জাতিসংঘের মিশন হারিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির জন্য পাকিস্তানের দ্বারস্থ বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ মে, ২০২৬

জাতিসংঘের মিশন হারিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির জন্য পাকিস্তানের দ্বারস্থ বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ মে, ২০২৬ |
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফর বিনিময়, লিয়াজোঁ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন করে যোগাযোগ গড়ে তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এর মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অনুগ্রহে বাংলাদেশী সেনাদের ফরেন মিশন বা নিরাপত্তা দায়িত্ব লাভ করা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন ইউএন ইমোগ মিশনে মাত্র ১৫ জন সেনা পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিগত ৩৮ বছরে ৪০টিরও বেশি দেশে ৬৩টির অধিক মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের

প্রচ্ছন্ন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে একাধিক নিশ্চয়তা সত্ত্বেও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘের বাজেট সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বাংলাদেশী সেনাদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ফোরামের তথ্যে জানা যায়। ফলে জাতিসংঘের মিশন থেকে ফিরে আসা সেনাসদস্যদের বড় অংকের বিদেশি চাকরি হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এখন পাকিস্তানের পথ অনুসরণ করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা দায়িত্বের সন্ধানে তৎপর হয়েছে। আর সেই জন্য পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে দেনদরবারে ব্যাস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ

সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেল সম্পদ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তায় বিদেশি সেনা নিয়োগের প্রবণতা রয়েছে। এতদিন মার্কিন বাহিনীর প্রাধান্য থাকলেও সৌদি আরব ও কুয়েত এখন মার্কিন চুক্তি নবায়ন না করে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ‘কৌশলগত নিরাপত্তা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ৫০ হাজারে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান ও ভারত—দুই ফ্রন্টে উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান এত বিপুল সংখ্যক সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে পারবে না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘের হারানো মিশনের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশের জোর তদবির

চালাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘন ঘন সফর বিনিময় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই উদ্যোগ বাঙালি জাতীর আত্মসম্মান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দিক থেকে চরম লজ্জা ও অবমাননাকর বলে মনে করার ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। ১৯৭১ সালে যে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং যাদের ৯৩ হাজার পাকহানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল নতুন দেশের নবীন সেনাবাহিনীর কাছে, সেই একই শক্তির কাছে এখন চাকরি ও অনুগ্রহের জন্য আবেদন করাকে ঐতিহাসিকভাবে বেদনাদায়ক ও আত্মমর্যাদাহীন বলে সমালোচকরা অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সামরিক লিয়াজোঁ নয়, বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও

জাতীয় আত্মসম্মানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই সিদ্ধান্ত জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে কতটা ছোট করছে, তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রবাসীর স্ত্রীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র গুলিস্তান ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ লাশ: আনোয়ারায় গৃহবধূ ও জেলের রহস্যজনক মৃত্যু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে উচ্ছ্বসিত মন্তব্য জামায়াত আমিরের মাদ্রাসাছাত্রকে বছরজুড়ে শিক্ষক ও ৩ ছাত্রের ধর্ষণ: ‘ইসলামের স্বার্থে’ আপোস মীমাংসায় অভিভাবকদের সম্মতি ফুটপাতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ, বিএনপিকর্মী ল্যাংড়া খোকন পলাতক তুরাগ হত্যাকাণ্ড: বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এলো লীগ কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যার আরও বিশদ তথ্য জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয় সোনাগাজীতে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অর্ধকোটি টাকার মাছবোঝাই ট্রাক ছিনতাই ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, তিন দেশে প্রাণ গেল ৩৭০০ মানুষের বিচারকের বাড়ি থেকে ১৯ লাখ টাকার সোনাসহ মামালাল চুরি: বিএনপির ২ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোদ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ট্রাম্পের বক্তব্যজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ‘১০ ঘণ্টার অপেক্ষাও কিছু নয়’, খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে তেহরানে মানুষের ঢল