ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরলো জামায়াতপন্থী লে. জেনারেলসহ শীর্ষ ৬ কর্মকর্তা
গণভোটে অতিরিক্ত দেখানো ৯ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দিল নির্বাচন কমিশন
পুলিশে শিগগিরই বিশাল নিয়োগ: ১০ হাজার কনস্টেবল, শূন্যপদে ১৮০ সার্জেন্ট
অনলাইন পোর্টাল ও আইপি টিভি নীতিমালার আওতায় আনা হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলকে বাধা এবং রাজাকারের নামে স্লোগান ইতিহাসকে বদলে দেবার চক্রান্ত!
একুশ মানে দৃঢ় সংকল্প। একুশ মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা
জুলাই বিক্ষোভে নির্মমভাবে পুলিশ হত্যা: দাবি আদায়ের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে পঙ্গু করার জঙ্গি পরিকল্পনা?
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ১৯শে জুলাই রায়েরবাগে পুলিশ সদস্য নায়েক গিয়াস উদ্দিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং সারাদেশে পুলিশের উপর একাধিক হামলা দেখিয়ে দেয় যে, আন্দোলনের শুরু থেকেই এটি শুধুমাত্র ছাত্রদের দাবি-আদায়ের আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এতে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্বল করে ক্ষমতা দখলের একটি গভীর পরিকল্পনা লুকিয়ে ছিল।
গিয়াস উদ্দিনের নৃশংস হত্যা
১৯শে জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-রায়েরবাগ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাঝে নায়েক গিয়াস উদ্দিনকে (৫৮) বর্বরোচিত ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
দীর্ঘদিন ডিউটি করেছেন। মাত্র ৭ মাস পর অবসর নেওয়ার কথা ছিল তার। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জেসমিন সুলতানা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এত নৃশংসভাবে মানুষ মানুষকে কীভাবে মারতে পারে? তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি। এলাকায় সবাই তাকে ভালোবাসত।” আন্দোলনে সহিংসতার ভয়ে গিয়াস পুলিশের পোশাক পরেননি, ব্যাগে নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু মোটরসাইকেলে ‘পুলিশ’ লেখা দেখে তাকে ধরে নির্যাতন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদা পোশাকে এক ব্যক্তিকে দেখে জামায়াত-শিবির কর্মীরা চিৎকার করে “ধর ধর” বলে ধাওয়া দেন। শত শত মানুষ তাকে মারধর করে নিস্তেজ করে ফেলেন। এরপরও থামেনি বর্বরতা—দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে ফুটওভারব্রিজের উপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তখনো তার মাথা নড়ছিল, হাত বেয়ে রক্ত ঝরছিল। এক
সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাকে মারধর করে ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। লাশ নিতে গেলে পরিবারকে অপমান করা হয়। এক বয়স্ক লোক (কাবুলি পাঞ্জাবি পরা) বলেন, “পুলিশের বংশ শেষ করে দিতে হবে। শেখ হাসিনার সহযোগীদের নির্বংশ করতে হবে।” গিয়াসের ছেলেদেরও মারার চেষ্টা করা হয়। গ্রামে যাওয়ার পথে রাস্তায় আটকানো হয়, “পুলিশ কি না” জিজ্ঞাসা করে। সন্তানরা বারবার বলেছিল, “আব্বু, আজ যেও না।” কিন্তু তিনি হাসিমুখে বলেন, “সরকারি চাকরিতে এসব হয় না। দেশের খারাপ সময়ে বসে থাকলে কখন দেশের জন্য কাজ করব?” এই দায়িত্ববোধের জন্য তিনি প্রাণ দেন। কেন পুলিশ বারবার জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু? দাঙ্গার শুরু থেকেই (জুলাইর মাঝামাঝি) যাত্রাবাড়ী থানা, এনায়েতপুর থানা সহ সারাদেশে পুলিশের উপর হামলা
শুরু হয়। এগুলো শুধু দাবি আদায়ের জন্য ছিল না। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে দুর্বল করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীতে ৩রা আগস্ট “১ দফা” দাবি পেশের অনেক আগেই এই হামলাগুলো পরিকল্পিত ছিল।পুলিশের উপর হামলার কারণ:পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; তাদের পঙ্গু করলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারায়। কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবিরের মতো সংগঠনের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। সরকারি দিক থেকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে সাবোটেজ করা হয়েছে। আন্দোলনের পর্যায়ক্রমিক বিশ্লেষণ দেখায়, প্রথমে ছাত্রদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার। কিন্তু সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি সরকারবিরোধী সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের উপর নির্মম হামলা দেখিয়ে দেয় যে, এতে শুধু
দাবি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের উদ্দেশ্য ছিল। এই ঘটনাগুলোর বিচার এখনো চলমান। গিয়াস উদ্দিনের মতো অনেক পুলিশ সদস্যের পরিবার আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। এই নৃশংসতা কোনো আন্দোলনের নামে কাম্য নয়—এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
দীর্ঘদিন ডিউটি করেছেন। মাত্র ৭ মাস পর অবসর নেওয়ার কথা ছিল তার। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জেসমিন সুলতানা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এত নৃশংসভাবে মানুষ মানুষকে কীভাবে মারতে পারে? তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি। এলাকায় সবাই তাকে ভালোবাসত।” আন্দোলনে সহিংসতার ভয়ে গিয়াস পুলিশের পোশাক পরেননি, ব্যাগে নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু মোটরসাইকেলে ‘পুলিশ’ লেখা দেখে তাকে ধরে নির্যাতন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদা পোশাকে এক ব্যক্তিকে দেখে জামায়াত-শিবির কর্মীরা চিৎকার করে “ধর ধর” বলে ধাওয়া দেন। শত শত মানুষ তাকে মারধর করে নিস্তেজ করে ফেলেন। এরপরও থামেনি বর্বরতা—দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে ফুটওভারব্রিজের উপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তখনো তার মাথা নড়ছিল, হাত বেয়ে রক্ত ঝরছিল। এক
সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাকে মারধর করে ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। লাশ নিতে গেলে পরিবারকে অপমান করা হয়। এক বয়স্ক লোক (কাবুলি পাঞ্জাবি পরা) বলেন, “পুলিশের বংশ শেষ করে দিতে হবে। শেখ হাসিনার সহযোগীদের নির্বংশ করতে হবে।” গিয়াসের ছেলেদেরও মারার চেষ্টা করা হয়। গ্রামে যাওয়ার পথে রাস্তায় আটকানো হয়, “পুলিশ কি না” জিজ্ঞাসা করে। সন্তানরা বারবার বলেছিল, “আব্বু, আজ যেও না।” কিন্তু তিনি হাসিমুখে বলেন, “সরকারি চাকরিতে এসব হয় না। দেশের খারাপ সময়ে বসে থাকলে কখন দেশের জন্য কাজ করব?” এই দায়িত্ববোধের জন্য তিনি প্রাণ দেন। কেন পুলিশ বারবার জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু? দাঙ্গার শুরু থেকেই (জুলাইর মাঝামাঝি) যাত্রাবাড়ী থানা, এনায়েতপুর থানা সহ সারাদেশে পুলিশের উপর হামলা
শুরু হয়। এগুলো শুধু দাবি আদায়ের জন্য ছিল না। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে দুর্বল করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীতে ৩রা আগস্ট “১ দফা” দাবি পেশের অনেক আগেই এই হামলাগুলো পরিকল্পিত ছিল।পুলিশের উপর হামলার কারণ:পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; তাদের পঙ্গু করলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারায়। কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবিরের মতো সংগঠনের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। সরকারি দিক থেকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে সাবোটেজ করা হয়েছে। আন্দোলনের পর্যায়ক্রমিক বিশ্লেষণ দেখায়, প্রথমে ছাত্রদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার। কিন্তু সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি সরকারবিরোধী সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের উপর নির্মম হামলা দেখিয়ে দেয় যে, এতে শুধু
দাবি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের উদ্দেশ্য ছিল। এই ঘটনাগুলোর বিচার এখনো চলমান। গিয়াস উদ্দিনের মতো অনেক পুলিশ সদস্যের পরিবার আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। এই নৃশংসতা কোনো আন্দোলনের নামে কাম্য নয়—এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।



