জ্বালানী নিরাপত্তাঃ শেখ হাসিনার এনার্জি ডিপ্লোম্যাসি বনাম ইউনুস-তারেকের উচ্চমূল্যের বিদেশী স্বার্থরক্ষা চুক্তি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানী নিরাপত্তাঃ শেখ হাসিনার এনার্জি ডিপ্লোম্যাসি বনাম ইউনুস-তারেকের উচ্চমূল্যের বিদেশী স্বার্থরক্ষা চুক্তি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ |
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এনার্জি ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বাংলাদেশ যে জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, পরবর্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং বিএনপির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাবের সময় সেই কৌশল কেন ধরে রাখা যায়নি — এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব এলএনজি বাজার চরম অস্থির হয়ে পড়ে। দাম হঠাৎ করে ৬০-৭০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায় এবং সরবরাহ অনিশ্চিত হয়। এমন সংকটময় সময়ে শেখ হাসিনা সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে। ২০২৩ সালের ২৪ মে দোহায় Qatar Economic Forum-এর সাইডলাইনে শেখ হাসিনা কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা

করেন। ফলস্বরূপ, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১ জুন ২০২৩ সালে QatarEnergy-এর সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য: প্রতি বছর প্রায় ১.৮ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী — প্রায় ৯ থেকে ১১ ডলার প্রতি এমএমবিটিউ (Brent crude-এর সাথে লিঙ্কড) এটি ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় একটি কৌশলগত সাফল্য। শেখ হাসিনা বন্ধুপ্রতিম দেশ কাতারের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ব্যবহার করে স্পট মার্কেটের উচ্চমূল্য থেকে দেশকে রক্ষা করেছিলেন। ২০১৭ সালেও অনুরূপ একটি চুক্তি করে তিনি কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক মজবুত করেন। ইউনূস ও তারেক রহমান কেন পারলেন না ? ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি

খাতে ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Excelerate Energy-থেকে উচ্চমূলে এলএনজি ক্রয়আদেশ পান ড ইউনুসের প্রিয়পাত্র ও বন্ধু পিটার হাস। একই সঙ্গে ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১৫ বছর মেয়াদি এলএনজি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত করে যান। এই সকল চুক্তির প্রতিটা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট ২.৫ ডলার অতিরিক্ত মূল্যে এলএনজি ক্রয় করে এবং ভবিষ্যতেও করার ব্যাপারে সন্মত হয়। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রধান শর্তসমূহ: মোট আনুমানিক মূল্য: ১৫ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর ০.৮৫ থেকে ১.০ মিলিয়ন টন এলএনজি নির্ধারিত দাম: ১৫.৬৯ ডলার প্রতি এমএমবিটিউ কাতার চুক্তির তুলনায় এই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সমালোচকরা বলছেন, শেখ হাসিনা যেখানে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছিলেন,

সেখানে বর্তমান আমলে কেন উচ্চমূল্যের চুক্তির দিকে ঝুঁকতে হলো? এখানে কার স্বার্থ রক্ষা হয়েছে? আর যার স্বার্থই রক্ষা হোক, বাংলাদেশের স্বার্থ যে নয় সেটা, তা চুক্তিগুলোর ধরনেই পরিষ্কার। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ নতুন করে গভীর জ্বালানি সংকটে পড়েছে। নতুন গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার আড়াই মাস পার হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।ইরানের ওপর হামলার পর কাতারের রাস লাফানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কাতার এনার্জিসহ বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী force majeure ঘোষণা করে চুক্তি স্থগিত করে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত

১১৫টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে প্রায় ৪০টি ঝুঁকিতে পড়েছে। দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে নেমে এসেছে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাচ্ছে, লোডশেডিং বাড়ছে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিএনপি সরকার তড়িঘড়ি করে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনছে। একই সঙ্গে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Excelerate Energy-থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসা এলএনজি দিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকার দৃশ্যত স্বাশ্রয়ী জ্বালানী নিরাপত্তায় কোন কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারেন নাই। প্রশ্ন উঠেছে — কেন ইউনুস সরকার এবং তারেক রহমানের প্রভাবে পরিচালিত নীতি শেখ হাসিনার মতো সক্রিয় এনার্জি ডিপ্লোম্যাসি দেখাতে ব্যর্থ

হয়েছে? কেন কাতারের মতো সাশ্রয়ী উৎসকে আরও প্রাধান্য দেওয়া হয়নি? বিশ্লেষকদের মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে, বিদ্যুতের দাম চাপে পড়বে এবং জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপবে। শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সংকটের সময়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব কেন সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছে না — এটি এখন জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এনার্জি ডিপ্লোম্যাসিতে স্বার্থপরতা এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ