ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ
দেশে আজ সোনার ভরি কত
৮০% পর্যন্ত বিশাল ছাড়ে শুরু হলো ‘দারাজ বৈশাখী মেলা’
দেশে জ্বালানি মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন
ঢাকায় পরীক্ষামূলক ফুয়েল পাস চালু, যেভাবে নিবন্ধন করবেন
হরমুজ পার হতে প্রতি ব্যারেল তেলে ইরান নেবে ১ ডলার, পেমেন্ট ইউয়ান বা ক্রিপ্টোতে
সোনার দামে বড় পতন
ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মামুনুর রশীদ। তাঁর মতে, চলমান সংকটের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হলো জ্বালানি স্বল্পতা, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে এই সংকটের পেছনে আরও একাধিক কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে, যেগুলো নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম।
ড. রশীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে আমানত বৃদ্ধি পেলেও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে তিনি অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন, কারণ ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ বাস্তবে উৎপাদন বা ঋণ খাতে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা
যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নতুন বিনিয়োগের তুলনায় বেশি মানুষ সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলছেন, যার পরিমাণ প্রায় ১,৮৫১ কোটি টাকা। এটি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন তিনি। ব্যাংকিং খাতের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩-৩৫ শতাংশ। ড. রশীদের মতে, এটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। তাঁর ভাষ্য, দেশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংক ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকিগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৫.৫ থেকে ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেখানে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণে প্রবৃদ্ধি ২.৫ থেকে
২.৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিক শেষে প্রবৃদ্ধি ৩.০৩ শতাংশে নেমে আসায় তার এই আশঙ্কা আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে। এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক পতন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়া পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। কৃষিখাতেও সংকট স্পষ্ট। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি সার সংকট ভবিষ্যৎ উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ড. রশীদ। তাঁর মতে, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে
এবং রাজস্ব ঘাটতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ড. মামুনুর রশীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। বরং বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি, ব্যাংকিং, কৃষি ও রাজস্ব—এই চারটি খাতে সমন্বিত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নতুন বিনিয়োগের তুলনায় বেশি মানুষ সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলছেন, যার পরিমাণ প্রায় ১,৮৫১ কোটি টাকা। এটি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন তিনি। ব্যাংকিং খাতের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩-৩৫ শতাংশ। ড. রশীদের মতে, এটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। তাঁর ভাষ্য, দেশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংক ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকিগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৫.৫ থেকে ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেখানে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণে প্রবৃদ্ধি ২.৫ থেকে
২.৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিক শেষে প্রবৃদ্ধি ৩.০৩ শতাংশে নেমে আসায় তার এই আশঙ্কা আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে। এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক পতন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়া পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। কৃষিখাতেও সংকট স্পষ্ট। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি সার সংকট ভবিষ্যৎ উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ড. রশীদ। তাঁর মতে, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে
এবং রাজস্ব ঘাটতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ড. মামুনুর রশীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। বরং বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি, ব্যাংকিং, কৃষি ও রাজস্ব—এই চারটি খাতে সমন্বিত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।



