঘরের ভেতরে যেসব নিদর্শন রয়েছে, সেগুলোর

পাশে পরিচিতিমূলক বোর্ড বা লেখা থাকলেও কিছুই বোঝা যায় না। শিশু-কিশোরদের শেখার জন্য এটা দরকার। তাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আরও যত্নবান হওয়া উচিত। হাজারীবাগের বাসিন্দা গোলাম রহমান জানান, লালবাগ কেল্লা এক সময় পুরান ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ছিল। এটি একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক দুর্গ ও জাদুঘর, যেখানে আগে প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসতো। কিন্তু বর্তমানে এটি অবহেলা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে আগের মতো দর্শনার্থী টানতে পারছে না। তারপরও ঈদের মতো উৎসবের দিনে একটু প্রশান্তি পেতে এখনো অনেকেই এখানে আসেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রজন্ম যেখানে পার্ক ও শপিং মলে বেশি আগ্রহী, সেখানে লালবাগ কেল্লার ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার মতো অনেক কিছুই রয়েছে, যা জানা ও

সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লালবাগ দুর্গ জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. তানজিলুর রহমান জানান, গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের ঈদুল আজহার প্রথম দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিনে তা অনেক বেড়েছে। কর্মচারীদের ছুটি থাকা সত্ত্বেও আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা জাদুঘর খোলা রেখেছি। ঈদের ছুটির পুরো সপ্তাহজুড়েই একইভাবে খোলা থাকবে। তিনি আরও জানান, প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ৪০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত ও বে অব বেঙ্গল সদস্যদের জন্য ২০০ টাকা। এছাড়াও ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নগরজীবনের ক্লান্তির মাঝে

খানিকটা অবকাশ পেতে লালবাগ কেল্লা এখন ঢাকাবাসীর এক জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তবে পরিচ্ছন্নতা ও তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এর আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রীলঙ্কার কোচের হুমকি, ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স কুমিল্লা ইলিশবাহী পিকআপে ডাকাতির পর ১৯ আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া নিয়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাবের উদ্বেগ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার