গাদ্দাফির সেই ভবিষ্যৎবাণী, লিবিয়ার স্বর্ণযুগ এবং এক করুণ ট্র্যাজেডি: ইতিহাসের পাতায় একটি রক্তাক্ত অধ্যায় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গাদ্দাফির সেই ভবিষ্যৎবাণী, লিবিয়ার স্বর্ণযুগ এবং এক করুণ ট্র্যাজেডি: ইতিহাসের পাতায় একটি রক্তাক্ত অধ্যায়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
২০০৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশন চলছে। বক্তৃতামঞ্চে উঠলেন লিবিয়ার তৎকালীন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি। নির্ধারিত ১৫ মিনিটের পরিবর্তে তিনি টানা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। জাতিসংঘের সনদ ও গাদ্দাফির হুঙ্কার সেদিন গাদ্দাফি বিশ্বনেতাদের চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, "জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বে ৬৫টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এই যুদ্ধগুলো আটকাতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এগুলোর সবকটিই ছিল একটি নির্দিষ্ট দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের) স্বার্থে।" তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে 'সন্ত্রাস পরিষদ' বলেও আখ্যায়িত করেন। ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনেই জাতিসংঘের সনদের অনুলিপি ছিঁড়ে ফেলেন

এবং ছুড়ে মারেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, পশ্চিমাদের এই আগ্রাসন একদিন নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। লিবিয়া: মরুভূমির বুকে এক টুকরো স্বর্গ গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়া ছিল আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ। সমালোচকরা তাকে স্বৈরাচারী বললেও, লিবিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিনামূল্যে সুবিধা: লিবিয়ায় বিদ্যুৎ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। চিকিৎসার জন্য লিবিয়ার নাগরিকদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হতো না; বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র তা বহন করত। আবাসন ও কৃষি: নবদম্পতিদের বাড়ি কেনার জন্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেওয়া হতো। কেউ কৃষিকাজ করতে চাইলে তাকে বিনামূল্যে জমি, বীজ ও পশুসম্পদ দেওয়া হতো। শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষা ছিল সম্পূর্ণ অবৈতনিক। সাক্ষরতার হার

২৫% থেকে বেড়ে ৮৭%-এ উন্নীত হয়েছিল। গ্রেট ম্যান-মেড রিভার: মরুভূমির বুকে বিশ্বের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তৈরি করে তিনি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছিলেন। গাদ্দাফি চেয়েছিলেন আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য 'গোল্ড দিনার' চালু করতে, যাতে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমে। এই উদ্যোগই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। ২০১১ সালের ট্র্যাজেডি ও পশ্চিমাদের উল্লাস ২০১১ সালে তথাকথিত 'আরব বসন্তের' ঢেউ এবং পশ্চিমা প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে লিবিয়ার একাংশ গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ন্যাটো বাহিনী আকাশপথে হামলা শুরু করে। যে তরুণদের জন্য তিনি সমৃদ্ধ লিবিয়া গড়েছিলেন, পশ্চিমাদের প্ররোচনায় তারাই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সিরতে শহরে ন্যাটো ও বিদ্রোহী বাহিনীর আক্রমণের মুখে গাদ্দাফি

একটি ড্রেনেজ পাইপের ভেতর আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাকে টেনে বের করে আনা হয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। যে জনতা একসময় তার নামে স্লোগান দিত, তারাই তাকে মব করে পিটিয়ে, বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং সবশেষে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর যখন ওয়াশিংটনে পৌঁছায়, তখন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন একটি টিভি সাক্ষাৎকারে ছিলেন। খবরটি শুনে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, "উই কেম, উই স, হি ডায়েড" (আমরা এলাম, আমরা দেখলাম, সে মারা গেল)। আপনার উল্লেখ্যমতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বন্ধু হিসেবে পরিচিত হিলারি ক্লিনটনের সেই উল্লাস আজও বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। লিবিয়াকে 'মুক্ত' করার নামে যে আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, তার

ফলাফল হিসেবে লিবিয়া আজ বহুধা বিভক্ত, যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং চরম অরাজকতার এক জনপদ। মৃত্যুর আগে গাদ্দাফি বলেছিলেন, "তোমরা আমাকে হত্যা করলে লিবিয়া আগুনের কুন্ডলীতে পরিণত হবে, ইউরোপে শরণার্থীর ঢল নামবে।" আজ এক দশকেরও বেশি সময় পর লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া হাজারো শরণার্থীর লাশ প্রমাণ করে—গাদ্দাফির সেই সতর্কবাণী কতটা সত্য ছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঠাকুরগাঁও বার নির্বাচনে আ’লীগ পন্থী প্রার্থীদের বড় চমক ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল: একাত্তরের এ দিনে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার চাঁদপুর ও মাদারীপুরে মিড ডে মিলের নিম্নমানের খাবারে প্রাথমিক শিশুরা অসুস্থ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাখামাখির ফল: বাংলাদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দেয়নি ইরান নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ অ্যাটলেটিকোর কাছে হারের পর উয়েফার কাছে বার্সেলোনার নালিশ গার্বেজ গিলে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের, এতে ইতিহাসের সত্য বদলায় না চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপে আন্তর্জাতিক জোটের উদ্বেগ-নিন্দা মানুষ সুখী নারীকে সহ্য করতে পারে না: হানিয়া ২ বিভাগে বৃষ্টির আভাস পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে করণীয় কী? জেনে নিন রিনিউ করার নিয়ম অনলাইনে কিভাবে টিন সার্টিফিকেট করবেন শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে সমঝোতা না হলে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প বাঁধাকপির বস্তার নিচে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৬ টন মাদক জব্দ বিয়ে করছেন টেইলর সুইফট, অনুষ্ঠান হবে নিউইয়র্কে দেশে আজ সোনার ভরি কত