তহবিল ফাঁকা: দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ জুলাই ফাউন্ডেশনের, মিলছে না সরকারি সহায়তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ জুন, ২০২৬

তহবিল ফাঁকা: দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ জুলাই ফাউন্ডেশনের, মিলছে না সরকারি সহায়তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ জুন, ২০২৬ |
অর্থসংকটের কারণে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী টানা দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল থেকে সর্বশেষ গত মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে নিয়মিত অর্থায়ন না আসায় বেতন-ভাতা পরিশোধে

সংকট দেখা দেয়। জুলাই ফাউন্ডেশনের ভেতরে ‘আয়নাঘর’ বানিয়ে নির্যাতন: স্বীকারোক্তি ভুক্তভোগী জুলাইযোদ্ধার টাকা দেওয়ার নামে বারবার ঘোরানো, জুলাই ফাউন্ডেশনে তালা দিয়ে আহতদের তাণ্ডব-ভাঙচুর! জুলাই দাঙ্গায় হতাহতদের নামে শত কোটি টাকার অনুদান তুলে এখন বেতন দিতেই হিমশিম ফাউন্ডেশন ঈদুল আযহা সামনে রেখে কর্মীদের দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর। তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে, বিশেষ করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া পেনশনের অর্থ থেকে, এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা সুদবিহীন ঋণ হিসেবে ফাউন্ডেশনকে প্রদান করেন। এর ফলে এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ সম্ভব হলেও মার্চ ও মে মাসের বেতন এখনো বকেয়া রয়েছে। কামাল আকবর বলেন, “এখানে যারা কাজ করছেন তাদেরও পরিবার আছে।

তারা ঈদে বাড়ি যাবে; কিন্তু বেতন পায়নি। মানবিক দিক বিবেচনায় আমার পেনশন থেকে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা ধার হিসেবে দিয়েছি। তার পরও তাদের ঈদের বোনাস দিতে পারিনি।” সরকারবিরোধী দাঙ্গায় অংশ নিয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের সহায়তায় ২০২৪ এর ১০ই আগস্ট যাত্রা শুরু করে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন। কথিত ৮৩৪ জন নিহতের পরিবার ও আহত ১৪ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধার সহায়তায় ৩৩৭ কোটি টাকার তহবিল নির্ধারণ করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, যাত্রা শুরুর সময় তারা হাতে পায় ১০০ কোটি টাকা। এরপর আর টাকা ছাড় করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এতে বছর না ঘুরতেই আর্থিক সংকটে পড়ে ফাউন্ডেশন, সেই থেকে ধুঁকে ধুঁকে চলছে সংস্থাটি। রাজধানীর শাহবাগে ২,৪০০

বর্গফুটের অফিসের মাসিক ভাড়া ১.৫ লাখ টাকা, সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহন ও আসবাব কেনা—সব মিলিয়ে ফাউন্ডেশন কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ২০২৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ইউনূস নিজ হাতে ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকার অনুদান দেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী আরও ৫ কোটি টাকা দেন। ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া অনুদানসহ তহবিল বেড়ে দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকায়। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে—যার বড় অংশ গিয়েছে আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে। বর্তমানে যা অবশিষ্ট, তা দিয়ে বেতন দেওয়ার সুযোগ নেই। কামাল আকবর বলেন, ২০২৪ সালের পর আর টাকা দেওয়া

হয়নি। ১৫ বার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি, পত্র লিখেছি, সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু তা পাইনি। জুলাই ফাউন্ডেশনের তথ্য, আহতের মধ্যে এখনো আর্থিক সুবিধা পায়নি ৮ হাজারের বেশি যোদ্ধা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিক আবেদনেও প্রতিশ্রুত তহবিলের বাকি ২৩৭ কোটি টাকা মিলেনি এখনো। তবে এর আগে জুলাইয়ের আহতদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। টাকা দেওয়ার নাম করে বারবার ঘোরানো, টাকার ‘বখরা’ চাওয়া, টাকা নিয়ে চাপাচাপি করলে ধরে নিয়ে ফাউন্ডেশনের ভেতরে তৈরি ‘আয়নাঘর’-এ আটকে নির্যাতনের মত ঘটনাও ঘটেছে। এসবের জের ধরে ফাউন্ডেশনের কার্যালয় ভাঙচুর আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে গত বছরের জুলাইতে। অর্থসংকটে নিহত পরিবারের সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলেও ইউনূস সরকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে বিপুল অপব্যয় ঘটিয়েছেন। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, এমনকি

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ৪৬ কোটি টাকায় নতুন স্থাপনা হচ্ছে। গণভবনকে ‘জুলাই জাদুঘর’ করার কাজেও ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি টাকা—তা-ও সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে। এই ব্যয় নিয়ে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে নিহত পরিবার ও আহতরা সহায়তার জন্য দফায় দফায় ঘুরছেন, সেখানে স্মৃতিস্তম্ভে এমন অপচয় কেন? নিহত সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ বলেন, “যারা নিহতের প্রতি সম্মান দেখাতে চান, তারা স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াও তা দেবেন। কিন্তু যারা জীবিত আহত, তারা এখনো চিকিৎসার জন্য ঘুরছেন—এটাই লজ্জার।” এদিকে, প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিতে সরকারের সুদৃষ্টি চাইছেন জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলো। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বৈছা নেত্রী দিলশাদ গ্রেপ্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ: জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে সরে দাঁড়ালেন

সারজিস আন্দোলন সফল, নির্বাচনও শেষ: জুলাইযোদ্ধা নিহত-আহতদের পরিবারের খোঁজ নেয়না এখন আর কেউ ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর বড় আকারের নতুন কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান না আসায় চলতি বছরের শুরু থেকেই তহবিলে চাপ তৈরি হতে থাকে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান বলেন, “ফাউন্ডেশন বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যারা কর্মচারী আছে, তাদের বেতন দিতে পারছি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। জুলাইর ভুয়া আহত সেজে সুবিধা আদায়ের অনেক ঘটনা সামনে এসেছে তার ভাষ্য, “মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ বসে আছেন, যিনি ফাউন্ডেশনকে ভাঙতে চান। আমরা টাকার জন্য সব জায়গায় গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছি। সরকারের কোনো আন্তরিকতা দেখতে পাইনি।” সামসি আরা জামান দাবি করেন, ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও সফল হননি। তিনি বলেন, “আমাদের দেখা করার কথা বলে ১৮ই মে সময় দিলেন না। ১৯ তারিখে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম। কিন্তু তিনি বললেন, দেখা করতে পারবেন না, ঈদের পর দেখা করবেন। আমি একজন অভিভাবক হিসেবে ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার দলীয় লোকজন ঢুকছিল; কিন্তু আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তিনি জানান, পরে তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামসি আরা জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে তহবিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তার এখতিয়ারের মধ্যে নয়। তিনি বলেন, “এরপর আমরা ইশরাক সাহেবের কাছে গেলে তিনি অনেক সময় দিলেন। কিন্তু আন্তরিকভাবে বললেন যে, তহবিলের বিষয়টি তার হাতে নেই। আমরা স্পিকারের কাছেও আহ্বান জানিয়েছিলাম যাতে তিনি সংসদে আমাদের ফাউন্ডেশনের জন্য বরাদ্দের বিষয়টি উত্থাপন করেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।” একই অভিযোগ করেন সিইও কামাল আকবরও। তিনি বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের শিডিউল দিয়েও দেখা করেননি। বসিয়ে রেখে পরে বললেন, ঈদের পর। বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন দেখি সেখান থেকে কী রেসপন্স আসে।” কামাল আকবর আরও বলেন, “এক অর্থবছরের বাজেট দিয়ে আমরা দুই অর্থবছর চালিয়েছি। আরো একটা অর্থবছর চলে এসেছে; কিন্তু আমাদের বাজেট দেওয়া হচ্ছে না।” ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান সংকট শুধু আর্থিক নয়; দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মপরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সামসি আরা জামান বলেন, “বেতন না পাওয়ায় অফিসের ভেতরেও অনেক ধরনের পলিটিক্স শুরু হয়েছে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি, জুলাই ফাউন্ডেশনকে ভেঙে দেওয়া মানে জুলাই বিপ্লবকেই ভেঙে দেওয়া। আমরা যে সেবা দিচ্ছি, তা সরকারের অন্য কোনো জায়গা থেকে দেওয়া সম্ভব নয়।” অর্থসংকট, বকেয়া বেতন এবং নতুন অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মধ্যে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য গঠিত প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে কি না, নাকি নতুন সরকারি সহায়তার মাধ্যমে আবারও কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে—সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয়