ট্রাম্প বনাম ইরান: যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে হাঁটবে? এক গভীর সংকট, তিনটি বিপজ্জনক বিকল্প এবং বৈশ্বিক পরিণতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ট্রাম্প বনাম ইরান: যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে হাঁটবে? এক গভীর সংকট, তিনটি বিপজ্জনক বিকল্প এবং বৈশ্বিক পরিণতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:৩৯ 72 ভিউ
ইরান আজ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৫ সালের শেষার্ধে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ এখন প্রায় পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি অর্থনৈতিক ধস, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের রেকর্ড দরপতন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া এই অসন্তোষ দ্রুত ইসফাহান, শিরাজসহ বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। কিন্তু ধীরে ধীরে এই দাবিগুলো রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক সংস্কার এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদে। ২০২৫ সালে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে। এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর প্রায় ১.৪ মিলিয়নে

পৌঁছায়, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের নেপথ্য: নিষেধাজ্ঞা থেকে খাদ্য নিরাপত্তা ইরানের বর্তমান সংকটের শিকড় বহু বছর আগেই গাঁথা। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে সরে যাওয়ার পর তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রভাব। এই সংঘাতে সরাসরি সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিতে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যায় এবং মুদ্রা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সংকট কেবল নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পানির তীব্র সংকট, জলাভূমির শুকিয়ে যাওয়া, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং

সরকারি-বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের অভাব জনগণের ক্ষোভ আরও তীব্র করেছে। দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার সংকট বিক্ষোভ চরমে পৌঁছানোর পর ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দমন-পীড়ন ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের মধ্যে অন্যতম কঠোর। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকার রেল, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে সংবাদপ্রবাহ সীমিত রাখার চেষ্টা করছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান সরকার ৮০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যদিও এই সিদ্ধান্তও বিশ্বব্যাপী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: হুমকি আছে, সিদ্ধান্ত নেই এই অগ্নিগর্ভ

পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, “সব বিকল্প টেবিলে আছে।” জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কও করা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, বড় ধরনের সামরিক অভিযান নিলে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমনকি এতে সরকারের পতনও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারণ বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের হামলা ইরানী জনগণের সমর্থন অর্জন করবে না, বরং উল্টো জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে পারে। তিনটি বিপজ্জনক বিকল্প বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তিনটি প্রধান পথ রয়েছে— ১. সীমিত প্রতীকী হামলা: এতে শক্তি প্রদর্শন সম্ভব হলেও ইরানের পাল্টা হামলার

ঝুঁকি বাড়বে। ২. শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা: এতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা চরমপন্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ৩. পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ: এটি পুরো অঞ্চলকে সংঘাতের আগুনে ঠেলে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা আনবে। এই তিনটি পথের কোনোটিই নিরাপদ নয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য ইতোমধ্যেই নড়বড়ে। তুরস্ক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং আলোচনাকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখছে। পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন ইরানের প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল। ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ইরান সংকট কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি জটিল অধ্যায়। অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক দমন এবং বৈশ্বিক কূটনীতি—সব

মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বিস্ফোরক। ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি ও নীরবতার দ্বন্দ্বই প্রমাণ করে, এই সংকটে কোনো সহজ পথ নেই। একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। এই প্রশ্ন তাই থেকেই যায়— যুক্তরাষ্ট্র কি ঝুঁকি নেবে, নাকি ইতিহাসের ভার নিজের কাঁধে নিতে ভয় পাবে?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রক্তঝরা ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বৈধতা পেতে শর্ত, ইউনুসের দেশবিরোধী চুক্তি বাস্তবায়ন আবার শুরু হলো বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক কর্মসূচি-চাঁদাবাজি! যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না হলফনামায় ২ কোটি থাকলেও এক হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান! ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ভাষা আন্দোলন ছিল না ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার? ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি শেখ মুজিবঃ ছাত্রনেতা থেকে জননেতা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ বায়ান্নর বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম – শেখ মুজিবের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘জামায়াতের হাত থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ’: সাংবাদিক নুরুল কবির হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের নামে আলী রীয়াজের বিরুদ্ধে ২৩০০ কোটি টাকা লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগ ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা সরকারের ‘কম্প্রোমাইজ’, থাকতে পারে আমেরিকার চাপ: সাংবাদিক মাহবুব কামাল